
দৈনিক কুষ্টিয়া অনলাইন/
ক্রমবর্ধমান উৎপাদন ব্যয় ও ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের কৃষক ধীরে ধীরে বোরো ধান চাষ থেকে সরে এসে বিকল্প ফসলের দিকে ঝুঁকছেন। কৃষি অর্থনীতিবিদদের মতে, এই প্রবণতা অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে দেশের খাদ্যনিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়তে পারে।
চুয়াডাঙ্গার কৃষক আব্দুল হাকিম গত মৌসুমে সাড়ে চার বিঘা জমিতে বোরো ধানের আবাদ করেছিলেন। তবে সেচ, সার, বীজ, শ্রমিক ও পরিবহন ব্যয় মেটানোর পর তার হাতে ছিল মাত্র ৬ হাজার টাকা। নিজের শ্রমের মূল্য হিসাব করলে প্রকৃতপক্ষে তিনি লোকসানেই পড়েছেন। তাই চলতি মৌসুমে তিনি জমির একটি অংশে ভুট্টা চাষ করেছেন এবং আগামীতে বোরো আবাদ আরও কমানোর পরিকল্পনা করছেন।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বোরো ধান উৎপাদনে আমনের তুলনায় ৩৫ থেকে ৬০ শতাংশ বেশি ব্যয় হয়। কারণ বোরো সম্পূর্ণ সেচনির্ভর এবং এতে সার, কীটনাশক ও শ্রমের ব্যবহারও বেশি। যদিও বোরোর ফলন তুলনামূলক বেশি, তবুও উৎপাদন ব্যয় ও বাজারমূল্যের অসামঞ্জস্যের কারণে কৃষকরা কাঙ্ক্ষিত লাভ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) গবেষণা পরিচালক ড. মোহাম্মদ ইউনুস মনে করেন, উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ এবং বাজার ব্যবস্থার উন্নয়নের মাধ্যমে কৃষকের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় কৃষক লাভজনক ফসলের দিকে ঝুঁকবেন, যা ধান উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
এদিকে কৃষি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, কৃষকের উৎপাদন ব্যয় কমাতে সারের সাশ্রয়ী ব্যবহার, সৌরচালিত সেচব্যবস্থা এবং কৃষকভিত্তিক তথ্যভান্ডার তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের আশা, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও কার্যকর নীতিমালা বাস্তবায়নের মাধ্যমে কৃষিকে আরও লাভজনক করা সম্ভব হবে এবং দেশের খাদ্যনিরাপত্তাও নিশ্চিত থাকবে।
সম্পাদক, প্রকাশক ও মুদ্রাকর : ড. আমানুর আমান,এম.ফিল (আইইউকে), পিএইচডি ( এনবিইউ- দার্জিলিং)
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক: শাহনাজ আমান।
কার্যালয়:- থানা ট্রাফিক মোড়, কুষ্টিয়া।মোবাইল- ০১৭১৩-৯১৪৫৭০, ইমেইল: info.dailykushtia@gmail.com
ই-পেপার কপি