April 23, 2021, 11:56 pm

খিচুড়ি প্রকল্পের অনেক বরাদ্দ নিয়েই অনেক প্রশ্ন, বাতিলের সুপারিশ

দৈনিক কুষ্টিয়া প্রতিবেদক/
খিচুড়ি প্রকল্পের অনেক বরাদ্দ নিয়েই অনেক প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। খিচুড়ি রান্না শিখতে কর্মকর্তাদের বিদেশ সফরের বিষয়টি বাতিলের সুপারিশ করেছে পরিকল্পনা কমিশন। তবে কমিশন অনেক বরাদ্দের বিষয়ে অনেক প্রশ্ন নিয়ে এখন উত্তর খুঁজছে।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) প্রকল্পটি নিয়ে পরিকল্পনা কমিশনের আর্থ-সামাজিক অবকাঠামো বিভাগ প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটি (পিইসি) সভা করেছে। পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য (সচিব) আবুল কালাম আজাদ পিইসি সভায় সভাপতিত্ব করেন। সভায় দেশে ও বিদেশে প্রশিক্ষণের অংশ বাদ দেওয়ার সুপারিশ করা হয়।
বিভিন্ন খাতের বরাদ্দ নিয়ে নানা প্রশ্নও উত্থাপিত হয়েছে। পরিকল্পনা কমিশন সূত্র জানায়, মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট ফরটিফাইড বিস্কুট এবং পুষ্টিকর রান্না করা খাবার- এই দুই ধরনের খাবারের মডালিটিজ কার্যকর করা হবে। জাতীয় ও মাঠ পর্যায়ে প্রশিক্ষণ, প্রোগ্রাম পর্যালোচনা কর্মশালা, ওরিয়েন্টেশন ওয়ার্কশপ এবং ইস্যুভিত্তিক প্রযুক্তিগত সেমিনার, প্রকল্পভুক্ত প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় খাদ্য এবং বিস্কুট সংরক্ষণ, বিতরণ ও মনিটরিংয়ের জন্য বেসরকারি সংস্থা (এনজিও) নিয়োগ করা হবে। যেসব স্কুল রান্না ঘর তৈরি করবে এবং রান্নার সরঞ্জামাদি সামাজিকভাবে জোগাড় করবে সেখানেই কেবল রান্না করা খাবার সরবরাহ করা হবে। এ ক্ষেত্রে কতগুলো স্কুল তা করতে পারবে সে ধরনের কোনো তথ্যও এখানে উল্লেখ নেই প্রকল্পে।
প্রকল্পের আওতায় কিছু কিছু আইটেম বাবদ ৭ কোটি ৫০ লাখ, আসবাব পত্র বাবদ ২ কোটি টাকা চাওয়া হয়েছে। এছাড়া প্রকল্পের আওতায় একটি জিপ ও ছয়টি মাইক্রোবাস কিনতে ৩ কোটি ৫০ লাখ টাকা চাওয়া হয়েছে। পেট্রোল, অয়েল ও লুব্রিকেন্ট বাবদ ৮০ লাখ টাকা, যানবাহন ও যাতায়াত বাবদ ২০ লাখ টাকা, বিশেষভাবে যানবাহন মেরামত বাবদ দেড় কোটি চাওয়া হয়েছে। পরিকল্পনা কমিশন ব্যয়ের প্রস্তাব যৌক্তিক করার নির্দেশ দিয়েছে।
খাদ্য কেনা বাবদ ১৭ হাজার ১৮৫ কোটি ৮৩ লাখ টাকা, খাদ্য বিতরণ ফি বাবদ ১ হাজার ৭১৮ কোটি ৫৮ লাখ, প্রাইজ কন্টিনজেন্সি খাতে ১৯০ কোটি ৮৭ লাখ টাকা চাওয়া হয়েছে। প্রকল্পের আওতায় প্লেট কেনা বাবদ ১১৩ কোটি ৫৪ লাখ টাকা চাওয়া হয়েছে। তবে কতটি প্লেট কেনা হবে তার সংখ্যা উল্লেখ করেনি ডিপিই। ডিপিপিতে কি তথ্যের ভিত্তিতে এ সকল খাতের ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে তা বোধগম্য হচ্ছে না পরিকল্পনা কমিশনের। এই বিষয়টির যৌক্তিকতাসহ বিস্তারিত বিবরণ জানতে চেয়েছে পরিকল্পনা কমিশন।
প্রাইমারি স্কুল ফিডিং কর্মসূচির আওতায় একটি প্রকল্পে বিদেশে গিয়ে ডিম-খিচুড়ি, সবজিসহ অন্যান্য খাবার রান্না ও প্রসেসিং শিখতে পাঁচ কোটি টাকা চাওয়া হয়েছিল। এছাড়া দেশে একই বিষয়ে প্রশিক্ষণের জন্য আরও চাওয়া হয়েছিল ১০ কোটি টাকা।
প্রকল্পের আওতায় প্রস্তাবটি করেছিল প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর (ডিপিই)। সংবাদটি গণমাধ্যমে প্রকাশের পর দেশব্যাপী সমালোচনার সৃষ্টি হয়।
বর্তমানে ৩৩ লাখের মতো শিশু প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বাইরে রয়েছে। বিভিন্ন কারণে তারা স্কুলে যাচ্ছে না। খাবার বিতরণের ফলে শিশুরা স্কুলে যাবে এবং তাদের পুষ্টিগত সমস্যা নিরসন হবে বলে দাবি ডিপিইর। ১৯ হাজার ২৮২ কোটি ৭২ লাখ ২৫ হাজার টাকা ব্যয়ের এই কর্মসূচির মাধ্যমে ১ কোটি ৪৭ লাখ ৮০ হাজার শিক্ষার্থীকে খাদ্য সরবরাহ করা হবে। প্রকল্পের আওতায় সপ্তাহে তিনদিন শিক্ষার্থীদের দুপুরে খিচুড়ি-ডিম ও সবজি দেওয়া হবে। বাকি তিন দিন দেওয়া হবে পুষ্টিকর বিস্কুট।
পরিকল্পনা কমিশন সূত্র জানায়, প্রকল্পের ডিপিপিতে (উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবনা) শিশুদের খাবার বিতরণ খরচ ১ হাজার ৭১৮ কোটি ৫৮ লাখ টাকা।

 

নিউজটি শেয়ার করুন..


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

পুরোনো খবর এখানে,তারিখ অনুযায়ী

MonTueWedThuFriSatSun
   1234
2627282930  
       
       
       
    123
       
     12
31      
      1
2345678
16171819202122
23242526272829
3031     
     12
3456789
10111213141516
17181920212223
242526272829 
       
© All rights reserved © 2021 dainikkushtia.net
Design & Developed BY Anamul Rasel