

ড. আমানুর আমান ///
সকালের বাজারে দাঁড়ালে এখন আর শুধু পণ্যের দাম জানতে হয় না, নিজের সামর্থ্যের সঙ্গেও একধরনের দর-কষাকষি করতে হয়। এক কেজি চাল, এক লিটার তেল, সামান্য ডাল কিংবা এক কেজি চিনি কিনতে গেলেই মধ্যবিত্ত মানুষকে হিসাব করতে হয়—আজ কোনটি কেনা যাবে, কোনটি বাদ দিতে হবে এবং কোন প্রয়োজনটি আরেকটু পিছিয়ে দেওয়া সম্ভব। বাজারের ব্যাগ তাই ক্রমেই সংসারের আয়-ব্যয়ের একটি চলমান হিসাবখাতায় পরিণত হয়েছে। এই বাস্তবতার মধ্যেই সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নতুন বেতনকাঠামো ঘোষণার খবর এসেছে। মূল্যস্ফীতির চাপে দীর্ঘদিন ধরে থাকা মানুষের কাছে খবরটি স্বাভাবিকভাবেই স্বস্তির; কিন্তু বাড়তি সেই টাকা মানুষের হাতে পৌঁছানোর আগেই যদি বাজার তার ভাগ বসাতে শুরু করে, তাহলে স্বস্তির জায়গাটিতেই প্রশ্ন এসে দাঁড়ায়।
এখনো তো বেতন বাড়েনি, শুধু ঘোষণা হয়েছে। বাড়তি টাকা কর্মচারীর ব্যাংক হিসাবে জমা পড়েনি, সংসারের বাজারে খরচ হয়নি, সন্তানের স্কুলের বেতন বা বাড়িভাড়ায় তার একটি টাকাও যায়নি। অথচ এরই মধ্যে যদি চাল, ডাল, তেল, চিনি কিংবা অন্য কোনো নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়তে শুরু করে, তাহলে সাধারণ মানুষের মনে সন্দেহ জাগা অস্বাভাবিক নয়। বরং বাংলাদেশের বাজার সম্পর্কে দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা যাঁদের আছে, তাঁদের কাছে এই সন্দেহ একেবারেই অপরিচিত নয়। এখানে মানুষের আয় বাড়ার খবর বাজার যত দ্রুত গ্রহণ করে, মানুষের কষ্টের খবর বাজার তত দ্রুত গ্রহণ করে কি না, সে বিষয়ে যথেষ্ট সংশয় থাকার কারণ আছে।
দেশের ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইয়ের প্রশাসক মো. ফজলুল হক সেই কারণেই হয়তো সময়োপযোগী একটি সতর্কবার্তা দিয়েছেন। তিনি ব্যবসায়ীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য ঘোষিত নতুন বেতনকাঠামোর সুযোগ নিয়ে যেন নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়ানো না হয় এবং কোনোভাবেই যেন সিন্ডিকেট বা কৃত্রিম মূল্যবৃদ্ধির পথে যাওয়া না হয়। তাঁর বক্তব্যে বর্তমান বাজার পরিস্থিতির কথাও উঠে এসেছে—সাধারণ মানুষ এমনিতেই দ্রব্যমূল্যের চাপে আছে, সেখানে কিছু মানুষের বেতন বৃদ্ধিকে কেন্দ্র করে যদি বাজার নতুন করে অস্থির হয়ে ওঠে, তবে তার বোঝা শেষ পর্যন্ত বহন করতে হবে বৃহত্তর জনগোষ্ঠীকেই।
