
দৈনিক কুষ্টিয়া অনলাইন/
কোরআন শিক্ষার আশায় মাদ্রাসায় ভর্তি—শেষ পর্যন্ত আইসিইউর বেডে মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই। ভেড়ামারার একটি মহিলা মাদ্রাসায় ১০ বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে সুপার মাওলানা সাইদুর রহমান গ্রেপ্তার হওয়ার ঘটনায় জনমনে ক্ষোভ, ঘৃণা আর প্রশ্নের ঝড় বইছে।
পুলিশ জানায়, উপজেলার জামিলাতুন্নেছা মহিলা মাদ্রাসার সুপার ও প্রতিষ্ঠাতা সাইদুর রহমানকে সোমবার (১৬ মার্চ) এতেকাফ থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। ধর্মীয় আচার পালনের মাঝখান থেকেই অভিযুক্তকে আটক করার এই ঘটনা যেন এক নির্মম প্রতীক—বাইরে ইবাদত, ভেতরে নৃশংসতা!
ভুক্তভোগী শিশুটি প্রায় ৮ মাস আগে মাদ্রাসায় ভর্তি হয়। আবাসিক ছাত্রী হিসেবে সেখানেই থাকত। অভিযোগ উঠেছে—একই ভবনের নিচতলায় সুপার পরিবারসহ বসবাস করতো, আর উপরে ছিল ছাত্রীদের আবাস।
অভিভাবকদের সরল বিশ্বাস আর প্রশাসনিক নজরদারির ঘাটতি মিলিয়ে যেন তৈরি হয়েছিল এক ভয়ঙ্কর পরিবেশ।
আরও বিস্ময়কর—মাদ্রাসায় ছাত্রীর সংখ্যা ৪০-৪৫ থেকে কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ৭-এ!
ঘটনার সূত্রপাত গত রোববার। ছুটি হওয়ায় শিশুটিকে নিতে আসেন মা। তখন জানানো হয়—“জ্বর এসেছে”।
কিন্তু উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্র থেকে দ্রুতই তাকে পাঠানো হয় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। এখন সে আইসিইউতে, জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে।
প্রশ্ন উঠছে—জ্বরের অজুহাত দিয়ে কতদিন ঢেকে রাখা হয়েছিল এই পাশবিকতা?
মায়ের আর্তনাদ, বাবার ক্ষোভ/
শিশুটির মা বলেন,“আমার মেয়েকে শেষ করে দিয়েছে ঐ হারামজাদা-লম্পট মৌলভী। আমি এর কঠিন বিচার চাই।”
বাবার কণ্ঠে ক্ষোভ—“কোরআন শেখাতে দিয়েছিলাম, এমন সর্বনাশ কেন করল? এরা পশুর চেয়েও জঘন্য।”
ভেড়ামারা থানার ওসি মুহাম্মদ জাহেদুর রহমান জানিয়েছেন, অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তদন্ত চলছে, আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কিন্তু সাধারণ মানুষের প্রশ্ন—শুধু ‘আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা’—এই বাক্যটাই কি শেষ কথা? নাকি আবারও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সব চাপা পড়ে যাবে?
সমাজের সামনে আয়না
এই ঘটনা শুধু একটি পরিবারের ব্যক্তিগত ট্র্যাজেডি নয়; এটি আমাদের সামগ্রিক সামাজিক বাস্তবতার এক নির্মম প্রতিচ্ছবি। যে সমাজে শিশুরা সবচেয়ে নিরাপদ থাকার কথা, সেই সমাজেই তারা বারবার সহিংসতার শিকার হচ্ছে—কখনও ঘরের ভেতরে, কখনও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আড়ালে।
শিশুটির এই করুণ পরিণতি আমাদের সামনে কঠিন কিছু প্রশ্ন তুলে ধরে—শিশুদের নিরাপত্তা কি সত্যিই নিশ্চিত?
অভিভাবকদের অগাধ বিশ্বাসের জায়গাগুলো কতটা নিরাপদ? আর আমরা কি যথেষ্ট সচেতন, নাকি ঘটনাগুলো ঘটার পরই কেবল ক্ষণিকের জন্য জেগে উঠি?
এই একটির ভেতর দিয়ে যেন বহু অদেখা, অপ্রকাশিত ঘটনার ইঙ্গিতও সামনে আসে। সমাজের প্রতিটি স্তরে—পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, প্রশাসন—সবার দায়িত্ব ও জবাবদিহিতা নিয়ে নতুন করে ভাবার সময় এসেছে।
সম্পাদক, প্রকাশক ও মুদ্রাকর : ড. আমানুর আমান,এম.ফিল (আইইউকে), পিএইচডি ( এনবিইউ- দার্জিলিং)
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক: শাহনাজ আমান।
কার্যালয়:- থানা ট্রাফিক মোড়, কুষ্টিয়া।মোবাইল- ০১৭১৩-৯১৪৫৭০, ইমেইল: info.dailykushtia@gmail.com
ই-পেপার কপি