June 26, 2022, 8:49 pm

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত দৈনিক কুষ্টিয়া অনলাইন পোর্টাল
সংবাদ শিরোনাম :
পদ্মা সেতু/ স্বস্তির দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া ঘাট, ১০ মিনিটেই মিলছে ফেরি বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী ভর্তি/আইন সংশোধন করে ডোপ টেস্ট বাধ্যতামূলক হচ্ছে পদ্মা সেতু হবে না/কারা কি বলেছিলেন সেদিন স্বপ্ন ও সাহসের দোয়ার উন্মেচন/পদ্মা সেতু আমাদের অহংকার, সক্ষমতা ও মর্যাদার প্রতীক : প্রধানমন্ত্রী পদ্মা সেতু/অমিত তেজে মাথা তুলে দাঁড়াবে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল সারা দেশে অবৈধ মোটরসাইকেলের বিরুদ্ধে পুলিশি অভিযানের সিদ্ধান্ত প্রাক-প্রাথমিকের মেয়াদ দুই বছর অনুমোদন পানি বৃদ্ধি ও ফেরির ধীর গতি/রাত থেকে দৌলতদিয়া ঘাটে যানজট মাস্ক অনুসরণের উপর জোর/করোনা সংক্রমণ বেড়েই চলছে, পরীক্ষা বিবেচনায় শনাক্তের হার ১৩ শতাংশ পদ্মা সেতু/কলকাতা থেকে ভোমরা হয়ে ৬ ঘণ্টায় ঢাকায়