কথাটি শুনতে যেমন স্বস্তিদায়ক, তেমনি এর সঙ্গে একটি অনিবার্য প্রশ্নও জড়িয়ে আছে—ব্যবসায়ী সমাজ এই আহ্বান কতটা বাস্তবে পালন করবে? এই প্রশ্নকে ব্যবসায়ী-বিরোধী মনোভাব বলে উড়িয়ে দেওয়া সহজ, কিন্তু তা করলে দেশের বাজারের দীর্ঘ অভিজ্ঞতাকে অস্বীকার করা হবে। কারণ এ দেশে পণ্যের দাম বাড়ানোর কারণের কখনোই ঘাটতি দেখা যায় না। কখনো আন্তর্জাতিক বাজার, কখনো ডলারের বিনিময় হার, কখনো জ্বালানি ও পরিবহন ব্যয়, কখনো আমদানি সংকট, কখনো উৎপাদন ঘাটতি—একটির পর একটি কারণ বাজারের দরজায় এসে হাজির হয়েছে। এবার সেই দীর্ঘ তালিকায় নতুন একটি সম্ভাব্য কারণ হিসেবে যুক্ত হয়েছে বেতন বৃদ্ধি। অর্থাৎ অন্যের আয় বাড়ার সম্ভাবনাও যদি নিজের পণ্যের দাম বাড়ানোর যুক্তি হয়ে দাঁড়ায়, তাহলে বাংলাদেশের বাজার অর্থনীতির অভিধানে বোধহয় আরও একটি নতুন অধ্যায় যুক্ত হওয়ার সময় এসেছে।
সমস্যা হচ্ছে, দাম বাড়ার খবর বাজারে যত দ্রুত পৌঁছে যায়, দাম কমার খবরের যাত্রা ততটা মসৃণ নয়। আন্তর্জাতিক বাজারে কোনো পণ্যের দাম বাড়লে তার প্রভাব দেশের বাজারে দ্রুত অনুভূত হয়; কিন্তু একই পণ্যের আন্তর্জাতিক দাম কমলে সেই স্বস্তি ভোক্তার কাছে পৌঁছাতে কেন যেন সময় লাগে। ডলারের ক্ষেত্রেও মানুষের অভিজ্ঞতা প্রায় একই—বিনিময় হার বাড়লে দাম বাড়ার ব্যাখ্যা পাওয়া যায়, কিন্তু বিনিময় হার কমলে আগের বাড়তি দামের কতটা কমল, সেই হিসাবটি অনেক সময় স্পষ্ট হয় না। ফলে ভোক্তার মনে যে সংশয় তৈরি হয়, সেটিকে শুধু নেতিবাচক মানসিকতা বলে উড়িয়ে দেওয়া কঠিন।
চিনির বাজারের সাম্প্রতিক ঘটনাটিও সেই সংশয়ের একটি উদাহরণ হয়ে উঠতে পারে। এফবিসিসিআইয়ের মতবিনিময় সভায় খুচরা পর্যায়ে চিনির দাম কেজিতে ১০ টাকা বৃদ্ধির বিষয়ে ব্যবসায়ীদের কাছে জবাবদিহিতা চাওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ চিনি ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মো. আবুল হাশেম এর কারণ হিসেবে গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটে মিলগুলোর উৎপাদন ব্যাহত হওয়া এবং সরবরাহ কমে যাওয়ার কথা বলেছেন। যুক্তিটিকে একেবারে অস্বীকার করার সুযোগ নেই। শিল্পকারখানায় জ্বালানি সংকট হলে উৎপাদন কমতে পারে, উৎপাদন কমলে সরবরাহে ঘাটতি দেখা দিতে পারে এবং তার প্রভাব বাজারদরে পড়াও স্বাভাবিক।
কিন্তু একই আলোচনায় মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের প্রতিনিধি তসলিম শাহরিয়ার বলেছেন, উৎপাদন হ্রাস এবং বিশ্ববাজারে কাঁচামালের দাম বাড়লেও খুচরা পর্যায়ে কেজিতে ১০ টাকা দাম বাড়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়নি; মিল পর্যায়েও বড় কোনো অসঙ্গতি নেই বলে তিনি দাবি করেছেন। ফলে সাধারণ ভোক্তার মাথায় স্বাভাবিকভাবেই যে প্রশ্নটি আসে, সেটি খুব জটিল নয়—যদি উৎপাদন ব্যয় ও মিল পর্যায়ের দামে এতটা অসঙ্গতি না থাকে, তাহলে খুচরা বাজারে অতিরিক্ত ১০ টাকা যুক্ত হলো কোন পর্যায়ে?
