
**আদালতের পর্যবেক্ষণে গোপনে পুনর্বিবাহ, যোগসাজশ ও জালিয়াতির প্রাথমিক সত্যতার উল্লেখ; তদন্তে প্রভাব বিস্তারের আশঙ্কায় জামিনের বিরোধিতা রাষ্ট্রপক্ষের**
দৈনিক কুষ্টিয়া অনলাইন /
কুষ্টিয়ায় জালিয়াতির মাধ্যমে কাবিননামা তৈরি, সেটিকে সঠিক দলিল হিসেবে উপস্থাপন এবং প্রতারণার অভিযোগে দায়ের করা একটি ফৌজদারি মামলায় দুই আসামির জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেছেন আদালত। মামলার গুরুত্ব, তদন্তের বর্তমান পরিস্থিতি এবং নথিতে উঠে আসা অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা বিবেচনায় নিয়ে আদালত আসামি অ্যাডভোকেট পি.এম. সিরাজুল ইসলাম ও অমিত হাসানকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।
কুষ্টিয়ার চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মাননীয় চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (মোঃ ফিরোজ মামুন) এ আদেশ দেন। জাল কাবিননামা সৃজন ও তা ব্যবহার করে প্রতারণার অভিযোগে চলমান মামলাটিতে জামিনের প্রশ্নটি আদালতের বিবেচনায় আসে দুই আসামির আত্মসমর্পণের পর।
আদালত সূত্রে জানা যায়, ফৌজদারি মিস-৩২/২০২৬ (কুমারখালী জি আর-২৯৭/২৬) নম্বর মামলার এজাহারভুক্ত আসামি ১. অ্যাডভোকেট পি.এম. সিরাজুল ইসলাম ও ২. অমিত হাসান হাইকোর্ট বিভাগ থেকে নির্দিষ্ট মেয়াদের আগাম জামিন পাওয়ার পর নির্ধারিত সময়ে সংশ্লিষ্ট আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করেন।
### জালিয়াতির অভিযোগের গুরুত্ব, তদন্তের স্বার্থে জামিনের বিরোধিতা
শুনানিতে আসামিপক্ষের বিজ্ঞ কৌঁসুলী দাবি করেন, আসামিরা নির্দোষ এবং মামলার ঘটনার সঙ্গে তাঁদের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। তাঁদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাটিকে পূর্বশত্রুতা ও পারিবারিক কলহের জের হিসেবে উল্লেখ করে আসামিপক্ষ জামিনের পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করেন। তাঁরা হাইকোর্ট বিভাগ থেকে নির্দিষ্ট মেয়াদের আগাম জামিন নিয়ে আইনানুগভাবে আদালতে আত্মসমর্পণ করেছেন বলেও পক্ষটির বক্তব্যে উঠে আসে।
অন্যদিকে, রাষ্ট্রপক্ষের বিজ্ঞ এডিশনাল পাবলিক প্রসিকিউটর জামিনের তীব্র বিরোধিতা করেন। রাষ্ট্রপক্ষের বক্তব্য অনুযায়ী, আসামিরা মামলার এজাহারনামীয় এবং তাঁদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধি, ১৮৬০-এর ৪৬৫, ৪৬৭, ৪৬৮, ৪৬৯ ও ৪৭১ ধারায় গুরুতর জালিয়াতি ও প্রতারণার অভিযোগ রয়েছে। মামলাটি তদন্তাধীন থাকায় আসামিরা জামিনে মুক্তি পেলে তদন্ত কার্যক্রমে প্রভাব বিস্তারের আশঙ্কা রয়েছে বলেও রাষ্ট্রপক্ষ আদালতকে অবহিত করে।
### আদালতের পর্যবেক্ষণে গোপনে পুনর্বিবাহ ও জাল কাবিননামার অভিযোগ
মামলার নথিপত্র পর্যালোচনা শেষে আদালত পর্যবেক্ষণ করেন, আসামিদের বিরুদ্ধে গোপনে পুনর্বিবাহের আয়োজন, যোগসাজশের মাধ্যমে জালিয়াতি করে কাবিননামা তৈরি এবং সেটিকে সঠিক বলে প্রকাশ করে প্রতারণার অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে।
এ পর্যবেক্ষণ মামলাটির গুরুত্বকে সামনে নিয়ে এসেছে। বিশেষত, অভিযোগের বিষয়বস্তু কেবল একটি দলিল তৈরি বা ব্যবহারের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং আদালতের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, এর সঙ্গে গোপনে পুনর্বিবাহের আয়োজন এবং যোগসাজশের অভিযোগও সংশ্লিষ্ট। তবে এসব অভিযোগের চূড়ান্ত সত্যতা নির্ধারিত হবে তদন্ত, প্রমাণের মূল্যায়ন এবং বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে।
অপরাধের গুরুত্ব ও মামলার তদন্তের বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে আদালত অ্যাডভোকেট পি.এম. সিরাজুল ইসলাম ও অমিত হাসানের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেন। একই সঙ্গে তাঁদের সি/ডব্লিউ মূলে জেল হাজতে প্রেরণের নির্দেশ দেওয়া হয় এবং মিস কেসটির নথিপত্র নিষ্পত্তি করা হয়।
### তদন্ত ও পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়াই এখন গুরুত্বপূর্ণ
আদেশের অনুলিপি পরবর্তী প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য কুষ্টিয়া মডেল থানার আমলী আদালতে পাঠানো হয়েছে বলে আদালত সূত্রে জানা যায়।
এ
সম্পাদক, প্রকাশক ও মুদ্রাকর : ড. আমানুর আমান,এম.ফিল (আইইউকে), পিএইচডি ( এনবিইউ- দার্জিলিং)
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক: শাহনাজ আমান।
কার্যালয়:- থানা ট্রাফিক মোড়, কুষ্টিয়া।মোবাইল- ০১৭১৩-৯১৪৫৭০, ইমেইল: info.dailykushtia@gmail.com
ই-পেপার কপি