
দৈনিক কুষ্টিয়া অনলাইন/
প্রায় দুই দশক পর নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠনের প্রস্তুতি নিচ্ছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমান প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য হয়ে প্রধানমন্ত্রী হতে যাচ্ছেন—এমন বাস্তবতায় নতুন মন্ত্রিসভায় কারা স্থান পাচ্ছেন, তা ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গন থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের মধ্যেও তৈরি হয়েছে ব্যাপক কৌতূহল, প্রত্যাশা ও নানা ধরনের জল্পনা।
দলীয় সূত্রগুলো ইঙ্গিত দিচ্ছে, কেবলমাত্র দলভিত্তিক সরকার নয়; বরং দীর্ঘদিনের আন্দোলন–সংগ্রামের সহযাত্রী রাজনৈতিক শক্তিগুলোকে সঙ্গে নিয়েই গড়ে উঠতে পারে একটি সমন্বিত ‘ঐক্যের সরকার’। আসন সমঝোতার ভিত্তিতে নির্বাচিত মিত্র দলের প্রতিনিধিদের মধ্য থেকে একাধিক ব্যক্তির মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্তির সম্ভাবনা রয়েছে। একই সঙ্গে যারা সরাসরি বিএনপিতে যোগ দিয়ে নির্বাচনে জয়ী হয়েছেন, তাদের মধ্য থেকেও কেউ কেউ মন্ত্রিত্ব পেতে পারেন। সীমিত পরিসরে টেকনোক্র্যাট কোটায় মিত্র দলের শীর্ষ পর্যায়ের কিছু নেতার অন্তর্ভুক্তির সম্ভাবনাও পুরোপুরি নাকচ করা হচ্ছে না—যদিও তা সংখ্যায় খুব বেশি নাও হতে পারে।
নতুন মন্ত্রিসভা গঠনের ক্ষেত্রে অভিজ্ঞতা ও নবীন নেতৃত্বের একটি সুস্পষ্ট ভারসাম্য রক্ষার পরিকল্পনার কথা জানা গেছে। দলের কঠিন সময়ে সক্রিয় ভূমিকা রাখা, প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক অভিজ্ঞতায় সমৃদ্ধ এবং পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির জ্যেষ্ঠ নেতাদের পাশাপাশি তরুণ, শিক্ষিত ও সম্ভাবনাময় নেতৃত্বকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি অঞ্চলভিত্তিক প্রতিনিধিত্বের ভারসাম্য, উন্নয়ন-বঞ্চিত জেলা থেকে অন্তর্ভুক্তি, বিভিন্ন ধর্মীয় সম্প্রদায় ও ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা এবং নারীর প্রতিনিধিত্ব বৃদ্ধি—এসব বিষয়ও মন্ত্রিসভা গঠনের আলোচনায় গুরুত্ব পাচ্ছে।
বিএনপি রাজনৈতিক ইতিহাসে সর্বোচ্চ আসনসংখ্যা নিয়ে সরকার গঠনের পথে এগোচ্ছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। একই সঙ্গে দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমান নিজেই প্রধানমন্ত্রী হচ্ছেন—এ বিষয়টি এখন কার্যত নিশ্চিত বলেই ধরে নেওয়া হচ্ছে। নতুন সরকারের মন্ত্রিসভার আকার কত বড় হবে এবং কারা এতে স্থান পাচ্ছেন, তা নিয়ে দলের অভ্যন্তরে নানা পর্যায়ে আলোচনা ও পর্যালোচনা চলছে।
দলীয় সূত্রগুলো ইঙ্গিত দিচ্ছে, প্রথমবারের মতো প্রধানমন্ত্রী হতে যাওয়া তারেক রহমান তুলনামূলকভাবে ছোট আকারের মন্ত্রিসভা গঠনের চিন্তাভাবনা করছেন। বর্তমানে বাংলাদেশের সরকারি কাঠামোয় মোট ৫৮টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগ থাকলেও সেটি পুনর্বিন্যাস করে সংখ্যাটি ত্রিশের নিচে নামিয়ে আনার পরিকল্পনা বিবেচনায় রয়েছে। প্রশাসনিক দক্ষতা বৃদ্ধি, ব্যয় সাশ্রয় এবং নীতিনির্ধারণে গতিশীলতা আনতেই এমন উদ্যোগ নেওয়া হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট মহলে আলোচনা চলছে।
শপথ গ্রহণের সময়সূচি ও সাংবিধানিক প্রক্রিয়া/
অন্তর্বর্তী সরকার থেকে বলা হয়েছে, নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের মঙ্গলবার সকাল ১০টায় সংসদ ভবনে শপথ পড়ানো হবে, যা পরিচালনা করবেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার এএমএম নাসির উদ্দীন। একই দিন বিকাল চারটায় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে এবং তা পরিচালনা করবেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন।
সংসদ সদস্যদের শপথের পর সংখ্যাগরিষ্ঠ দল হিসেবে বিএনপির সংসদীয় দলের বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। সেখানে সংসদ নেতা নির্বাচন শেষে রাষ্ট্রপতির কাছে সরকার গঠনের আনুষ্ঠানিক আবেদন জানানো হবে এবং সংবিধানসম্মত ধারাবাহিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করবে।
দক্ষিণ প্লাজায় শপথ: প্রতীকী গুরুত্ব/
ঐতিহ্যগতভাবে বঙ্গভবনে শপথ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হলেও এবার জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজাকে বেছে নেওয়া হয়েছে। সাম্প্রতিক রাজনৈতিক আন্দোলন, গণ-অভ্যুত্থান এবং জাতীয় রাজনৈতিক স্মৃতির সঙ্গে এই স্থানটির প্রতীকী সম্পর্ক বিবেচনায় এনে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। অনুষ্ঠানকে ঘিরে আঞ্চলিক কূটনৈতিক যোগাযোগের অংশ হিসেবে সার্কভুক্ত দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে বলেও জানা গেছে।
নির্বাচনী ফলাফলের সামগ্রিক চিত্র/
ঘোষিত ফলাফল অনুযায়ী ২৯৭টি আসনের মধ্যে বিএনপি এককভাবে জয় পেয়েছে ২০৯টিতে; স্থগিত দুটি আসনসহ মোট সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২১১। মিত্র দলগুলোর তিনটি আসন যুক্ত হলে জোটের মোট আসনসংখ্যা হয়েছে ২১২। অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামী এককভাবে পেয়েছে ৬৮টি আসন এবং তাদের নেতৃত্বাধীন জোটের মোট আসনসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭৭।
সম্পাদক, প্রকাশক ও মুদ্রাকর : ড. আমানুর আমান,এম.ফিল (আইইউকে), পিএইচডি ( এনবিইউ- দার্জিলিং)
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক: শাহনাজ আমান।
কার্যালয়:- থানা ট্রাফিক মোড়, কুষ্টিয়া।মোবাইল- ০১৭১৩-৯১৪৫৭০, ইমেইল: info.dailykushtia@gmail.com
ই-পেপার কপি