July 26, 2021, 8:34 pm

২৮ বছরের খড়া কাটিয়ে কোপা জিতল মেসির আর্জেন্টিনা

 

স্পোর্টস ডেস্ক/

দীর্ঘ অপেক্ষা। ২৮ বছর কম নয়। এই দীর্ঘদিন পর শেষ হলো বিশ্বসেরা ফুটবলার লিওনেল মেসির আক্ষেপ। তার হাতে উঠলো দেশের হয়ে প্রথম কোন আন্তর্জাতিক শিরোপা। কোপা আমেরিকার ফাইনালে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বি ব্রাজিলকে হারিয়েই শিরোপায় চুমু খেলেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক মেসি। ১-০ গোলে ব্রাজিলকে হারালো আর্জেন্টিনা।
সবশেষ ১৯৮৬ দিয়েগো ম্যারাডোনার হাত ধরে বিশ্বকাপ জিতেছিল আর্জেন্টিনা। এরপর ১৯৯১ ও ১৯৯৩ সালের কোপা আমেরিকাও জিতেছে আলবিসেলেস্তেরা। এরপর আর নিজের জীবদ্দশায় আর্জেন্টিনার আন্তর্জাতিক শিরোপা দেখতে পারেননি দিয়েগো ম্যারাডোনা।

২০০৪, ২০০৭, ২০১৫ ও ২০১৬ সালের কোপা আমেরিকা ও ২০১৪ সালের ফিফা বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠেছে আর্জেন্টিনা। কিন্তু ট্রফি নিজেদের করতে পারেননি মেসি। এবার আর ভুল করলেন না সময়ের সেরা ফুটবলার। ব্রাজিল থেকেই ট্রফি নিয়ে দেশে ফিরলো আলবিসেলেস্তেরা।

রোববার ঐতিহাসিক মারাকানা স্টেডিয়ামে ফাইনাল ম্যাচটিতে আধিপত্য বিস্তার করেই খেলছিল স্বাগতিক ব্রাজিল। ম্যাচের শুরু থেকে বারবার আর্জেন্টিনার রক্ষণে হানা দেয় তারা। তবে আর্জেন্টিনা জমাট রক্ষণ ভেঙে সাফল্যের দেখা পায়নি সেলেসাওরা।

খেলা শুরু না হতেই ৩ মিনিটের মাথায় ফাউল করে হলুদ কার্ড দেখলেন ব্রাজিলের ফ্রেড। সাইডলাইনে মন্টিলকে ফাউল করায় ফ্রেড এই শাস্তি পান।

উল্টো ম্যাচের ২২ মিনিটের মাথায় রদ্রিগো ডি পলের দুর্দান্ত থ্রু বলে রেনান লোদির ভুলে এডারসনকে ফাঁকি দিয়ে ব্রাজিলের জালে বল জড়ান ডি মারিয়া।

ব্রাজিল ডিফেন্সের ওপর দিয়ে ডি পলের শট প্রথম সুযোগেই নিজের আয়ত্বে নেন ডি মারিয়া; লোদি থাকলেও তিনি রক্ষা করতে পারেননি। একা এডারসনকে ফাঁকি দিতে সমস্যা হয়নি অভিজ্ঞ ডি মারিয়ার। শুরুতেই দলকে এগিয়ে দেন এ তারকা ফরোয়ার্ড।

অফফর্মে থাকা নিকোলাস গনজালেজকে বসিয়ে ফাইনালের শুরুর একাদশে ডি মারিয়াকে জায়গা দিয়েছেন আর্জেন্টিনা কোচ লিওনেল স্কালোনি। সেই ডি মারিয়াই দলকে এনে দিলেন প্রথম সাফল্য।

১-০ গোলে এগিয়ে থেকে বিরতিতে যান লিওনেল স্কালোনির শিষ্যরা।

দ্বিতীয়ার্ধে মাঠে নেমেই ডিফেন্সিভ খেলা শুরু করে আর্জেন্টিনা। তবে আক্রমণত্মক ছিল ব্রাজিল। ৫১ মিনিটে নেইমারকে মাঝমাঠে ফাউল করে হলুদ কার্ড দেখেন লো সেলসো।

একের পর এক জোরাল আক্রমণ করতে থাকে পেলের উত্তরসূরীরা। যার সুবাদে ম্যাচের ৫২ মিনিটেই পেয়ে যায় গোলের দুর্দান্ত সুযোগ। ডি-বক্সের মধ্য থেকে সেটি কাজেও লাগিয়েছিলেন রিচার্লিসন। কিন্তু আক্রমণের শুরুতে তিনি অফসাইডে থাকায় বাতিল করা হয় গোল।

৫৫ মিনিটে মার্টিনিজের দারুণ সেভে রক্ষা পায় আর্জেন্টিনা। ডান দিক থেকে নেইমারের বাড়ানো বলে শট নিয়েছিলেন রিচার্লিসন। কিন্তু মার্টিনেজকে ফাঁকি দিতে পারেনি বল।

৫৪ মিনিটের মাথায় পারেদেসকে তুলে নিয়ে রডরিগেজকে মাঠে নামায় আর্জেন্টিনা। ৫৫ মিনিটের মাথায় রিচার্লিসনের আক্রমণ প্রতিহত করেন আর্জেন্টিনা গোলকিপার মার্টিনেজ। ৬৩ মিনিটে লো সেলসোকে তুলে নিয়ে ট্যাগলিয়াফিকোকে মাঠে নামায় আর্জেন্টিনা। ৬৩ মিনিটে এভার্টনকে তুলে নিয়ে ভিনিসিয়াস জুনিয়রকে মাঠে নামায় ব্রাজিল।

