
দৈনিক কুষ্টিয়া অনলাইন/
অন্তর্র্বতী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক আলি রিয়াজ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে তার ভোটাধিকার প্রয়োগ করেননি, কারণ তিনি বাংলাদেশ-এর কোনো ভোটার নন।
এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন নির্বাচন কমিশনের জনসংযোগ পরিচালক রুহুল আমিন মল্লিক। তিনি জানান, আলি রিয়াজ ভোটার হিসেবে নিবন্ধিত নন। ভোট প্রদান বিষয়ে বাংলাদেশের ইংরেজি দৈনিক দ্য ডেইলি অবজারভারকে কোন মন্তব্য প্রদানে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন আলি রিয়াজ। বিষয়টিকে তিনি ব্যক্তিগত বলে উল্লেখ করেন।
অবজারভার-এর পক্ষ থেকে ফোনে যোগাযোগ করা হলে প্রশ্ন শুনে প্রথমে হাসেন তিনি। পরে বলেন, “এটা কি আপনারা খবর করবেন? এটি আমার ব্যক্তিগত বিষয়। এ বিষয়ে আমি আর কিছু বলতে চাই না।”
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, আলি রিয়াজ বাংলাদেশের নাগরিক নন এবং তিনি নিবন্ধিত ভোটারও নন। ফলে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও জাতীয় গণভোট---কোনোটিতেই তিনি ভোট দেননি।
উল্লেখ্য, সদ্য সমাপ্ত নির্বাচনকে ঘিরে ভোটার উপস্থিতি, অংশগ্রহণ ও নাগরিক সম্পৃক্ততা নিয়ে দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়েছে। সেই প্রেক্ষাপটে বিশিষ্ট বুদ্ধিজীবী, বিশ্লেষক ও জনপরিচিত ব্যক্তিরা তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন কি না—তা নিয়েও জনমনে কৌতূহল দেখা দিয়েছে।
আলি রিয়াজের মন্তব্য ব্যক্তিগত গোপনীয়তার প্রশ্নটিকেও নতুন করে সামনে এনেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভোট প্রদান নাগরিকের সাংবিধানিক অধিকার এবং সচেতন নাগরিকের দায়িত্ব। বিশেষ করে তিনি ‘জুলাই সনদ’ শীর্ষক বিভিন্ন বিষয়ভিত্তিক প্রতিবেদনের প্রণয়ন ও আলোচনায় গঠিত একটি কমিশনের চেয়ারম্যান হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন—যা ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি গণভোটে উপস্থাপিত হয় এবং যে নির্বাচনে বিএনপি ভূমিধস বিজয় অর্জন করে।
গণভোট বাস্তবায়নের পক্ষে সক্রিয়ভাবে প্রচার চালালেও বৃহস্পতিবারের নির্বাচনের দিনে তিনি নিজে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেননি—এই বিষয়টি স্বাভাবিকভাবেই নতুন প্রশ্নের জন্ম দিচ্ছে। বিশেষ করে একজন নিবন্ধিত ভোটার নন এমন ব্যক্তি কীভাবে সংবিধান, আইনসভা, আমলাতন্ত্র ও রাজনৈতিক দলসংক্রান্ত সম্ভাব্য সংস্কার নির্ধারণে প্রস্তাবিত গণভোটের জন্য গঠিত জাতীয় কমিশনের নেতৃত্বে ছিলেন—তা নিয়ে নীতি ও নৈতিকতার দৃষ্টিকোণ থেকে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, আইনি বৈধতা ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়া এক বিষয়, আর গণতান্ত্রিক অংশগ্রহণের প্রতীকী অর্থ আরেক বিষয়—এই দুইয়ের মধ্যে দূরত্ব থাকলে জনআস্থার প্রশ্ন সামনে আসতেই পারে। একই সঙ্গে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মোহাম্মদ ইউনুস কী বিবেচনায় অধ্যাপক আলি রিয়াজ-কে জুলাই সনদ প্রণয়ন কমিশনের চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দিয়েছিলেন—সে সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিত ও যুক্তিও এখন জনপরিসরে আলোচনার অংশ হয়ে উঠেছে।
সম্পাদক, প্রকাশক ও মুদ্রাকর : ড. আমানুর আমান,এম.ফিল (আইইউকে), পিএইচডি ( এনবিইউ- দার্জিলিং)
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক: শাহনাজ আমান।
কার্যালয়:- থানা ট্রাফিক মোড়, কুষ্টিয়া।মোবাইল- ০১৭১৩-৯১৪৫৭০, ইমেইল: info.dailykushtia@gmail.com
ই-পেপার কপি