July 30, 2021, 3:53 am

৮০ বছরের মধ্যে বাংলাদেশের জনসংখ্যা অর্ধেকে নেমে আসবে !

সুত্র, গার্ডিয়ান থেকে অনূদিত/
এক সমীক্ষায় দেখা গেছে যে শতাব্দীর শেষ নাগাদ বিশ্বের জনসংখ্যা জাতিসংঘের পূর্বাভাসের চেয়ে ২ বিলিয়ন কম হতে পারে। এই ধরণের পতন প্রাকৃতিক সম্পদের উপর কিছুটা অনুমানিত কারন হলেও মুলত ঘটবে নারী স্বাস্থ্য উন্নত হবার কারনে। যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটির এক গবেষণায় উঠে এসেছে এ তথ্য। ১৬ জুলাই মেডিকেল জার্নাল দ্য ল্যানসেটে প্রকাশিত হয়েছে গবেষণা প্রতিবেদনটি।
গবেষণা অনুসারে, ৮০ বছর পর বিশ্বের মোট জনসংখ্যা হতে পারে ৮৮০ কোটি, যা জাতিসংঘের পূর্বানুমানের চেয়ে প্রায় ২০০ কোটি কম। বিশ্বের জনসংখ্যা সর্বোচ্চ থাকবে ২০৬৪ সালে, প্রায় ৯৭০ কোটি।
গবেষণায় বিভিন্ন মহাদেশের যে চিত্র উঠে এসেছে তাতে জাপান, স্পেন এবং ইতালি সহ কয়েকটি দেশ তাদের জনসংখ্যা অর্ধেক দেখতে পাবে। যার মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশের অবস্থান। গবেষণায় দেখানো হয়েছে, ৮০ বছর পর বাংলাদেশের জনসংখ্যা কমে ৮ কোটি ১৩ লাখে দাঁড়াতে পারে। তবে ২০৩০ সালের মধ্যে জাতিসংঘ ঘোষিত টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জিত হলে এই সংখ্যা আরও কমার সম্ভাবনা রয়েছে। কারন এখানে নারী স্বাস্থ্য উন্নত হবে। ২০১৭ সালে বাংলাদেশের জনসংখ্যা ছিল ১৫ কোটি ৬৯ লাখ। ৮০ বছর পর এই সংখ্যা কমে দাঁড়াবে ৮ কোটি ১৩ লাখে। তবে ২০৩০ সালের মধ্যে এসডিজি অর্জিত হলে তা আরও কমে হবে ৭ কোটি ৪১ লাখ। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের জনসংখ্যা সবচেয়ে বেশি থাকবে ২০৩৯ সালে। ওই সময় দেশের মোট জনসংখ্যা হতে পারে প্রায় ১৭ কোটি ৩৪ লাখ।
একই সাথে এটি বলেছে যে সাব-সাহারান আফ্রিকার জনসংখ্যা আগামী ৮০ বছরে তিনগুণ বেড়ে যাবে। বয়স্ক লোকের সংখ্যা তরুদের ছাড়িয়ে যাবে। ২১০০ সালের মধ্যে ৬৫ বছর বয়োসোর্ধ্বদের সংখ্যা দাঁড়াবে প্রায় ২৪০ কোটি, বিপরীতে ২০ বছরের কম বয়সীদের সংখ্যা হবে মাত্র ১৭০ কোটি।
জনসংখ্যা সঙ্কুচিত করার প্রধান কারণগুলি হলো গর্ভনিরোধের প্রক্রিয়ায় প্রবেশ প্রশস্ত করা এবং নারী ও মেয়েদের শিক্ষায় উন্নতি করা। যদি এই প্রবণতাগুলি কমানো হয় তবে উচ্চতর বিকাশ ঘটবে। উদাহরণস্বরূপ, যদিও সাব-সাহারান আফ্রিকার জনসংখ্যা আরও বাড়ার পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে, তবে এর উর্বরতার হার ২০১৭ সালে মহিলাদের প্রতি ৪.৬ জন্ম থেকে কমিয়ে ২১০০ এর মধ্যে ১.৭ এ নেমে যাবে বলে পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে। যদি উর্বরতার এই হ্রাস বাস্তবায়িত হতে না পারে তবে সামগ্রিক বৃদ্ধি অনেক বেশি হবে ।
সিয়াটলের ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট ফর হেলথ মেট্রিক্স অ্যান্ড ইভালুয়েশন (আইএইচএমই) -এর পরিচালক, ক্রিস্টোফার মারে, যিনি গবেষণার প্রধান লেখক বলছেন সরকার যদি ইমিগ্রেশন গ্রহণের বিষয়ে কঠোর নীতি বেছে নেয় তবে এটি নেতিবাচক পরিণতির সম্ভাবনা খুলে দেবে।
আইএইচএমই-এর এবং স্টেইন এমিল ভলসেট এবং গবেষণাপত্রের প্রথম লেখক বলেছেন, জনসংখ্যার কাঠামোর পরিবর্তনের ফলে বিশেষ সংশয় সৃষ্টি হবে। “জনসংখ্যা হ্রাস কার্বন নিঃসরণ হ্রাস এবং খাদ্য ব্যবস্থার উপর চাপ কমাতে সম্ভাব্য সুসংবাদ, যেখানে আরও বেশি বয়স্ক ব্যক্তি এবং কম অল্প বয়সী মানুষ রয়েছে যারা অনেক বেশী সুবিধাজনক অবস্থানে থাকবে। তিনি বলেন অভিভাসন অবশ্যই ভবিষ্যতের একটি বৃহত অংশ হতে হবে, গবেষণার লেখকরা পরামর্শ দিয়েছেন যে আরও উদার অভিবাসন নীতি না থাকলে ২৩ টি দেশের জনসংখ্যা অর্ধেক হওয়ার পূর্বাভাস রয়েছে, এর মধ্যে জাপান, থাইল্যান্ড, ইতালি এবং স্পেন রয়েছে।
গবেষণায় জড়িত নন, লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের এপিডেমিওলজির অধ্যাপক ইব্রাহিম আবু বাকারের মতে স্থির থাকা এখনও বিকল্প নয়। তিনি অবাধ চলাচলের উপর নিষেধাজ্ঞার চেয়ে জাতিসমুহের জনগনের জীবনামান উন্নত করার উপায় নিয়ে কাজ করা উচিত।

নিউজটি শেয়ার করুন..


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

পুরোনো খবর এখানে,তারিখ অনুযায়ী

MonTueWedThuFriSatSun
       
       
    123
       
     12
31      
      1
2345678
16171819202122
23242526272829
3031     
     12
3456789
10111213141516
17181920212223
242526272829 
       
© All rights reserved © 2021 dainikkushtia.net
Design & Developed BY Anamul Rasel