
দৈনিক কুষ্টিয়া অনলাইন/
রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে ফেরিতে ওঠার সময় র্যাম্প ভেঙে যাত্রীবাহী বাস পদ্মা নদীতে পড়ে যাওয়ার ঘটনায় জেলা প্রশাসনের তদন্ত প্রতিবেদনে বাসটির যান্ত্রিক ত্রুটি ও ফিটনেস সনদ না থাকার বিষয়টি উঠে এসেছে। তবে এ ঘটনায় নতুন করে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে—একটির পর একটি দুর্ঘটনা ঘটলেও কেন পরিবহন খাতের অনিয়ম ও ঘাট ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা রোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না?
জেলা প্রশাসনের গঠিত সাত সদস্যের তদন্ত কমিটি মঙ্গলবার তাদের প্রতিবেদন জেলা প্রশাসকের কাছে জমা দিয়েছে। প্রতিবেদনে বাসটির যান্ত্রিক ত্রুটি, বৈধ ফিটনেস সনদের অনুপস্থিতি এবং ঘাট ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন সীমাবদ্ধতাকে দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। পাশাপাশি দৌলতদিয়া ঘাটের আধুনিকায়ন, অ্যাপ্রোচ সড়কের উন্নয়ন, প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থাপনা এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক নজরদারি ব্যবস্থা চালুর সুপারিশ করা হয়েছে।
গত ৫ জুন সকালে গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়ার ৭ নম্বর ফেরিঘাটে ফেরি ‘কবরী’-তে ওঠার সময় এসবি সুপার ডিলাক্স পরিবহনের একটি বাস র্যাম্প ভেঙে পদ্মা নদীতে পড়ে যায়। সৌভাগ্যবশত এ ঘটনায় কোনো প্রাণহানি হয়নি। তবে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুর্ঘটনার পর দীর্ঘ সময় ধরে উদ্ধার কার্যক্রম ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতা স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক ও অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট উছেন মে জানিয়েছেন, প্রত্যক্ষদর্শী, স্থানীয় বাসিন্দা এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের বক্তব্য বিশ্লেষণ করেই প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হয়েছে। জেলা প্রশাসক আফরোজা পারভীন বলেন, প্রতিবেদনে উল্লিখিত তথ্য ও সুপারিশ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় এবং সরকারি দপ্তরগুলোতে পাঠানো হবে। পরবর্তী নির্দেশনা অনুযায়ী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
তবে পরিবহন খাত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, দুর্ঘটনার পর তদন্ত কমিটি গঠন, প্রতিবেদন জমা এবং সুপারিশ দেওয়ার ঘটনা নতুন নয়। কিন্তু অধিকাংশ ক্ষেত্রেই দায়ী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান ব্যবস্থা নেওয়া হয় না। ফলে একই ধরনের অনিয়ম বছরের পর বছর চলতে থাকে।
উল্লেখ্য, চলতি বছরের ২৫ মার্চ দৌলতদিয়ার ৩ নম্বর পন্টুন থেকে কুষ্টিয়ার কুমারখালীগামী একটি যাত্রীবাহী বাস পদ্মা নদীতে ডুবে যায়। ওই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় ২৬ জনের প্রাণহানি ঘটে। সেই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই আবারও ঘাটে বাস নদীতে পড়ে যাওয়ার ঘটনা নিরাপত্তা ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ফিটনেসবিহীন যানবাহন সড়কে চলাচল বন্ধ, ফেরিঘাটে কঠোর তদারকি এবং দায়ী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কার্যকর শাস্তি নিশ্চিত না হলে তদন্ত প্রতিবেদন কেবল কাগজেই সীমাবদ্ধ থাকবে। আর দৌলতদিয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে দুর্ঘটনার পুনরাবৃত্তি জননিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হিসেবেই থেকে যাবে।
সম্পাদক, প্রকাশক ও মুদ্রাকর : ড. আমানুর আমান,এম.ফিল (আইইউকে), পিএইচডি ( এনবিইউ- দার্জিলিং)
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক: শাহনাজ আমান।
কার্যালয়:- থানা ট্রাফিক মোড়, কুষ্টিয়া।মোবাইল- ০১৭১৩-৯১৪৫৭০, ইমেইল: info.dailykushtia@gmail.com
ই-পেপার কপি