
দৈনিক কুষ্টিয়া অনলাইন/
জাতীয় পর্যায়ে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৬৫তম জন্মবার্ষিকী উদ্যাপনের মধ্য দিয়ে যেন নতুন করে উচ্চারিত হয়েছে বাঙালির আত্মপরিচয়ের এক চিরন্তন প্রতিজ্ঞা---রবীন্দ্রচর্চাকে আরও বিস্তৃত করতে হবে, আরও গভীরে নিয়ে যেতে হবে মানুষের হৃদয়ে। কারণ বক্তাদের ভাষায়, “রবীন্দ্রচর্চা রুদ্ধ হয়ে গেলে বাঙালি আবেগশূন্য হয়ে পড়বে, বাঙালি চেতনা ভেঙে পড়বে।
আজ ২৫শে বৈশাখ কবির একসময়ের পারিবারিক ও জমিদারি ব্যবস্থাপনার আবাসস্থল কুষ্টিয়ার শিলাইদহের কুঠিবাড়িতে আয়োজিত উদ্ধোধনী অনুষ্ঠানে বক্তরা এ কথা বলেন। পদ্মাপাড়ের শান্ত, সবুজ আর ইতিহাসঘেরা শিলাইদহ মুখর হয়ে উঠেছে কবিগুরুর স্মরণে।
১৬৫তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষ্যে সেখানে ৩ দিনের অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। অনুষ্ঠান উদ্ধেন করেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী।
সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে।
তিন দিনের আয়োজনে থাকছে আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, রবীন্দ্রসংগীত পরিবেশনা, নৃত্যনাট্য, আবৃত্তি, চিত্রপ্রদর্শনী এবং লোকজ সংস্কৃতির নানা উপস্থাপনা। দেশের খ্যাতিমান রবীন্দ্রসংগীত শিল্পী, আবৃত্তিকার, গবেষক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বদের পাশাপাশি অংশ নিচ্ছেন স্থানীয় শিল্পী ও প্রায় শতাধিক সাংস্কৃতিক সংগঠন।
ইতোমধ্যে কুঠিবাড়ি ও এর আশপাশের এলাকা সাজানো হয়েছে বর্ণিল সাজসজ্জায়। পুরো কুষ্টিয়াজুড়ে বিরাজ করছে উৎসবের আমেজ। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে জড়ো হয়েছেন রবীন্দ্রপ্রেমী, সংস্কৃতিকর্মী ও দর্শনার্থীরা। দর্শনার্থীদের জন্য নির্মাণ করা হয়েছে অস্থায়ী মঞ্চ, বসার ব্যবস্থা এবং নিরাপত্তা ব্যারিকেড। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তর সমন্বিতভাবে কাজ করছে অনুষ্ঠান সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুষ্টিয়া-১ আসনের সংষদ সদস্য রেজা আহাম্মেদ, কুষ্টিয়া-৪ আসনের সংসদ সদস্য আফজাল হোসেন. কুষ্টিয়া জেলা পরিষদের প্রশাসক সোহরাব উদ্দিন, কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন।
উদ্ধোধনী দিনের স্মারক বক্তা ছিলেন প্রফেসর ড. ওয়াকিল আহমেদ। সভাপতিত্ব করেন সংষ্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব কানিজ মওলা।
স্বাগত বক্তব্য রাখে কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক তৌহিদ বিন হাসান।
সংস্কৃতি মন্ত্রী নিতাই রায় তার বক্ততৃায় বলেন এই শিলাইদহ কেবল একটি স্থান নয়; এটি বাঙালির সাহিত্য-সংস্কৃতির এক জীবন্ত স্মৃতি। এখানেই কবিগুরু তাঁর অসংখ্য কবিতা, গান, গল্প ও চিঠি রচনা করেছেন।
তিনি বলেন, পদ্মার ঢেউ, বাংলার প্রকৃতি, কৃষকের জীবন আর মানুষের সুখ-দুঃখ তাঁর সৃষ্টিকে দিয়েছে এক অনন্য মানবিকতা।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, তাই শিলাইদহে রবীন্দ্রজয়ন্তী উদ্যাপন মানে কেবল একটি আনুষ্ঠানিক আয়োজন নয়; এটি বাঙালির আত্মার কাছে ফিরে যাওয়ার এক সাংস্কৃতিক যাত্রা।
এসময় কুঠিবাড়ির উন্নয়নে ভারত সরকার কর্তৃক এখানে কতিপয় উন্নয়নমূলক কার্যক্রম গ্রহন করায় দেশটিকে ধন্যবাদ জানান।
স্মারক বক্তা
বাঙালির ভাষা, আবেগ ও সাংস্কৃতিক মনস্তত্ত্বের সঙ্গে রবীন্দ্রনাথ এত গভীরভাবে মিশে আছেন যে তাঁকে বাদ দিয়ে বাঙালিত্ব কল্পনাই করা যায় না। জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত বাঙালির জীবনের নানা অনুষঙ্গে রবীন্দ্রসংগীত ও রবীন্দ্রসাহিত্য জড়িয়ে আছে। আনন্দে, বেদনায়, প্রেমে, বিরহে, সংগ্রামে—প্রতিটি অনুভূতির ভাষা যেন তিনি তৈরি করে দিয়েছেন। তাই রবীন্দ্রচর্চা কমে যাওয়া মানে বাঙালির অনুভূতির জগৎ সংকুচিত হয়ে যাওয়া।
আজকের পৃথিবী দ্রুত বদলে যাচ্ছে। প্রযুক্তির অগ্রগতি, ভোগবাদী সংস্কৃতির বিস্তার এবং সামাজিক বিচ্ছিন্নতা মানুষের অনুভূতিকে ক্রমেই যান্ত্রিক করে তুলছে। এই বাস্তবতায় রবীন্দ্রনাথের সাহিত্য, সংগীত ও দর্শন মানুষের ভেতরের মানবিক শক্তিকে জাগ্রত করার এক মহৌষধ। তাঁর গান মানুষকে প্রেম শেখায়, তাঁর কবিতা মানুষকে প্রকৃতির সঙ্গে যুক্ত করে, তাঁর দর্শন মানুষকে মুক্তচিন্তার সাহস দেয়। তিনি কেবল একজন কবি নন; তিনি বাঙালির মানসগঠনের প্রধান নির্মাতাদের একজন।
সম্পাদক, প্রকাশক ও মুদ্রাকর : ড. আমানুর আমান,এম.ফিল (আইইউকে), পিএইচডি ( এনবিইউ- দার্জিলিং)
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক: শাহনাজ আমান।
কার্যালয়:- থানা ট্রাফিক মোড়, কুষ্টিয়া।মোবাইল- ০১৭১৩-৯১৪৫৭০, ইমেইল: info.dailykushtia@gmail.com
ই-পেপার কপি