
দৈনিক কুষ্টিয়া অনলাইন/
সরকারি কলেজ শিক্ষকদের ‘নন-ভ্যাকেশন’ বিভাগের আওতায় আনার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। প্রস্তাবটি বাস্তবায়িত হলে দীর্ঘদিনের প্রচলিত গ্রীষ্ম ও শীতকালীন ছুটির কাঠামোয় বড় পরিবর্তন আসবে। বিষয়টি নিয়ে ইতোমধ্যে শিক্ষকদের একাংশ, নীতিনির্ধারক ও সংশ্লিষ্ট মহলে শুরু হয়েছে আলোচনা-সমালোচনা।
রোববার (২৯ মার্চ) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের এক প্রজ্ঞাপনে এ উদ্যোগের কথা জানানো হয়। প্রজ্ঞাপনে সংশ্লিষ্ট দফতরগুলোকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানানো হয়েছে।
বর্তমানে কলেজ শিক্ষকেরা ‘অবকাশ বিভাগ’-এর আওতায় থেকে নির্ধারিত দীর্ঘ ছুটি ভোগ করে থাকেন। নতুন প্রস্তাব কার্যকর হলে এই কাঠামো পরিবর্তিত হয়ে শিক্ষকদের নিয়মিত কর্মঘণ্টার আওতায় আনার বিষয়টি গুরুত্ব পাবে। এতে একদিকে প্রশাসনিক সমন্বয় ও জবাবদিহিতা বাড়ার সম্ভাবনার কথা বলা হচ্ছে, অন্যদিকে শিক্ষকদের কর্মপরিবেশ ও একাডেমিক প্রস্তুতির ওপর প্রভাব পড়ার আশঙ্কাও উত্থাপিত হয়েছে।
শিক্ষকদের একটি অংশ মনে করছেন, দীর্ঘ ছুটি তাদের মানসিক পুনর্গঠন, গবেষণা ও পাঠ প্রস্তুতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ। ছুটির সুযোগ কমে গেলে তা শিক্ষার মানে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলেও তারা আশঙ্কা প্রকাশ করছেন।
অন্যদিকে সমালোচকদের মতে, বর্তমান বাস্তবতায় শিক্ষকতার দায়িত্ব শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়; বরং গবেষণা, শিক্ষার্থীদের মেন্টরিং ও একাডেমিক উন্নয়নের মতো কাজ সারা বছরই অব্যাহত থাকে। সে বিবেচনায় অন্যান্য সরকারি পেশার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে শিক্ষকদের জন্য আলাদা ছুটির কাঠামো পুনর্বিবেচনা করা যৌক্তিক হতে পারে।
প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে, শিক্ষা খাতে ‘ভ্যাকেশন ডিপার্টমেন্ট’ সংক্রান্ত সংজ্ঞা পুনর্বিবেচনার বিষয়টি দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনায় রয়েছে। তবে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় পূর্বে সরাসরি ‘নন-ভ্যাকেশন’ ঘোষণা না করে ছুটির কাঠামো পুনর্বিন্যাসের পরামর্শ দিয়েছিল।
এদিকে অর্থ বিভাগ জাতীয় বেতন কমিশন ২০২৫-এর সুপারিশের আলোকে বিষয়টি বিবেচনার কথা জানিয়েছে। তবে সংশ্লিষ্টদের একাংশ মনে করছেন, শুধুমাত্র প্রশাসনিক বা আর্থিক দৃষ্টিকোণ নয়—শিক্ষার গুণগত মান, শিক্ষক-শিক্ষার্থী সম্পর্ক এবং একাডেমিক পরিবেশের ওপর সম্ভাব্য প্রভাবও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন।
বর্তমানে কার্যকর ১৯৫৯ সালের ছুটি বিধিমালা অনুযায়ী শিক্ষা খাত ‘অবকাশ বিভাগ’-এর অন্তর্ভুক্ত। ফলে এ খাতকে ‘নন-ভ্যাকেশন’ ঘোষণা করতে হলে বিদ্যমান বিধিমালায় সংশোধন আনতে হবে, যা একটি প্রক্রিয়াগত বিষয়।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিষয়টি এখন কেবল ছুটির সীমাবদ্ধতায় আবদ্ধ নয়; বরং এটি কর্মসংস্কৃতি, পেশাগত দায়বদ্ধতা এবং শিক্ষার মানোন্নয়নের বৃহত্তর প্রশ্নের সঙ্গে জড়িত।
প্রজ্ঞাপনটি ইতোমধ্যে অর্থ বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট দফতরগুলোতে পাঠানো হয়েছে। এখন দেখার বিষয়, আলোচনার পর সরকার কী চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয় এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মতামত কতটা প্রতিফলিত হয়।
সম্পাদক, প্রকাশক ও মুদ্রাকর : ড. আমানুর আমান,এম.ফিল (আইইউকে), পিএইচডি ( এনবিইউ- দার্জিলিং)
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক: শাহনাজ আমান।
কার্যালয়:- থানা ট্রাফিক মোড়, কুষ্টিয়া।মোবাইল- ০১৭১৩-৯১৪৫৭০, ইমেইল: info.dailykushtia@gmail.com
ই-পেপার কপি