
দৈনিক কুষ্টিয়া অনলাইন/
কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার ফিলিপনগরে ধর্ম অবমাননার অভিযোগকে কেন্দ্র করে আধ্যাত্মিক গুরু শামীম রেজা ওরফে জাহাঙ্গীরকে হত্যা, দরবারে হামলা এবং পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার ঘটনায় নতুন মোড় এসেছে। হত্যা মামলার প্রধান দুই আসামি জামায়াত নেতা খাজা আহমেদ ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের উপজেলা সভাপতি আসাদুজ্জামানকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
ঘটনার সূত্রপাত হয় গত ১১ এপ্রিল। সেদিন ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে ফিলিপনগরের ‘শামীম বাবার দরবার শরিফ’ নামে পরিচিত আস্তানায় শতাধিক লোক হামলা চালায়। হামলাকারীরা দরবারে ব্যাপক ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে। একপর্যায়ে পীর শামীম রেজাকে পিটিয়ে ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। এ সময় তাঁর তিন ভক্ত—মহন আলী, জামিরুন ও জুবায়ের গুরুতর আহত হন।
ঘটনার দুই দিন পর, ১৩ এপ্রিল, নিহতের বড় ভাই ফজলুর রহমান দৌলতপুর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় জামায়াত নেতা খাজা আহমেদ, স্থানীয় জামায়াত কর্মী রাজিব মিস্ত্রি, খেলাফত মজলিসের উপজেলা সভাপতি মো. আসাদুজ্জামান এবং মাদ্রাসা শিক্ষক মো. শিহাবের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরও ১৮০ থেকে ২০০ জনকে আসামি করা হয়। মামলার এজাহারে অভিযোগ করা হয়, জামায়াত ও খেলাফত মজলিসের নেতৃত্বে সংঘবদ্ধভাবে হামলা চালিয়ে এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়।
তদন্ত চলাকালে প্রধান দুই আসামি খাজা আহমেদ ও আসাদুজ্জামান উচ্চ আদালত থেকে ছয় সপ্তাহের অন্তর্বর্তীকালীন জামিন লাভ করেন। জামিনের মেয়াদ শেষ হলে মঙ্গলবার কুষ্টিয়া জেলা ও দায়রা জজ আদালতে আত্মসমর্পণ করে তারা পুনরায় জামিনের আবেদন করেন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী জানান, উচ্চ আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী দুই আসামি নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণ করেছেন। শুনানি শেষে জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক এনায়েতুল কবীর তাদের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
এদিকে মামলার তদন্ত ও বিচারিক কার্যক্রম এখনও চলমান রয়েছে।
সম্পাদক, প্রকাশক ও মুদ্রাকর : ড. আমানুর আমান,এম.ফিল (আইইউকে), পিএইচডি ( এনবিইউ- দার্জিলিং)
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক: শাহনাজ আমান।
কার্যালয়:- থানা ট্রাফিক মোড়, কুষ্টিয়া।মোবাইল- ০১৭১৩-৯১৪৫৭০, ইমেইল: info.dailykushtia@gmail.com
ই-পেপার কপি