
দৈনিক কুষ্টিয়া অনলাইন/
বিদ্যুৎ ও জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু-কে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করার অভিযোগে দায়ের করা মানহানি মামলায় হাইকোর্টে আবেদনের প্রেক্ষিতে কুষ্টিয়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য আমির হামজা সাত সপ্তাহের আগাম জামিন পেয়েছেন।
আজ ২৭ এপ্রিল হাইকোর্ট-এর একটি দ্বৈত বেঞ্চে তার এ আবেদনের ওপর শুনানি অনুষ্ঠিত হওয়ার পর তাকে জামিন দেয়া হয়।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, এর আগে গত ২১ এপ্রিল সিরাজগঞ্জ জেলার নিম্ন আদালত মুফতি আমির হামজার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। আদালতের সমন জারির পরও নির্ধারিত সময়ে হাজির না হওয়ায় তার বিরুদ্ধে এ পরোয়ানা জারি করা হয়। পরবর্তীতে গ্রেপ্তার এড়াতে তিনি উচ্চ আদালতের শরণাপন্ন হন।
মামলার নথিপত্র অনুযায়ী, গত ২৬ মার্চ কুষ্টিয়া সদরের একটি মসজিদে জুমার খুতবার আগে আয়োজিত আলোচনায় অংশ নিয়ে মুফতি আমির হামজা জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু-কে ‘নাস্তিক’ ও ‘ইসলামবিদ্বেষী’ হিসেবে উল্লেখ করেন। তার বক্তব্যে ধর্মীয় ও রাজনৈতিক প্রসঙ্গ একসঙ্গে উঠে আসায় উপস্থিত মুসল্লিদের মধ্যেও তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা যায় বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান। পরে বক্তব্যটির ভিডিও ও অডিও ক্লিপ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা দ্রুত ভাইরাল হয়ে যায় এবং বিভিন্ন মহলে তীব্র আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দেয়। অনেকে এ ধরনের মন্তব্যকে দায়িত্বজ্ঞানহীন ও উসকানিমূলক বলে আখ্যা দেন, আবার তার সমর্থকরাও সামাজিক মাধ্যমে পাল্টা প্রতিক্রিয়া জানান। ফলে ঘটনাটি স্থানীয় পরিসর ছাড়িয়ে জাতীয় পর্যায়েও ব্যাপক আলোচনার বিষয় হয়ে ওঠে।
এ ঘটনায় ২ এপ্রিল অ্যাডভোকেট হুমায়ুন কবীর কর্নেল বাদী হয়ে সিরাজগঞ্জ নিম্ন আদালতে একটি মানহানি মামলা দায়ের করেন। মামলায় অভিযোগ করা হয়, একজন দায়িত্বশীল জনপ্রতিনিধির বিরুদ্ধে এমন মন্তব্য তার ব্যক্তি ও রাজনৈতিক সুনাম ক্ষুণ্ন করেছে এবং তা দণ্ডনীয় অপরাধের শামিল।
আইনজীবীরা বলছেন, দণ্ডবিধির মানহানি সংক্রান্ত ধারায় এ ধরনের মামলায় অভিযুক্ত ব্যক্তি আগাম জামিন চাইতে পারেন, বিশেষ করে যদি গ্রেপ্তারের আশঙ্কা থাকে। তবে আদালত এ ক্ষেত্রে অভিযোগের গুরুত্ব, প্রাথমিক প্রমাণ এবং অভিযুক্তের আচরণ---সবকিছু বিবেচনায় নিয়ে সিদ্ধান্ত দিয়ে থাকেন।
হাইকোর্টের আইজীবী বিএম আব্দুর রফেল মনে করেন, জনপ্রতিনিধিদের বক্তব্যে সংযম ও দায়িত্বশীলতা বজায় রাখা প্রয়োজন, বিশেষ করে ধর্মীয় বা সংবেদনশীল ইস্যুতে দেওয়া মন্তব্য জনমনে বিভ্রান্তি বা উত্তেজনা সৃষ্টি করতে পারে।
উল্লেখ্য, এর আগেও মুফতি আমির হামজার বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে উসকানিমূলক বা বিতর্কিত বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল। সর্বশেষ ঘটনায় তার আগাম জামিন আবেদন নিয়ে হাইকোর্ট কী সিদ্ধান্ত দেন, সে দিকে দৃষ্টি রয়েছে সংশ্লিষ্ট মহলের।
সম্পাদক, প্রকাশক ও মুদ্রাকর : ড. আমানুর আমান,এম.ফিল (আইইউকে), পিএইচডি ( এনবিইউ- দার্জিলিং)
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক: শাহনাজ আমান।
কার্যালয়:- থানা ট্রাফিক মোড়, কুষ্টিয়া।মোবাইল- ০১৭১৩-৯১৪৫৭০, ইমেইল: info.dailykushtia@gmail.com
ই-পেপার কপি