
দৈনিক কুষ্টিয়া অনলাইন/
কুষ্টিয়ার রাজনীতিতে এমন কিছু নাম আছে, যাদের পরিচয় কেবল পদ-পদবি বা পোস্টারে সীমাবদ্ধ নয়—বরং মাঠ, আন্দোলন ও মানুষের পাশে থাকার দীর্ঘ অভিজ্ঞতায় গড়ে ওঠা। জাকির হোসেন সরকার সেই বিরল শ্রেণির একজন, যিনি গ্রামবাংলার মাটি, প্রকৌশল শিক্ষার শৃঙ্খলা, শিল্প উদ্যোক্তার বাস্তবতা এবং রাজনীতির কঠিন পথ—সবকিছুকে এক সুতোয় গেঁথে নিজস্ব রাজনৈতিক পরিচয় নির্মাণ করেছেন।
শেকড় থেকে নেতৃত্বে/
১৯৬৯ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর কুষ্টিয়া সদর উপজেলার জিয়ারখী ইউনিয়নের গোপালপুর গ্রামে জন্ম নেওয়া জাকির হোসেন সরকারের রাজনৈতিক মানস গঠনের পেছনে রয়েছে একটি শিক্ষাবান্ধব ও নৈতিক মূল্যবোধে দৃঢ় পারিবারিক পরিবেশ। শিক্ষক পিতার সন্তান হিসেবে ছোটবেলা থেকেই শিখেছেন শৃঙ্খলা, দায়িত্ববোধ ও মানুষের প্রতি দায়।
তার শেকড় কেবল একটি গ্রামে সীমাবদ্ধ নয়—কমলাপুর, ফিলিপনগরসহ কুষ্টিয়ার বিস্তৃত জনপদে পারিবারিক ও সামাজিক সম্পর্ক তাকে স্থানীয় মানুষের কাছে পরিচিত করে তুলেছে, যা আজ তার রাজনৈতিক শক্তির অন্যতম ভিত্তি।
মেধা, ব্যবস্থাপনা ও অর্থনীতির বাস্তব জ্ঞান
বুয়েট থেকে প্রকৌশল বিদ্যায় স্নাতক এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএ থেকে এমবিএ—এই দুই ধারার শিক্ষাই তাকে রাজনীতিতে এক ভিন্ন মাত্রা দিয়েছে। তিনি বিশ্বাস করেন,
“রাজনীতি মানে শুধু স্লোগান নয়; রাজনীতি মানে পরিকল্পনা, ব্যবস্থাপনা আর অর্থনীতির বাস্তব জ্ঞান।”
এই দৃষ্টিভঙ্গিই তাকে একজন উন্নয়নমুখী ও বাস্তববাদী রাজনীতিক হিসেবে পরিচিত করেছে।
শিল্পোদ্যোক্তা পরিচয় ও কর্মসংস্থানের রাজনীতি/
সরকার স্টীল লিমিটেড, সরকার কনস্ট্রাকশন লিমিটেড ও সরকার লজিস্টিক লিমিটেড—এই প্রতিষ্ঠানগুলো শুধু ব্যবসায়িক সাফল্যের গল্প নয়; বরং কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে স্থানীয় অর্থনীতিকে চাঙ্গা করার বাস্তব উদাহরণ। নির্বাচনী রাজনীতিতে তিনি বারবার বলেন,
“ভাতা নয়, আমি কর্মসংস্থানের রাজনীতি করতে চাই।”
তার শিল্প উদ্যোক্তা পরিচয় কুষ্টিয়া-৩ আসনে তরুণ ও কর্মজীবী ভোটারদের কাছে তাকে বিশ্বাসযোগ্য করে তুলেছে।
আন্দোলন, মামলা ও আপসহীন রাজনীতি/
ছাত্রজীবনে এরশাদবিরোধী আন্দোলনে গ্রেপ্তার হওয়ার মধ্য দিয়ে রাজনীতিতে হাতেখড়ি। এরপর দীর্ঘ সময়ে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকার কারণে ১৪টি রাজনৈতিক মামলায় গ্রেপ্তার ও কারাবরণ—এই ইতিহাস তার রাজনীতিকে দিয়েছে সংগ্রামের বৈধতা।
দলীয় নেতাকর্মীরা বলেন,
“জাকির সরকার কখনো দূর থেকে রাজনীতি করেননি; তিনি সব সময় রাজপথেই ছিলেন।”
স্থানীয় সরকার থেকে জাতীয় রাজনীতিতে প্রস্তুতি