বহুবিবাহ আইনের ৬ ধারা অসাংবিধানিক ঘোষণার আবেদন

দৈনিক কুষ্টিয়া অনলাইন/
বহুবিবাহের অনুমতি সংক্রান্ত মুসলিম পারিবারিক আইনের ৬ ধারা অসাংবিধানিক ঘোষণার আবেদন জানানো হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট ইশরাত হাসান সোমবার (১৩ ডিসেম্বর) হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় এই রিটটি দায়ের করেন। রিটে আইন সচিব, লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক সচিব এবং ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সচিবকে বিবাদী করা হয়েছে।
আবেদনে বলা হয়েছে, ইসলাম ধর্মে এক স্ত্রী থাকা অবস্থায় পুরুষের একাধিক বিয়ে করার বিধান রয়েছে। একসঙ্গে চারজন পর্যন্ত স্ত্রী রাখার অনুমতি থাকলেও পবিত্র কুরআনে সকল স্ত্রীর সমান অধিকার নিশ্চিত করার জন্য জোর তাগিদ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু ১৯৬১ সালের মুসলিম পারিবারিক আইনের ৬ ধারায় বহু বিবাহের যে বিধান করা হয়েছিল তাতে সকল স্ত্রীর সমান অধিকার নিশ্চিত করার বিষয়টি উপেক্ষিত।
যদিও স্বামীর বহুবিবাহের ফলে বর্তমান স্ত্রীর ক্ষতিগ্রস্ত হবার সম্ভাবনা বেশি তথাপি সালিশি কাউন্সিলকে অনুমতি দেয়ার সর্বময় ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে যা বর্তমান স্ত্রীর সাংবিধানিক অধিকারকে ক্ষুণ্ণ করে।
আইনজীবী ইশরাত হাসান আরও বলেন, মুসলিম পারিবারিক আইনের বিষয়ে পারিবারিক আদালতে উপর্যুক্ত কর্তৃপক্ষ, কিন্তু এখানে বহুবিবাহের মতো গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু কেবল সালিশি কাউন্সিলের হাতে দেয়া হয়েছে যা নারীর মৌলিক অধিকারের পরিপন্থী।
উন্নত মুসলিম দেশে বহুবিবাহের ক্ষেত্রে স্বাস্থ্য পরীক্ষার সনদ, আর্থিক সক্ষমতার সনদ ইত্যাদি দাখিল করে বর্তমান স্ত্রীর বক্তব্য শুনানি করে আদালতের অনুমতি নিতে হয়।
তিনি জানান, ইসলামে বলা হয়েছে দ্বিতীয় বিয়ে করলে সবার প্রতি সমান অধিকার থাকবে। কিন্তু সেটা মানা হচ্ছে না। আর বিয়ের ক্ষেত্রে নারীদের সাংবিধানিক অধিকার সংরক্ষণ করা হয়নি। আমরা জানি, মালয়েশিয়ায় দ্বিতীয় বিয়ে করতে আদালতের অনুমতি লাগে। কারণ আদৌ তার বিয়ের সামর্থ আছে কিনা সাক্ষী তলব করে তাদের জিজ্ঞেস করা হয়। তারপরে অনুমতি দেওয়া হয়।
এ ছাড়া বলা হয় চেয়ারম্যান এর অনুমতি নিতে। দেখা গেল চেয়ারম্যান তার পরিবারের সামর্থের বিষয়টি জানেন না। আর চেয়ারম্যান নিজেও বিয়ে করতে পারেন। তার বেলায় কী হবে এসব প্রশ্ন সামনে আসে।
তিনি বলেন, কিন্তু আমাদের দেশে সালিশি কাউন্সিলের সাক্ষ্য-প্রমাণ নেওয়ার আইনগত সুযোগ নেই। বহুবিবাহের বর্তমান যে বিধান রয়েছে তা সংশোধন করে আরও কঠোর করা উচিত। এসব নিয়ে রিট দায়ের করা হয়েছে।
পুরুষের ক্ষেত্রে বহুবিবাহ আইন/
আইন অনুযায়ী, এক স্ত্রীর বর্তমানে আরেকটি বা একাধিক বিয়ে করাকে বহুবিবাহ বলে। কোনো ব্যক্তির স্ত্রী বর্তমান থাকাকালে আরেকটি বিয়ে করার প্রয়োজন হয়, তবে তিনি বর্তমান স্ত্রী বা স্ত্রীদের মধ্যে সর্বশেষ স্ত্রীর কাছে এবং এলাকার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের কাছে আরেকটি বিয়ে করার অনুমতি চেয়ে আবেদন করতে পারবেন।
মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ ১৯৬১-এর ৬ ধারামতে, দ্বিতীয় বিয়ের ক্ষেত্রে সালিশি পরিষদের কাছে অনুমতি না নিলে বিয়ে নিবন্ধন হবে না। অনুমতির জন্য নির্ধারিত ফি জমা দিয়ে চেয়ারম্যানের কাছে আবেদন করতে হবে।
এ আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিয়ের অনুমতি দিতে যে বিষয়গুলো বিবেচনা করা হবে/
১. বর্তমান স্ত্রীর বন্ধ্যাত্ব ২.মারাত্মক শারীরিক দুর্বলতা ৩.দাম্পত্যজীবন সম্পর্কিত শারীরিক অযোগ্যতা ৪. দাম্পত্য অধিকার পুনর্বহালের জন্য আদালত থেকে প্রদত্ত কোনো আদেশ বা ডিক্রি বর্জন ও ৫. মানসিকভাবে অসুস্থতা ইত্যাদি।
কোনো পুরুষ যদি সালিশি পরিষদের অনুমতি ছাড়া দ্বিতীয় বিয়ে করেন, তবে অবিলম্বে তাকে বর্তমান স্ত্রী বা স্ত্রীদের আশু বা বিলম্বিত দেনমোহরের সম্পূর্ণ টাকা সঙ্গে সঙ্গে পরিশোধ করতে হবে। বর্তমান স্ত্রী বা স্ত্রীরা আদালতে মামলা করে বিবাহবিচ্ছেদের আবেদন করার অধিকার রাখেন।
দ্বিতীয় বিয়ে করার কারণে প্রথম স্ত্রী আলাদা বসবাস করার সিদ্ধান্ত নিলেও তিনি ভরণপোষণ পাবেন। এ ক্ষেত্রে নাবালক সন্তানদের ভরণপোষণ দিতে হবে বাবাকে। ভরণপোষণের পাশাপাশি স্ত্রী ও সন্তানদের উত্তরাধিকারের অধিকার কোনো অবস্থাতেই খর্ব হবে না।
এছাড়া স্বামী অনুমতি না নেওয়ার অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হলে এক বছর পর্যন্ত জেল ও ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ড কিংবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন।

 

নিউজটি শেয়ার করুন..


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

পুরোনো খবর এখানে,তারিখ অনুযায়ী

MonTueWedThuFriSatSun
  12345
27282930   
       
14151617181920
28      
       
       
       
    123
       
     12
31      
      1
2345678
16171819202122
23242526272829
3031     
     12
3456789
10111213141516
17181920212223
242526272829 
       
© All rights reserved © 2021 dainikkushtia.net
Design & Developed BY Anamul Rasel