October 24, 2026, 9:43 am

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত দৈনিক কুষ্টিয়া অনলাইন পোর্টাল
সংবাদ শিরোনাম :
জাহাজ কমলেও বাড়ছে পণ্য পরিবহন, পিছিয়ে কার্যকর সক্ষমতা; রেলপথের ব্যবহার, নাব্যতা ও ব্যবস্থাপনায় সমন্বিত উদ্যোগের তাগিদ কুষ্টিয়ায় সম্মিলিত সামাজিক জোটের সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত কঠোর নিরাপত্তায় রূপপুরে পৌঁছাল দ্বিতীয় ইউনিটের প্রথম ইউরেনিয়াম চালান লালনের মানবতাবাদী দর্শন ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বানে শেষ হলো তিন দিনের তিরোধান দিবসের আয়োজন অর্থ লেনদেনের কোন প্রশ্নই উঠে না, কুষ্টিয়া যুবদল সভাপতির সংবাদ সম্মেলন কুষ্টিয়াতে আওয়ামী লীগের সাবেক দুই এমপির বিরুদ্ধে দুদকের মামলা অনুমোদন খোকসায় বেকারির ওভেন বিস্ফোরণে প্রধান মিস্ত্রি নিহত, দগ্ধ ২ লালনের শিক্ষা স্কুলে পৌঁছে দিতে চান প্রধানমন্ত্রী: তথ্য উপদেষ্টা তিরোধান দিবসের ভাবগাম্ভীর্যে ছেঁউড়িয়ায় হয়েছে তিনদিনের লালন মেলা কুষ্টিয়া সরকারি কলেজে একাদশ শ্রেণির হাজার শিক্ষার্থীর নবীনবরণ

কাজ হারিয়ে মানসিক চাপে আত্মহত্যা করল শারীরিক অসুস্থ নারী

দৈনিক কুষ্টিয়া প্রতিবেদক/
কুষ্টিয়ার কুমারখালীর যদুবয়রায় জন্মগত অসুস্থ রত্না খাতুন (২৬) জীবন যুদ্ধে পরাজিত হয়ে আত্মহত্যা করেছেন। আজ সোমবার সকালে নিজ ঘর থেকে ঝুলন্ত অবস্থায় তার লাশ উদ্ধার করেন পরিবারের সদস্যরা। নিজের শারিরীক অসুস্থতার যন্ত্রণা, ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তা এবং সংসারে অভাব অনটনের কারনেই রত্না আত্মহত্যার পথ বেঁচে নিয়েছেন বলে ধারণা করেছেন পরিবারের সদস্যরা। কুমারখালী থানার ওসি তদন্ত মামুনুর রশিদ আত্বহত্যার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, রত্নার লাশ ময়না তদন্তের জন্য কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে পাঠিয়েছেন।
হাসপাতালের মর্গের সামনে কথা হয় সংগ্রামী এ নারীর চাচা আফাজ উদ্দিন এবং দাদী রাজিয়া খাতুনের সঙ্গে। তারা বলেন, রত্না খাতুনের জন্মগতভাবে প্রসাব ও মল ত্যাগ এর লাইন এক ছিলো। এ নিয়ে যন্ত্রণায় কাতর থাকতো সে। ঢাকা পিজি হাসপাতালে অপারেশন করেও ভাল হয়নি। ডাক্তার তার প্রসাবের জন্য আলাদা লাইন করে পাইপের মাথায় প্লাস্টিকের থলে লাগিয়ে দেন- বলেন অপারেশনের সময় ঢাকায় সঙ্গে যাওয়া চাচা আফাজ উদ্দিন। এই প্রসাবের লাইনের কারনে গন্ধ আসতো। মেয়েটি মানুষের মধ্যে যেতে পারতো না, মিশতে পারতো না। ঢাকায় ঔষুধের উপর নির্ভর ছিল তার জীবন। জীবনে বিয়ের কথা ভাবতেই পারেনি। সে দর্জির কাজ করে তাদের সংসার চালাতো। তারপরও মাথা উচু করেই চলতে চাইতো। পরিবারের লোকজন তাকে প্রতিবন্ধী ভাতার কার্ড করার জন্য বললেও সে রাজি হতো না- বলেন দাদী রাজিয়া খাতুন। বেঁচে থাকতে চাননি কারো সাহায্য সহায়তা। তার বয়স যখন ১৭ বছর তখন শেখেন দর্জির কাজ। বাবা এবং মায়ের সংসার এবং নিজের ওষুধের টাকা মিলিয়ে মাসে তাকে আড়াই হাজার টাকা উপার্জন করতে হতো- বলেন মেয়েটির বাবা মফিজ উদ্দিন। কিন্তু করোনাকালে কাজ কম পাওয়ায় সংগ্রামী এই নারী বেশ প্রতিকূলতায় পড়েন। টাকার অভাবে ওষুধ খেতে না পেরে বেড়ে যায় শারিরীক যন্ত্রণা। নষ্ট হতে থাকে কিডনী। কাজ জোগাড় করার জন্য চেষ্টা করেও ফল পায়নি।  এ পরিস্থিতিতে রাতের কোন এক সময়ে নিজ ঘরের আড়ার সঙ্গে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন রত্না যদুবয়বা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শরিফুল আলম বলেন, অসুস্থতার কারনে শারিরিক কষ্ট সইতে না পেরে সে আত্মহত্যা করেছে। তবে, রত্নার সরকারি ভাতার কার্র্ড প্রক্রিয়াধীন আছে বলেছেন এ জনপ্রতিনিধি। তিনি নানাভাবে এই মেয়েকে সহায়তা করার কথাও বলেন।
রত্নাকে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন মানুষ বলে পরিবারের লোকজন দাবি করলেও বিশেষ চাহিদাসম্পন্নদের নিয়ে কাজ করা কর্তব্য ভলেন্টারি অর্গানাইজেশনের সদস্য সচিব ফেরদৌসী বেগম রুবি বলেন, রত্না বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন নন, তিনি শারিরীকভাবে অসুস্থ ছিলেন।

নিউজটি শেয়ার করুন..

Comments are closed.

পুরোনো খবর এখানে,তারিখ অনুযায়ী

© All rights reserved © 2024 dainikkushtia.net
Maintenance By DainikKushtia.net