
দৈনিক কুষ্টিয়া অনলাইন/
১৫ জনের উপস্থিতিতে ২৫ জনের বিল করার অভিযোগ; অভিযোগ অস্বীকার করে বিলের অসঙ্গতির কথা বললেন প্রধান সমন্বয়কারী
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) বিএনসিসির বিভিন্ন কার্যক্রমে ক্যাডেটদের নাশতা সরবরাহের বিল নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকসংলগ্ন একটি খাবারের দোকানে ২০২৪ সালের অক্টোবর-নভেম্বরে সরবরাহ করা খাবারের মোট ৪৪ হাজার ৭৬০ টাকার মধ্যে ৩৯ হাজার ৭৬০ টাকা এখনও বকেয়া রয়েছে। পাশাপাশি কয়েকটি কার্যক্রমে প্রকৃত উপস্থিতির তুলনায় বেশি ক্যাডেট দেখিয়ে বিল করার অভিযোগ উঠেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্যে ভিন্নতা রয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ইবি স্ন্যাকস অ্যান্ড বিরিয়ানি হাউজ থেকে ২০২৪ সালের ৮ অক্টোবর থেকে ২০ নভেম্বর পর্যন্ত বিএনসিসির বিভিন্ন কার্যক্রম শেষে ক্যাডেটদের জন্য খাবার নেওয়া হয়। এসব খাবারের মোট বিল দাঁড়ায় ৪৪ হাজার ৭৬০ টাকা। এর মধ্যে ২০২৫ সালের ২৫ মে তৎকালীন দায়িত্বপ্রাপ্ত উপ-রেজিস্ট্রার মিজানুর রহমান ব্যক্তিগত অর্থ থেকে ৫ হাজার টাকা পরিশোধ করেন। ফলে দোকানটিতে বর্তমানে ৩৯ হাজার ৭৬০ টাকা পাওনা রয়েছে।
দোকানের মালিক এনামুল কবির লিটন বলেন, বিএনসিসির বিভিন্ন কর্মসূচিতে তাঁর দোকান থেকে নিয়মিত নাশতা নেওয়া হলেও দীর্ঘদিন ধরে বিলের বড় একটি অংশ বকেয়া রয়েছে। তাঁর ভাষ্য, প্রায় দুই বছর ধরে টাকা পাওনা থাকায় ছোট ব্যবসা হিসেবে তিনি সমস্যায় পড়েছেন। বিষয়টি দ্রুত সমাধানের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সহযোগিতা চান তিনি।
এ বিষয়ে উপ-রেজিস্ট্রার মিজানুর রহমান বলেন, প্রশাসনিক পরিবর্তনের পর বিএনসিসির দায়িত্বে পরিবর্তন আসে। তাঁর দাবি, বিলের অর্থ পরিশোধের বিষয়ে বর্তমান দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান সমন্বয়কারীর সঙ্গে কথা বললেও আগের প্রশাসনের সময়ের অসম্পূর্ণ বিষয় নিয়ে সহযোগিতা না করার কথা তাঁকে জানানো হয়। তবে নিজের নামেই বিল করা এবং দোকানদারের আস্থার বিষয়টি বিবেচনা করে তিনি ব্যক্তিগত তহবিল থেকে ৫ হাজার টাকা পরিশোধ করেন বলে জানান। তাঁর ভাষ্য, বিশ্ববিদ্যালয় থেকে চলে যাওয়ার আগে তিনি দোকানটির পাওনা পরিশোধ করবেন।
অন্যদিকে বিএনসিসির প্রধান সমন্বয়কারী অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল বারী এ বক্তব্যের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেন। তিনি বলেন, আগের প্রশাসনের সময়ের বিল তিনি পরিশোধ করবেন না—এমন কথা তিনি বলেননি। তবে দায়িত্ব নেওয়ার পর কয়েকজন ক্যাডেট তাঁর কাছে অভিযোগ করেন, তাঁদের নাশতার নামে শুধু সিঙ্গারা দেওয়া হচ্ছে এবং কোনো কোনো ড্রিলে প্রকৃত উপস্থিতির চেয়ে বেশি ক্যাডেট দেখিয়ে বিল করা হচ্ছে।
অধ্যাপক আব্দুল বারীর দাবি, একটি ড্রিলের হিসাব যাচাই করে তিনি সেখানে ১ হাজার ৬০০ টাকা অতিরিক্ত নেওয়ার বিষয়টি দেখতে পান। তাঁর অভিযোগ, কোনো কোনো ক্ষেত্রে স্টাফদের বিলও ক্যাডেটদের বিলের সঙ্গে অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছিল, যা নিয়মসঙ্গত নয়। এ কারণে তিনি একটি ড্রিলের বিল আটকে দেন। পরে প্রকৃত উপস্থিত ক্যাডেটের সংখ্যা অনুযায়ী বিল দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
বকেয়া অর্থের বিষয়ে প্রধান সমন্বয়কারী আরও বলেন, একপর্যায়ে উপ-রেজিস্ট্রার মিজানুর রহমান তাঁর কাছে এসে ইবি স্ন্যাকসের পাওনার কথা জানান। তখন তিনি জানতে চান, সংশ্লিষ্ট ব্যয়গুলো বিল হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছিল কি না। একই সঙ্গে মিজানুর রহমান ব্যক্তিগত অর্থ থেকে ৫ হাজার টাকা পরিশোধ করায় বিষয়টি নিয়ে তাঁর মনে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে বলে জানান তিনি।
এদিকে দোকান মালিকের পাওনা ৩৯ হাজার ৭৬০ টাকা—এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্যে মূলত বিরোধ নেই। তবে বিলের কোন অংশ প্রকৃত খাবার সরবরাহের বিপরীতে, কোন অংশে সংখ্যাগত অসঙ্গতি রয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট বিলগুলো কীভাবে প্রস্তুত ও অনুমোদিত হয়েছে—তা নথিপত্র যাচাই করলেই বিষয়টি স্পষ্ট হতে পারে।
ফলে ঘটনাটির মূল প্রশ্ন এখন বকেয়া টাকা পরিশোধের পাশাপাশি বিএনসিসির নাশতা সরবরাহ ও বিল তৈরির প্রক্রিয়ায় প্রকৃত হিসাব কী ছিল—এটি নির্ধারণ করা। অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ যাচাই হলে বকেয়া অর্থের দায় এবং বিলের অসঙ্গতি—দুই বিষয়ই পরিষ্কার হবে।
সম্পাদক, প্রকাশক ও মুদ্রাকর : ড. আমানুর আমান,এম.ফিল (আইইউকে), পিএইচডি ( এনবিইউ- দার্জিলিং)
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক: শাহনাজ আমান।
কার্যালয়:- থানা ট্রাফিক মোড়, কুষ্টিয়া।মোবাইল- ০১৭১৩-৯১৪৫৭০, ইমেইল: info.dailykushtia@gmail.com
ই-পেপার কপি