
দাম ৮ টাকা পর্যন্ত কমেছে
শুভব্রত আমান/
দেশের বাজারে চালের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা ও দাম নিয়ন্ত্রণে ভারত থেকে আমদানি শুরু হওয়ায় চালের দামে নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা দিয়েছে। হিলি ও বেনাপোল—এই দুটি স্থলবন্দর দিয়ে একযোগে চাল দেশে প্রবেশ করায় এর প্রভাব ইতোমধ্যেই স্থানীয় বাজারে পড়তে শুরু করেছে। ব্যবসায়ীদের মতে, আমদানি অব্যাহত থাকলে চালের দাম আরও কমতে পারে।
এর আগে ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করে আসছিলেন, সরবরাহ সংকটের কারণে সব ধরনের চালের দাম বেড়ে যায়। বাজার স্থিতিশীল রাখতে সরকার গত ১৮ জানুয়ারি ২৩২ জন আমদানিকারককে মোট দুই লাখ মেট্রিক টন চাল আমদানির অনুমতি দেয়। সর্বশেষ গত বছরের ৩০ নভেম্বর দেশে চালের চালান প্রবেশের পর অনুমতির অভাবে আমদানি কার্যক্রম বন্ধ ছিল।
বন্দর সূত্র জানায়, দীর্ঘ বিরতির পর গত ২১ জানুয়ারি হিলি স্থলবন্দর দিয়ে চাল আমদানি পুনরায় শুরু হয়। ডিপি এন্টারপ্রাইজ নামে একটি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে দুটি ট্রাকভর্তি চাল বন্দরে প্রবেশ করে। একই সঙ্গে টানা তিন মাস বন্ধ থাকার পর ২৭ জানুয়ারি বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়েও আবার চাল আমদানি শুরু হয়।
আমদানি শুরুর পর অল্প সময়ের মধ্যেই হিলি বাজারে এর প্রভাব পড়ে। সব ধরনের চালের দাম কেজিপ্রতি ৩ থেকে ৮ টাকা পর্যন্ত কমেছে। বুধবার (২৮ জানুয়ারি) হিলির চালের বাজারের তথ্যে দেখা যায়, স্বর্ণা জাতের চাল আগে কেজিপ্রতি ৪৬ টাকায় বিক্রি হলেও বর্তমানে তা ৪৩ টাকায় নেমেছে। সরু চালের দাম ৭৩ টাকা থেকে কমে বিক্রি হচ্ছে ৭০ টাকায়। সবচেয়ে বেশি কমেছে শম্পা কাটারি জাতের চালের দাম, যা ৭০ টাকা থেকে নেমে এসেছে ৬২ টাকায়।
চাল ব্যবসায়ী রুহুল আলী কুদ্দুস বলেন, আমদানি শুরু হওয়ায় বাজারে সরবরাহ বেড়েছে এবং মোকামে চালের দাম কমতে শুরু করেছে। এতে কম দামে চাল কিনে ভোক্তাদের কাছেও তুলনামূলক কম দামে বিক্রি করা সম্ভব হচ্ছে। পাশাপাশি সরকার ওএমএসের মাধ্যমে ৩০ টাকা কেজি দরে চাল বিক্রি শুরু করায় খোলা বাজারের ওপর চাপও কমেছে।
চালের দাম কমতে শুরু করায় সাধারণ মানুষের মাঝেও সন্তোষ প্রকাশ লক্ষ্য করা গেছে। ভ্যানচালক পিনাকি দাস বলেন, মোটা চালের দাম বেড়ে যাওয়ায় সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছিল। ভারত থেকে চাল আমদানি শুরু হওয়ায় দাম কিছুটা কমেছে, এতে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে।
আরেক ক্রেতা জাহাঙ্গীর আলম বলেন, হঠাৎ করে সরু চালের দাম ৭০ টাকার ওপরে উঠে যাওয়ায় বাধ্য হয়ে কেনাকাটা কমাতে হয়েছিল। তবে চলতি সপ্তাহে দাম কমতে শুরু করেছে। কয়েকদিন আগেও সরু চাল ৭৩ টাকায় বিক্রি হলেও এখন তা ৭০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। শম্পা কাটারি চালের দামও উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।
চাল আমদানিকারক দীনেশ পোদ্দার বলেন, আমদানি উন্মুক্ত থাকায় ধীরে ধীরে চালের পরিমাণ বাড়বে এবং বাজারে যে অস্থিরতা ছিল, তা কেটে যাবে। ইতোমধ্যে চালের দাম অনেকটা কমেছে, আমদানি বাড়লে দাম আরও কমবে।
হিলি স্থলবন্দর উদ্ভিদ সংগনিরোধ কেন্দ্রের সহকারী সংগনিরোধ কর্মকর্তা ইউসুফ আলী জানান, নতুন করে অনুমতি পাওয়ার পর ২১ জানুয়ারি থেকে নিয়মিতভাবে হিলি বন্দর দিয়ে চাল আমদানি হচ্ছে।
অন্যদিকে, মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) ভারত থেকে চারটি পৃথক চালানে মোট ৫১০ টন নন-বাসমতি সিদ্ধ চাল বেনাপোল স্থলবন্দরে প্রবেশ করে। ভারতীয় ১৪টি ট্রাকে করে আনা এসব চাল বন্দরের ৩১ নম্বর ট্রান্সশিপমেন্ট ইয়ার্ডে খালাস করা হয়। চালগুলো আমদানি করেছে হাজী মুসা করিম অ্যান্ড সন্স।
বন্দর সূত্র জানায়, চালের দাম সহনীয় পর্যায়ে রাখতে সরকারের শুল্কমুক্ত আমদানির সিদ্ধান্তের আওতায় এসব চাল আনা হয়েছে। সর্বশেষ গত বছরের নভেম্বর মাসে বেনাপোল বন্দর দিয়ে ৬ হাজার ১২৮ টন চাল আমদানি হয়েছিল। এরপর দীর্ঘদিন আমদানি বন্ধ ছিল।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ভারত থেকে আমদানিকৃত চালের প্রতি কেজি বেনাপোল বন্দর পর্যন্ত গড় খরচ পড়েছে প্রায় ৫০ টাকা। সরকারি সময়সূচি অনুযায়ী আগামী ৩ মার্চের মধ্যে এসব চাল দেশের বাজারে সরবরাহ করার কথা রয়েছে।
বেনাপোল বন্দরের পরিচালক মো. শামীম হোসেন জানান, মঙ্গলবার ৫১০ টন নন-বাসমতি মোটা চাল বন্দরে এসেছে। দ্রুত খালাস নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, হিলি ও বেনাপোল—এই দুটি গুরুত্বপূর্ণ স্থলবন্দর দিয়ে একযোগে চাল আমদানি অব্যাহত থাকলে বাজারে সরবরাহ আরও বাড়বে এবং চালের দাম ধীরে ধীরে সহনীয় পর্যায়ে নেমে আসবে।
সম্পাদক, প্রকাশক ও মুদ্রাকর : ড. আমানুর আমান,এম.ফিল (আইইউকে), পিএইচডি ( এনবিইউ- দার্জিলিং)
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক: শাহনাজ আমান।
কার্যালয়:- থানা ট্রাফিক মোড়, কুষ্টিয়া।মোবাইল- ০১৭১৩-৯১৪৫৭০, ইমেইল: info.dailykushtia@gmail.com
ই-পেপার কপি