এই প্রশ্নটি শুধু চিনির নয়, পুরো সরবরাহব্যবস্থার স্বচ্ছতার প্রশ্ন। কারখানা থেকে পাইকার, পাইকার থেকে খুচরা বিক্রেতা—প্রতিটি পর্যায়েই ব্যয় ও মুনাফা যুক্ত হয় এবং সেটি ব্যবসার স্বাভাবিক নিয়ম। কিন্তু সেই ব্যয়ের কাঠামো ও মুনাফার পরিমাণ যদি ভোক্তার কাছে অস্পষ্ট থাকে, তাহলে প্রকৃত ব্যয় আর সুযোগসন্ধানী মূল্যবৃদ্ধির মধ্যে পার্থক্য করা কঠিন হয়ে পড়ে। আর যেখানে তথ্যের ঘাটতি থাকে, সেখানে সন্দেহের জায়গা তৈরি হয়; সেই সন্দেহ থেকেই একসময় ‘সিন্ডিকেট’ শব্দটি মানুষের আলোচনায় এত সহজে জায়গা করে নেয়।
অবশ্যই সব মূল্যবৃদ্ধির পেছনে সিন্ডিকেট আছে—এমন সরল সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা ঠিক হবে না। বাজারে প্রকৃত সংকট থাকতে পারে, উৎপাদন কমতে পারে, আমদানি ব্যয় বাড়তে পারে, জ্বালানি সংকট হতে পারে এবং কোনো কোনো শিল্পপ্রতিষ্ঠান সত্যিই টিকে থাকার কঠিন লড়াই করতে পারে। এফবিসিসিআইয়ের সভায় বড় ভোগ্যপণ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর ভবিষ্যৎ নিয়েও যে উদ্বেগের কথা এসেছে, সেটিকে গুরুত্ব দিয়ে দেখা দরকার। মৌলভীবাজার ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক গোলাম মওলার বক্তব্য অনুযায়ী, অতীতে ৩০-৪০টি বড় কোম্পানি থাকলেও বর্তমানে মাত্র চার-পাঁচটি টিকে আছে এবং গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটে এসব প্রতিষ্ঠানের উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। বড় প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ হয়ে গেলে ভবিষ্যতের আমদানি ও সরবরাহব্যবস্থায় বড় ধরনের সংকট তৈরি হতে পারে—এ আশঙ্কা অমূলক নয়।
কিন্তু শিল্পের সংকটের সমাধান আর ভোক্তার ঘাড়ে তার পুরো বোঝা চাপিয়ে দেওয়া এক বিষয় নয়। গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটের সমাধান সরকারের দায়িত্ব, উৎপাদন সক্ষমতা ধরে রাখার ব্যবস্থা করা সরকারের দায়িত্ব এবং প্রতিযোগিতামূলক বাজার নিশ্চিত করাও রাষ্ট্রের দায়িত্ব। ব্যবসায়ীদেরও অবশ্যই তাদের বাস্তব সমস্যার কথা বলার অধিকার আছে; কিন্তু প্রতিটি সমস্যার তাৎক্ষণিক সমাধান যদি বাজারে পণ্যের দাম বাড়িয়ে নেওয়া হয়, তাহলে শেষ পর্যন্ত সেই সমাধানের সবচেয়ে বড় মূল্য দিতে হয় সাধারণ মানুষকে। গ্যাসের সংকট, বিদ্যুতের সংকট, ডলারের সংকট, আমদানি ব্যয় কিংবা আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতা—সবকিছুর বোঝা যদি একইভাবে ভোক্তার ওপর গিয়ে পড়ে, তাহলে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠবে, ব্যবসার ঝুঁকির অংশটি ব্যবসায়ী নেবেন কোথায়?
