
নাজমুল ইসলাম, দৌলতপুর/
কুষ্টিয়ার দৌলতপুর সীমান্তের শূন্যরেখায় অবস্থানরত নারী, পুরুষ ও শিশুসহ ১২ জনের মধ্যে মানবিক সংকট ক্রমেই তীব্র হচ্ছে। দীর্ঘদিন খোলা আকাশের নিচে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে থাকার কারণে তাদের অধিকাংশই অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। বিশেষ করে আড়াই বছরের শিশু সামাদ উচ্চ জ্বরে আক্রান্ত হওয়ায় উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অসুস্থদের মধ্যে চারজন শিশু রয়েছে। শিশু সামাদের পাশাপাশি আরও তিন শিশু সর্দি, কাশি ও জ্বরে ভুগছে। বড়দের মধ্যেও ঠান্ডা, কাশি এবং শারীরিক দুর্বলতার উপসর্গ দেখা দিয়েছে। প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে গোসলের সুযোগ না পাওয়া, মশার উপদ্রব এবং প্রচণ্ড গরমে পাটক্ষেতের মধ্যে মানবেতর জীবনযাপনের কারণে তাদের শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটছে বলে স্থানীয়রা জানান।
বিজিবির কঠোর নজরদারির মধ্যে মানবিক কারণে সীমান্তবর্তী এলাকার বাসিন্দারা তাদের জন্য শুকনো খাবার, বিশুদ্ধ পানি ও প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করেছেন। স্থানীয় চিকিৎসক শহিদুল ইসলাম জানান, আড়াই বছরের একটি শিশু উচ্চ জ্বরে আক্রান্ত। এছাড়া আরও তিন শিশু জ্বর, সর্দি ও কাশিতে ভুগছে। তিনি তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা ও ওষুধ দিয়েছেন। বড়রাও ঠান্ডা-কাশিসহ বিভিন্ন শারীরিক সমস্যায় আক্রান্ত।
এদিকে শূন্যরেখায় অবস্থানরত ১২ জনকে ঘিরে পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠলেও নতুন করে আরও তিনটি সীমান্ত পয়েন্ট দিয়ে পুশইনের চেষ্টা চালানোর অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার গভীর রাতে চর বিলগাতুয়া সীমান্ত দিয়ে চারজন এবং জয়পুর সীমান্ত দিয়ে আরও আটজনকে বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টা করা হয়। এছাড়া রোববার সকাল সাড়ে ৬টার দিকে চল্লিশপাড়া সীমান্ত দিয়ে শাহাবুদ্দিন (৫৫) নামে এক ব্যক্তিকে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করা হলে বিজিবি তাকে ভারতের অভ্যন্তরে ফেরত পাঠায়। বিজিবির কড়া টহল ও নজরদারির কারণে এসব প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে বলে জানা গেছে।
বিজিবি সূত্র জানায়, গত ১২ জুন ভোর সাড়ে ৫টার দিকে বিএসএফ নারী, পুরুষ ও শিশুসহ ১২ জনকে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা করে। বিষয়টির সমাধানে সেদিন বিকেলে পতাকা বৈঠকের উদ্যোগ নেওয়া হলেও বিএসএফের অসহযোগিতার কারণে তা অনুষ্ঠিত হয়নি।
পরদিন ১৩ জুন সকাল সাড়ে ৯টায় বিলগাতুয়া সীমান্তের ১৫০/৩-এস পিলার এলাকায় বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বিজিবির পক্ষে কুষ্টিয়া-৪৭ বিজিবির উপ-অধিনায়ক নুরুল হুদার নেতৃত্বে ছয় সদস্যের প্রতিনিধি দল এবং বিএসএফের পক্ষে রানীনগর কোম্পানি কমান্ডার এসি সুনিল কুমার ইয়াদবের নেতৃত্বে ছয় সদস্যের প্রতিনিধি দল অংশ নেয়।
তবে বৈঠকে বিএসএফ পুশইনের অভিযোগ অস্বীকার করে এবং শূন্যরেখায় অবস্থানরত ব্যক্তিদের নিজেদের হেফাজতে নিতে অস্বীকৃতি জানায়। এ অবস্থায় বিজিবি আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ জানালে বিএসএফ বিষয়টি তদন্ত করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত জানাতে সময় চায়। ফলে এখনো কোনো চূড়ান্ত সমাধান না হওয়ায় ১২ জন ব্যক্তি শূন্যরেখায় অবস্থান করছেন।
বিজিবি সূত্র আরও জানায়, সাম্প্রতিক দিনগুলোতে বিএসএফ প্রায় প্রতি রাতেই নতুন করে পুশইনের চেষ্টা চালাচ্ছে। তবে বিজিবির কঠোর অবস্থান এবং স্থানীয় জনসাধারণের সতর্কতার কারণে এসব প্রচেষ্টা ব্যর্থ হচ্ছে।
পুশইনের শিকার ব্যক্তিরা নিজেদের বাংলাদেশের নাগরিক বলে দাবি করেছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার উজির আলী (৫০), তার স্ত্রী জয়নুর বেগম (৩৫), ছেলে শিহাদ (১৭), ইনজামুল (৮) ও আড়াই বছরের শিশু সামাদ। এছাড়া সাতক্ষীরার শ্যামনগর ও খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার আরও দুটি পরিবারের সদস্যরাও রয়েছেন।
কুষ্টিয়া-৪৭ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল রাশেদ কামাল রনি বলেন, “বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিএসএফ পুশইনের অভিযোগ অস্বীকার করে বিষয়টি তদন্তের জন্য সময় চেয়েছে। বর্তমানে ১২ জন ব্যক্তি শূন্যরেখার প্রায় ৫০ মিটার ভারতের অভ্যন্তরে অবস্থান করছেন।”
তিনি আরও বলেন, “সীমান্ত সুরক্ষায় বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। দেশের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট যেকোনো বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
সম্পাদক, প্রকাশক ও মুদ্রাকর : ড. আমানুর আমান,এম.ফিল (আইইউকে), পিএইচডি ( এনবিইউ- দার্জিলিং)
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক: শাহনাজ আমান।
কার্যালয়:- থানা ট্রাফিক মোড়, কুষ্টিয়া।মোবাইল- ০১৭১৩-৯১৪৫৭০, ইমেইল: info.dailykushtia@gmail.com
ই-পেপার কপি