January 24, 2026, 3:17 pm

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত দৈনিক কুষ্টিয়া অনলাইন পোর্টাল
সংবাদ শিরোনাম :
কলমের আলোয় ৩৪ বছরের ইতিহাস, ডিজিটাল স্বপ্নে আগামীর পথে দৈনিক কুষ্টিয়া: সংগ্রামের ৩৪ বছর কুষ্টিয়া কারাগারের ৬০ বন্দি পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেবেন সংসদ নির্বাচন: কুষ্টিয়ায় প্রচার শুরু ঢিমে তালে, ভোটারদের জন্য প্রার্থী চিনতে অসুবিধা ৪ শতাংশ জমির জন্য বাবার লাশ উত্তোলন, কুষ্টিয়ায় রহস্যময় হত্যার অভিযোগ মেহেরপুরসহ ৮ জেলায় চালু হলো ডিজিটাল জামিননামা: দ্রুত, স্বচ্ছ ও অনলাইন চিত্রনায়ক জাভেদের প্রয়াণে চলচ্চিত্র জগতে শোক কলকাতা বইমেলায় এবারও নেই বাংলাদেশ সারাদেশে বিএনপির অর্ধশত বিদ্রোহী প্রার্থী, দুই আসন প্রার্থীশূন্য, জামায়াত বলছে—জোটে সংকট নেই অভিযোগ, মামলা ও নিরাপত্তা শঙ্কা/ওয়াজে অংশগ্রহণ স্থগিত করলেন আমির হামজা

বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস আজ

দৈনিক কুষ্টিয়া অনলাইন/

আজ ১০ জানুয়ারি—বাঙালি জাতির ইতিহাসের এক অবিস্মরণীয় ও গৌরবোজ্জ্বল দিন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৫৫তম ঐতিহাসিক স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস আজ। ১৯৭২ সালের এই দিনে পাকিস্তানের কারাগারের বন্দিদশা থেকে মুক্ত হয়ে তিনি রক্তস্নাত, স্বাধীন বাংলাদেশের মাটিতে পা রাখেন। তাঁর এই প্রত্যাবর্তনের মধ্য দিয়ে মহান মুক্তিযুদ্ধের বিজয় পূর্ণতা লাভ করে এবং স্বাধীনতার চূড়ান্ত স্বীকৃতি পায়।
১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের কালরাতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী বাঙালির অবিসংবাদিত নেতা শেখ মুজিবুর রহমানকে ধানমন্ডির ৩২ নম্বর রোডের বাসভবন থেকে গ্রেফতার করে। তাঁকে গোপনে পাকিস্তানে নিয়ে বন্দি করা হয়। যখন পুরো জাতি স্বাধীনতার জন্য জীবন-মরণ লড়াইয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে, তখন বঙ্গবন্ধু পাকিস্তানের কারাগারে প্রহসনের বিচারে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি হিসেবে প্রতিটি মুহূর্ত মৃত্যুর প্রহর গুনছিলেন।
একাত্তরের ১৬ ডিসেম্বর মহান মুক্তিযুদ্ধে বাঙালির চূড়ান্ত বিজয়ের পর বিশ্ববাসী বঙ্গবন্ধুর মুক্তির দাবিতে সোচ্চার হয়ে ওঠে। আন্তর্জাতিক চাপের মুখে পরাজিত পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী অবশেষে ২৯০ দিন বন্দিদশার পর তাঁকে সসম্মানে মুক্তি দিতে বাধ্য হয়। লন্ডন ও দিল্লি হয়ে ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি তিনি ঢাকায় পৌঁছান।
স্বাধীন বাংলাদেশের মাটিতে বঙ্গবন্ধুর প্রত্যাবর্তনের দিনটি ছিল আনন্দ, আবেগ ও উচ্ছ্বাসে ভরপুর। লাখো মানুষের উপস্থিতিতে ঢাকা বিমানবন্দর থেকে ঐতিহাসিক রেসকোর্স ময়দান—বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান—পর্যন্ত জনসমুদ্রে পরিণত হয়। প্রিয় নেতাকে এক নজর দেখার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছিল গোটা জাতি। স্বাধীন দেশের মাটিতে পা রেখেই আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়েন বঙ্গবন্ধু। নয় মাসে পাক হানাদার বাহিনী ও তাদের দোসরদের চালানো গণহত্যার খবর শুনে তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন।
সেদিন সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে দেওয়া ভাষণে বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন,
‘যে মাটিকে আমি এত ভালোবাসি, যে মানুষকে আমি এত ভালোবাসি, যে জাতিকে আমি এত ভালোবাসি—আমি জানতাম না, সে বাংলায় আমি আসতে পারবো কিনা। আজ আমি বাংলায় ফিরে এসেছি—বাংলার ভাইয়েদের কাছে, মায়েদের কাছে, বোনদের কাছে। বাংলা আমার স্বাধীন, বাংলাদেশ আজ স্বাধীন।’
১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি শুধু একটি তারিখ নয়—এটি মুক্তিযুদ্ধের ধারাবাহিক ইতিহাসের এক অনন্য মাইলফলক। ১৯৪৭ সালে ভ্রান্ত দ্বিজাতি তত্ত্বের ভিত্তিতে দেশভাগের মাধ্যমে পূর্ব বাংলার মানুষকে যে নতুন পরাধীনতার শৃঙ্খলে আবদ্ধ করা হয়েছিল, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বলিষ্ঠ নেতৃত্বে দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের পথপরিক্রমায় তা ভেঙে চূর্ণ করে বাঙালি জাতি। তাঁর নেতৃত্বেই জাতি স্বাধীনতার মন্ত্রে উজ্জীবিত হয়ে মুক্তিযুদ্ধের পথে এগিয়ে যায় এবং অর্জন করে কাঙ্ক্ষিত স্বাধীনতা।

নিউজটি শেয়ার করুন..

Comments are closed.

পুরোনো খবর এখানে,তারিখ অনুযায়ী

© All rights reserved © 2024 dainikkushtia.net
Maintenance By DainikKushtia.net