ব্যবসা অবশ্যই লাভ করবে; লাভ ছাড়া ব্যবসা টেকসই হয় না। ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীদের বাস্তব সমস্যাগুলোও অস্বীকার করা যাবে না। দোকানভাড়া, কর্মচারীর বেতন, বিদ্যুৎ, পরিবহন, ঋণের সুদ ও পুঁজির সংকট—এসবের মধ্য দিয়ে তাঁদের ব্যবসা চালাতে হয়। বড় শিল্পপ্রতিষ্ঠানের উৎপাদন ব্যয়ও বাস্তব কারণে বাড়তে পারে। কিন্তু লাভের অধিকার আর অতিমুনাফার অধিকার এক নয়। একজন ব্যবসায়ী যদি ন্যায্য মুনাফায় পণ্য বিক্রি করেন, সেটি বাজার অর্থনীতির স্বাভাবিক অংশ; কিন্তু মানুষের প্রয়োজন ও অসহায়তাকে ব্যবহার করে বাড়তি মুনাফা করার চেষ্টা তখন আর নিছক ব্যবসায়িক সিদ্ধান্ত থাকে না, সেটি নৈতিকতার প্রশ্ন হয়ে ওঠে।
বিশেষ করে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ক্ষেত্রে বিষয়টি আরও স্পর্শকাতর। একজন মানুষ চাইলেই চাল কেনা বন্ধ করতে পারেন না, তেল বা ডাল পুরোপুরি বাদ দিতে পারেন না। ফলে এসব পণ্যের ক্ষেত্রে ভোক্তার দরকষাকষির ক্ষমতা সীমিত। তাঁর প্রয়োজনই তাঁকে বাজারের ওপর নির্ভরশীল করে রাখে। এই নির্ভরশীলতাকে যদি কেউ অতিরিক্ত মুনাফার সুযোগ হিসেবে ব্যবহার করেন, তাহলে বাজারের সঙ্গে মানুষের সম্পর্কটি আর পারস্পরিক আস্থার থাকে না; সেখানে এক পক্ষের প্রয়োজন অন্য পক্ষের মুনাফার উপকরণে পরিণত হয়।
এই কারণেই ব্যবসায়ী সমাজের প্রতি মানুষের সংশয়কে একেবারে অমূলক বলা যায় না। তবে একই সঙ্গে সব ব্যবসায়ীকে সন্দেহের চোখে দেখা ন্যায়সংগতও নয়। বরং যাঁরা সৎভাবে ব্যবসা করেন, তাঁদের স্বার্থেই বাজারে স্বচ্ছতা প্রয়োজন। কোনো পণ্যের দাম বাড়লে কেন বাড়ল, উৎপাদন খরচ কতটা বেড়েছে, আমদানি ব্যয় কতটা বেড়েছে, পরিবহন ও অন্যান্য খরচের প্রভাব কতটা এবং ব্যবসায়ী কতটা মুনাফা করছেন—এই তথ্যগুলো যত বেশি স্বচ্ছ হবে, ততই প্রকৃত ব্যবসায়ী এবং সুযোগসন্ধানীর মধ্যে পার্থক্য করা সহজ হবে।
এখানে এফবিসিসিআইয়ের আহ্বানের প্রকৃত পরীক্ষা। একটি সভায় দাঁড়িয়ে ব্যবসায়ীদের নৈতিক হওয়ার আহ্বান জানানো সহজ; কিন্তু সেই নৈতিকতার প্রতিফলন বাজারের মূল্যতালিকায় ঘটানোই কঠিন কাজ। সরকারি কর্মচারীদের বেতন বাড়লেও দেশের বৃহত্তর শ্রমজীবী জনগোষ্ঠীর আয় একই সঙ্গে বাড়ছে না। বেসরকারি খাতের কর্মী, শ্রমিক, দিনমজুর, কৃষক, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী কিংবা অবসরপ্রাপ্ত মানুষের আয় স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাড়বে না, অথচ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়লে তাঁদের প্রত্যেককেই তার মূল্য দিতে হবে। ফলে কয়েক লাখ মানুষের আয় বৃদ্ধিকে অজুহাত করে কোটি মানুষের ব্যয় বাড়ানো কোনোভাবেই ন্যায়সংগত হতে পারে না।
বেতন বৃদ্ধির মূল উদ্দেশ্য মানুষের জীবনযাত্রায় কিছুটা স্বস্তি ফিরিয়ে আনা। সেই স্বস্তি যদি বাজারের অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধিতে আবার শুষে নেওয়া হয়, তাহলে বেতন বৃদ্ধির প্রকৃত অর্থই দুর্বল হয়ে পড়ে। সরকার এক হাতে বাড়তি আয় দেবে আর বাজার অন্য হাতে সেই আয়ের একটি অংশ নিয়ে নেবে—এমন পরিস্থিতিতে মানুষ খুব স্বাভাবিকভাবেই জানতে চাইবে, তার আয় কি সত্যিই বেড়েছে, নাকি শুধু খরচের অঙ্কটাই বদলেছে?