২০১৪ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত কুষ্টিয়া সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন তার রাজনৈতিক জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। এই সময় স্থানীয় অবকাঠামো উন্নয়ন, গ্রাম ও শহরের সেতুবন্ধন, নাগরিক সেবার প্রসারে তার ভূমিকা আজও আলোচিত।
২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুষ্টিয়া-৩ আসনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে অংশগ্রহণ তার জাতীয় রাজনীতিতে দৃশ্যমান উপস্থিতি নিশ্চিত করে।
পরবর্তীতে জেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক এবং বর্তমানে সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন তাকে জেলার রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে এসেছে।
২০২৬ নির্বাচন ও রাজনৈতিক বার্তা/
২০২৬ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে কুষ্টিয়া-৩ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী হিসেবে জাকির হোসেন সরকার মাঠে সক্রিয়। তার নির্বাচনী বার্তার মূল সুর—
গণতন্ত্র ও ভোটাধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠা
কর্মসংস্থানভিত্তিক উন্নয়ন
দুর্নীতিমুক্ত স্থানীয় প্রশাসন
পরিবেশবান্ধব ও পরিকল্পিত কুষ্টিয়া
তিনি বলেন,
“আমি সংসদে যেতে চাই ক্ষমতার জন্য নয়, কুষ্টিয়ার মানুষের কণ্ঠস্বর হতে।”
গণসংযোগ ও সাংগঠনিক শক্তি/
বর্তমানে তিনি ইউনিয়ন থেকে ওয়ার্ড পর্যায় পর্যন্ত দলীয় কাঠামো শক্তিশালী করতে নিয়মিত গণসংযোগ, মতবিনিময় সভা ও সাংগঠনিক বৈঠক করে যাচ্ছেন। তরুণ, শ্রমজীবী ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ তার নির্বাচনী কৌশলের অন্যতম দিক।
বহুমাত্রিক পরিচয়, একক লক্ষ্য/
প্রকৌশলী, শিল্পোদ্যোক্তা, সমাজসেবক ও রাজনীতিক—এই বহুমাত্রিক পরিচয়ের সমন্বয়ে জাকির হোসেন সরকার আজ কুষ্টিয়ার রাজনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ নাম। তার জীবনগাথা কেবল একজন ব্যক্তির উত্থানের গল্প নয়; এটি একটি অঞ্চলের রাজনৈতিক বিকল্প নেতৃত্বের সম্ভাবনার প্রতিচ্ছবি।
কুষ্টিয়ার মাটি থেকে উঠে এসে জাতীয় রাজনীতির মঞ্চে নিজের অবস্থান গড়ে তোলা এই মানুষটি এখন দাঁড়িয়ে আছেন আরেকটি পরীক্ষার সামনে—২০২৬ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচন। সময়ই বলবে, জনগণ তার দীর্ঘ পথচলার মূল্যায়ন কীভাবে করে।
সম্পাদক, প্রকাশক ও মুদ্রাকর : ড. আমানুর আমান,এম.ফিল (আইইউকে), পিএইচডি ( এনবিইউ- দার্জিলিং)
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক: শাহনাজ আমান।
কার্যালয়:- থানা ট্রাফিক মোড়, কুষ্টিয়া।মোবাইল- ০১৭১৩-৯১৪৫৭০, ইমেইল: info.dailykushtia@gmail.com
ই-পেপার কপি