
দৈনিক কুষ্টিয়া অনলাইন/
রমজানের প্রথম দিন বিকেল গড়াতেই কুষ্টিয়া শহর জুড়ে শুরু হয় ইফতারের ব্যস্ততা। অলিগলি থেকে শুরু করে প্রধান সড়ক ও বাণিজ্যিক এলাকাগুলোতে দোকানিরা সাজিয়ে বসেন হরেক রকমের ইফতার সামগ্রী। আসরের নামাজের পর থেকেই শহরের এনএস রোড, পাঁচ রাস্তার মোড়, বড় বাজার, রেলগেট, চৌড়হাস মোড় ও মজমপুর গেট এলাকায় ক্রেতাদের ভিড় বাড়তে থাকে।
শহরের ঐতিহ্যবাহী কয়েকটি হোটেল ও রেস্তোরাঁর সামনে ইফতারির অস্থায়ী স্টল বসেছে। এনএস রোডের মৌবন, বড় বাজার এলাকার শিশির বেকারী, পিয়াতলার আনজুম’স কিচেন, পাঁচ রাস্তার মোড়ের রাজ হান্ডি, মজমপুর এলাকার হোটেল জাহাঙ্গীর হোটেল, বিশ্বাস হোটেল–এর সামনে বিকেল থেকেই জমে ওঠে ক্রেতাদের আনাগোনা।
এসবের বাইরেও শহরের বিভিন্ন অলিতে-গলিতে বসেছে ছোট ছোট ইফতার সামগ্রীর দোকান।
গরম জিলাপির সুবাসে মুখর চারদিক/
বড় বড় কড়াইয়ে টগবগে তেলে ভাজা হচ্ছে গরম জিলাপি। তার সুবাস ছড়িয়ে পড়ছে আশপাশে। ছোলা, মুড়ি, পিঁয়াজু, বেগুনি, আলুর চপ, রসুনের চপ, সবজি পাকোড়া, জালি কাবাব, মাটন কাটলেট, চিংড়ির চপ, চিকেন ফ্রাই, চিকেন সাসলিক, শাহী হালিম, ফিরনি—সব মিলিয়ে বাহারি আয়োজন।
দোকানিদের ভাষ্য, প্রথম রোজাতেই ক্রেতাদের চাপ ছিল চোখে পড়ার মতো। অনেকেই পরিবারের জন্য একসঙ্গে বিভিন্ন আইটেম কিনে নিচ্ছেন।
দাম কেমন?
ইফতার বিক্রেতা হারুন-উরি-রশিদ আসকারী হারু জানান, রেশমি ও শাহী জিলাপি প্রতি পিস ১০ টাকা, জালি কাবাব ১৫ টাকা, মাটন কাটলেট ৩০ টাকা, চিংড়ির চপ ২০ টাকা, চিকেন ফ্রাই ও চিকেন সাসলিক ৫০ টাকা, শাহী হালিম প্রতি বাটি ৬০ টাকা এবং ফিরনি প্রতি কাপ ৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
এছাড়া ১০০ গ্রাম ছোলা ২০ টাকা, পেঁয়াজু-বেগুনি-আলুর চপ ৫ থেকে ১০ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে। বিক্রেতারা বলছেন, অধিকাংশ ইফতার সামগ্রীর দাম গত বছরের তুলনায় খুব একটা বাড়েনি, যদিও কিছু আইটেমে সামান্য বৃদ্ধি আছে।
ক্রেতাদের মতামত
পাঁচ রাস্তার মোড়ে ইফতার কিনতে আসা জাহাঙ্গীর আলম বলেন, “বিদেশি ফলের দাম একটু বেশি হলেও তৈরি ইফতারির দাম মোটামুটি সহনীয়। পরিবার নিয়ে ইফতার করতে ভালো মানের খাবার চাই, তাই এখান থেকেই কিনি।”
হরিপুর এলাকা থেকে আসা হাফিজুর রহমান বেচু জানান, “আমাদের পরিবারের সবার পছন্দ শিশিরের ইফতার। প্রথম দিন বলে একটু ভিড় বেশি, তবে পরিবেশটা উৎসবমুখর।”
আরেক ক্রেতা মাখনউর রহমান বলেন, “আলু, পেঁয়াজ, শসা, চিনি—কিছু পণ্যের দাম কমেছে। সে হিসেবে ইফতারের দাম আরও কম হতে পারত। তবে প্রয়োজন তো আছেই, কিনতেই হয়।”
অস্থায়ী দোকানে বাড়তি কর্মচাঞ্চল্য/
শহরের বিভিন্ন মোড়ে অস্থায়ী ইফতারির দোকান গড়ে উঠেছে। তরুণ উদ্যোক্তারা ছোট স্টল বসিয়ে পেঁয়াজু, বেগুনি, ছোলা ও জিলাপি বিক্রি করছেন। এতে যেমন কর্মসংস্থান তৈরি হয়েছে, তেমনি রমজানের প্রথম দিনেই বেচাকেনা হয়েছে সন্তোষজনক।
সার্বিক চিত্র/
এদিকে এবারও কুষ্টিয়ার অন্যতম খাদ্যপ্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান আনজুম কিচেনসে রয়েছে নানা রকমের আয়োজন। এখানকার স্বল্পমুল্যের পিঁয়াজু, বেগুনী ক্রেতাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছে।
সব মিলিয়ে রমজানের প্রথম দিন কুষ্টিয়া শহরে ইফতার বাজার ছিল প্রাণচঞ্চল ও জমজমাট। বিক্রেতাদের মুখে হাসি, ক্রেতাদের মাঝে উৎসবের আমেজ—ঐতিহ্যবাহী শহরটি যেন রোজার আবহে নতুন করে প্রাণ ফিরে পেয়েছে। সামনে দিনগুলোতে এই জমজমাট পরিবেশ আরও বাড়বে বলে আশা করছেন ব্যবসায়ীরা।
সম্পাদক, প্রকাশক ও মুদ্রাকর : ড. আমানুর আমান,এম.ফিল (আইইউকে), পিএইচডি ( এনবিইউ- দার্জিলিং)
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক: শাহনাজ আমান।
কার্যালয়:- থানা ট্রাফিক মোড়, কুষ্টিয়া।মোবাইল- ০১৭১৩-৯১৪৫৭০, ইমেইল: info.dailykushtia@gmail.com
ই-পেপার কপি