এখন সেই প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার সময় ব্যবসায়ী সমাজের। আগামী দিনগুলোতে বাজারের আচরণই বলে দেবে এফবিসিসিআইয়ের আহ্বান কতটা গুরুত্ব পেয়েছে। বেতন বৃদ্ধির ঘোষণা মানুষের হাতে পৌঁছানোর আগেই যদি বাজার নতুন মূল্যতালিকা তৈরি করে, তাহলে সন্দেহ আরও ঘনীভূত হবে। আর যদি ব্যবসায়ীরা এবার সংযম দেখান, সরবরাহ স্বাভাবিক রাখেন এবং অযৌক্তিক মুনাফার পথে না হাঁটেন, তাহলে সেটি হবে তাঁদের পক্ষ থেকে একটি গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক বার্তা।
কারণ ব্যবসার সবচেয়ে বড় সম্পদ শুধু পুঁজি নয়, আস্থাও। একদিনের বাড়তি মুনাফা হয়তো হিসাবের খাতায় লাভ হিসেবে লেখা যায়, কিন্তু মানুষের আস্থা হারানোর ক্ষতি সেই খাতায় সহজে ধরা পড়ে না। তাই বেতন বৃদ্ধির এই মুহূর্তে ব্যবসায়ী সমাজের সামনে প্রশ্নটি আসলে খুব সরল—মানুষের বাড়তি আয়ের দিকে তাঁরা মুনাফার চোখে তাকাবেন, নাকি স্বস্তির চোখে?
সরকার বলেছে, মানুষের আয় বাড়বে। এখন বাজারের আচরণই ঠিক করবে সেই ঘোষণার কতটা মানুষের ঘরে পৌঁছাবে। বাড়তি টাকা হাতে পাওয়ার আগেই যদি তার মূল্য বাজারে বেড়ে যায়, তাহলে মানুষের প্রশ্নটি খুবই স্বাভাবিক হবে—বেতনটা শেষ পর্যন্ত কার বাড়ল, মানুষের, নাকি বাজারের?
এই প্রশ্নের উত্তর বক্তৃতায় নয়, পাওয়া যাবে বাজারের দামে। আর সেই উত্তরই ঠিক করবে, বাংলাদেশের ব্যবসায়ী সমাজ মুনাফার পাশাপাশি মানুষের আস্থার মূল্য কতটা বোঝে।
সম্পাদক, প্রকাশক ও মুদ্রাকর : ড. আমানুর আমান,এম.ফিল (আইইউকে), পিএইচডি ( এনবিইউ- দার্জিলিং)
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক: শাহনাজ আমান।
কার্যালয়:- থানা ট্রাফিক মোড়, কুষ্টিয়া।মোবাইল- ০১৭১৩-৯১৪৫৭০, ইমেইল: info.dailykushtia@gmail.com
ই-পেপার কপি