
দৈনিক কুষ্টিয়া অনলাইন/
২০২৪ সালের ঐতিহাসিক অভ্যুত্থানের সময় কুষ্টিয়া জেলা কারাগার থেকে পালিয়ে যাওয়া ১০৫ বন্দির একটি বড় অংশ এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে। দেড় বছর পার হলেও এসব বন্দির সবাইকে আইনের আওতায় আনা যায়নি। এ ঘটনায় জেলার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। এমনকি আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরাও বিষয়টি স্বীকার করেছেন, জানিয়েছেন তারা সক্রিয় রয়েছেন।
কারা অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের সময় দেশের বিভিন্ন কারাগারের মতো কুষ্টিয়া জেলা কারাগারেও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়। সে সুযোগে কারাগারের নিরাপত্তা ভেঙে ১০৫ জন বন্দি পালিয়ে যায়। এদের মধ্যে হত্যা, ডাকাতি, অস্ত্র ও মাদক মামলার আসামিও ছিলেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
লুট হওয়া অস্ত্র, বাড়তি আতঙ্ক/
গণ-অভ্যুত্থানের সময় দেশের বিভিন্ন কারাগার থেকে আগ্নেয়াস্ত্র লুটের ঘটনা ঘটে। এর একটি অংশ এখনো উদ্ধার না হওয়ায় কুষ্টিয়াসহ বিভিন্ন জেলায় অপরাধ প্রবণতা বাড়ার আশঙ্কা করছেন আইন-শৃঙ্খলা বিশ্লেষকরা। লুট হওয়া অস্ত্রের মধ্যে চাইনিজ রাইফেল ও শটগানের মতো মারাত্মক অস্ত্র থাকায় বিষয়টি আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে।
অপরাধে জড়ানোর শঙ্কা/
অপরাধ বিশ্লেষকদের মতে, কুষ্টিয়া কারাগার থেকে পালিয়ে যাওয়া বন্দিদের মধ্যে একটি অংশ ছিলেন যারা নানা অপরাধ কর্মে জড়িত ছিলেন। অনেকেই বিভিন্ন গ্যাং গ্রæপের সক্রিয় সদস্য-নেতা ছিলেন। তাদেরকে আইনের হেফাজতে ফেরত না আসায় আশঙ্কা করা হচ্ছে তাদের কেউ কেউ আবার সংগঠিত অপরাধে জড়িয়ে পড়তে পারে। ডাকাতি, ছিনতাই কিংবা অস্ত্র ও মাদক চক্রে যুক্ত হওয়ার পাশাপাশি রাজনৈতিক সহিংসতায়ও তাদের ব্যবহারের আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
অপরাধ বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ‘কারাগার থেকে পালানো বন্দিরা সাধারণ অপরাধী নয়। এরা অভিজ্ঞ ও সহিংস অপরাধে জড়িত। দীর্ঘ সময় নজরের বাইরে থাকায় তারা নতুন অপরাধে জড়িয়ে পড়ার সুযোগ পাচ্ছে। কুষ্টিয়ার মতো জেলাগুলোতে বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন।’
আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা/
কারা কর্তৃপক্ষ ও পুলিশ জানায়, কুষ্টিয়া কারাগার থেকে পালিয়ে যাওয়া বন্দিদের অবস্থান শনাক্তে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। বিভিন্ন জেলার সঙ্গে সমন্বয় করে তথ্য সংগ্রহ ও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে বলে দাবি সংশ্লিষ্টদের।
পুলিশের এক কর্মকর্তা জানান,
‘পলাতক বন্দিদের ধরতে নিয়মিত অভিযান চলছে। তথ্য পেলেই দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’
জননিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন/
স্থানীয়দের মতে, দেড় বছরেও কুষ্টিয়া কারাগার থেকে পালানো সব বন্দিকে গ্রেফতার না করা জননিরাপত্তার জন্য অশনিসংকেত। দ্রুত বিশেষ অভিযান চালিয়ে পলাতকদের আইনের আওতায় আনার পাশাপাশি কারাগারের নিরাপত্তা ব্যবস্থাও জোরদার করা জরুরি বলে মনে করছেন তারা।
সম্পাদক, প্রকাশক ও মুদ্রাকর : ড. আমানুর আমান,এম.ফিল (আইইউকে), পিএইচডি ( এনবিইউ- দার্জিলিং)
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক: শাহনাজ আমান।
কার্যালয়:- থানা ট্রাফিক মোড়, কুষ্টিয়া।মোবাইল- ০১৭১৩-৯১৪৫৭০, ইমেইল: info.dailykushtia@gmail.com
ই-পেপার কপি