৬৮ মিনিটের মাথায় হলুদ কার্ড দেখেন আর্জেন্তিনার ডি’পল। ৭০ মিনিটের মাথায় ডি’পলকে ফাউল করে হলুদ কার্ড দেখেন ব্রাজিলের রেনান লোদি। ৭১ মিনিটে পাকুয়েতার শট লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে উঠছে ম্যাচ। ৭২ মিনিটের মাথায় ট্যাগলিয়াফিকোকে ফাউল করার জন্য রেফারি হলুদ কার্ড দেখান ব্রাজিলের পাকুয়েতাকে। ৭৬ মিনিটে রেনান লোদি ও পাকুয়েতাকে তুলে নিয়ে ব্রাজিল মাঠে নামায় এমার্সন ও বারবোসাকে।

৭৯ মিনিটে একসঙ্গে তিনজন পরিবর্ত ফুটবলারকে মাঠে নামায় আর্জেন্টিনা। রোমেরো, ডি মারিয়া ও এল মার্টিনেজকে তুলে নিয়ে আর্জেন্টিনা মাঠে নামায় পেজেল্লা, পালাসিয়স ও গঞ্জালেজকে। ৮১ মিনিটের মাথায় হলুদ কার্জ দেখেন আর্জেন্টিনার ওতামেন্দি। ওতামেন্দির চ্যালেঞ্জের পর আগ্রাসী আচরণের জন্য ৮২ মিনিটে হলুদ কার্ড দেখেন ব্রাজিলের মারকিনহোস। ৮৩ মিনিটে পেজেল্লার আক্রমণ ব্যাহত হয় ভিনিসিয়াসের পায়ে। ৮৩ মিনিটের মাথায় ২৫ গজ দূর থেকে দানিলোর শট ক্রসবারের উপর দিয়ে মাঠের বাইরে উড়ে যায়। ৮৫ মিনিটের মাথায় নেইমারের কর্ণার কিক থেকে হেডে আর্জেন্টিনার জালে বল জড়ানোর চেষ্টা করেন থিয়াগো সিলভা।

তবে তার হেডার ক্রসবারের উপর দিয়ে মাঠের বাইরে চলে যায়। ৮৯ মিনিটের মাথায় হলুদ কার্ড দেখেন আর্জেন্টিনার মন্তিয়েল। তার আগে ৮৭ মিনিটের মাথায় বারবোসার শট প্রতিহত করেন আর্জেন্টিনা গোলকিপার মার্টিনেজ।

৮৯ মিনিটের মাথায় গোলের সহজ সুযোগ নষ্ট করেন মেসি। ৬ গজ দূরত্ব থেকে ব্রাজিলের গোলকিপারকে পরাস্ত করলেই আর্জেন্টিনা লিড বাড়িয়ে নিতে পারত। সুযোগ নষ্ট করেন মেসি। দ্বিতীয়ার্ধে ৫ মিনিট সময় সংযোজিত হয়। ৯০+৩ মিনিটে ডি’পলের আক্রমণ প্রতিহত করেন এডারসন। দারুণভাবে আর্জেন্টিনার জাল অক্ষত রাখেন সেমিফাইনালের নায়ক এমিলিয়ানো মার্টিনেজ। আর্জেন্টিনা চোয়ালবদ্ধ প্রতিজ্ঞায় সামলেছে সব আক্রমণ।

এরপর বাজল শেষ বাঁশি, এল সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। অবিশ্বাস্য সে মুহূর্ত। যার অভাব আর্জেন্টিনাকে ২৮ আর মেসিকে পুরো ক্যারিয়ারজুড়েই উপহার দিয়েছে হতাশা, সে অভাব ঘুচল। আর কোন গোলের দেখা পায়নি দুই দল। এতেই ৭১ বছর পর মারকানায় হার নিয়ে মাঠা ছাড়ল তিতের শিষ্যরা।

ফাইনালে ম্যাচে খেলা নিয়ে অনেক অনিশ্চয়তা ছিল আর্জেন্টিনা দলের অন্যতম সেরা ডিফেন্ডার ক্রিশ্চিয়ান রোমেরোর। অবশেষে তাকে নিয়েই সাজানো হয়েছিল একাদশ। লাউতারো মার্টিনেজকে মাঝে রেখে ৪-৩-৩ ফর্মেশনে একাদশ সাজিয়েছিলেন স্কালোনি।

অন্যদিকে সেমিফাইনালের মতো এ ম্যাচেও ৪-২-৩-১ ফর্মেশনে একাদশ সাজিয়েছিলেন ব্রাজিল কোচ তিতে। তবে সেমিফাইনালে স্ট্রাইকার পজিশনে ছিলেন রিচার্লিসন। ফাইনালে নেইমারকে স্ট্রাইকার পজিশনে দিয়ে একই ফর্মেশনে দল সাজিয়েছিলেন ব্রাজিল কোচ।

নিউজটি শেয়ার করুন..


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

পুরোনো খবর এখানে,তারিখ অনুযায়ী

MonTueWedThuFriSatSun
   1234
262728293031 
       
       
       
    123
       
     12
31      
      1
2345678
16171819202122
23242526272829
3031     
     12
3456789
10111213141516
17181920212223
242526272829 
       
© All rights reserved © 2021 dainikkushtia.net
Design & Developed BY Anamul Rasel