November 30, 2020, 7:19 pm

সংবাদ শিরোনাম :

আলমডাঙ্গায় লাঠি খেলার আয়োজন

জহির রায়হান সোহাগ, চুয়াডাঙ্গা/ 

বাংলাদেশে ইতিহাস-সংস্কৃতির অংশ হিসেবে বাঙালির রক্তে মিশে ছিল ঐতিহ্যবাহী লাঠিখেলা, যা কালের বিবর্তনে এখন প্রায় বিলুপ্তির পথে। আগের মতো লাঠিখেলা দেখা না গেলেও ঐতিহ্য আর সংস্কৃতির ধারক হিসেবে কয়েকটি এলাকার লাঠিয়াল দল এখনো ধরে রেখেছেন গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী এই খেলাটি। লাঠিখেলায় শুধু লাঠি দিয়ে খেলাই হয় না, সঙ্গে প্রদর্শন করা হয় নানা রকম শারীরিক কসরত। যেসব বাঙালি ঐতিহ্য, সংস্কৃতি, গ্রামীণ খেলাধুলা কালের গর্ভে হারিয়ে যেতে বসেছে, তার মধ্যে অন্যতম একটি লাঠিখেলা।

গেল শনিবার চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় হয়ে গেল দিনব্যাপী গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী এই লাঠিখেলা। করোনাভাইরাস মহামারীর সময়ে একটু বিনোদন ও প্রশান্তি পেতে এ ব্যতিক্রমধর্মী খেলার আয়োজন। খেলা দেখতে ভীড় জমান কয়েক হাজার দর্শক। প্রয়োজনীয় পৃষ্ঠপোষকতায় গ্রামীণ ঐতিহ্য ওই খেলার লাঠিখেলাকে টিকিয়ে রাখার দাবি তাদের।

গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী লাঠি খেলা গ্রামাঞ্চলের মানুষের নির্মল বিনোদনের অন্যতম মাধ্যম। যেসব বাঙালির ঐতিহ্য, সংস্কৃতি, গ্রামীণ খেলাধুলা কালের গর্ভে হারিয়ে যেতে বসেছে, তার মধ্যে অন্যতম একটি লাঠিখেলা। দিন দিন হারিয়ে যেতে বসেছে গ্রামীণ খেলাগুলো। এসব হারিয়ে যাওয়া খেলা নিয়ে উৎসব করে থাকেন গ্রামের মানুষ। চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গার বেলগাছি গ্রামে হয়ে গেল দিনব্যাপী ঐতিহ্যবাহী লাঠি খেলার আসর । গেল শনিবার বেলগাছি-পোয়ামারি কল্যাণ পরিষদের উদ্যোগে ওই ঐতিহ্যবাহী খেলার আয়োজন করা হয়। আর এই আয়োজনকে কেন্দ্র করে ছড়িয়ে পড়ে উৎসবের আমেজ। বাদ্যের তালে তালে ঘুরছে লাঠি। তারপর শুরু হয় লাঠিয়ালদের কেরামতি। শক্ত হাতে প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে দেখাতে থাকেন ভেলকি। যেখানে জয়-পরাজয় মুখ্য নয়। বরং দর্শকদের বিনোদন দিতেই এমন আয়োজন। ঐতিহ্যবাহী এই খেলা দেখতে আগ্রহের কমতি নেই গ্রামবাসীর। খেলা দেখতে ভীড় জমান কয়েক হাজার নারী-শিশুসহ সব বয়সী মানুষ। কেউ খেলা দেখছেন মাটিতে বসে, কেউবা গাছে চড়ে। লাঠিয়ালদের অপূর্ব কৌশল দেখে মুগ্ধ দর্শকরা। নিয়মিত এমন আয়োজন দেখতে চান তারা। শত বছরের পুরোনো এই খেলা ধরে রাখতে খেলোয়াড়দের পাশাপাশি উদ্যোগ নিতে হবে প্রশাসন ও আয়োজকদের বলে জানান দর্শকরা।

খেলায় চুয়াডাঙ্গা ও কুষ্টিয়ার ৪টি দল অংশ গ্রহণ করে। স্থানীয় লাঠিয়াল খেলোয়াড়ের দল ছাড়াও দেশের প্রখ্যাত কুষ্টিয়ার লাঠিয়াল মরহুম সিরাজুল ইসলামের ছেলে বাংলাদেশ লাঠিয়াল বাহিনির ভাইস চেয়ারম্যান জহুরুল হক চৌধুরীসহ তার দল অংশগ্রহণ করে। চুয়াডাঙ্গার ৭১ ও কুষ্টিয়ার লাঠিয়াল বাহিনীতে ৩১ জন লাঠিয়াল অংশ নেয়। এরমধ্যে কিশোর ও কিশোরী লাঠিয়ালদের দক্ষ উপস্থাপনা ছিলো দেখার মতো। খেলা শেষে চ্যাম্পিয়ন ও রানার্স আপ দলের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। এতে বিজয়ী হয় কুষ্টিয়ার লাঠিয়াল বাহিনী ও রানার আপ হয় আলমডাঙ্গার বেলগাছির লাঠিয়াল বাহিনী।

সাফল্যের ধারাবাহিকতায় আগামী বছরও এমন আয়োজন করতে চান বলে জানান আয়োজক বেলগাছি-পোয়ামারি কল্যাণ পরিষদের সভাপতি আতিয়ার রহমান। তিনি জানান, গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যকে ধরে রাখতে হলে সম্মিলিত উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। এই ধরণের আয়োজনের মধ্যদিয়ে পুরোনো সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে নতুন প্রজন্মকে জানান দিতে হবে।

সংগঠনটির সাংগঠনিক সম্পাদক আলমডাঙ্গা সরকারি কলেজের ইংরেজি বিভাগের প্রভাষক আমিরুল ইসলাম জয় জানান,বর্তমান প্রজন্ম ফেইসবুক, টুইটার, ইউটিউব, ইন্টারনেট গেম নিয়ে ব্যস্ত। বাংলার ঐতিহ্যবাহী খেলাগুলোকে ভুলে যেতে বসেছে তারা। বাংলাদেশে ঐতিহ্যবাহী লাঠি খেলা টিকিয়ে রাখার পিছনে এই খেলায় অংশ গ্রহণকারী দলগুলো অপরিসীম ভূমিকা রেখেছে।

প্রয়োজনীয় পৃষ্ঠপোষকতার মাধ্যমে লাঠিখেলাকে টিকিয়ে রাখার দাবি স্থানীয়দের।

 

 

 

 

 

নিউজটি শেয়ার করুন..


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

পুরোনো খবর এখানে,তারিখ অনুযায়ী

MonTueWedThuFriSatSun
     12
31      
      1
2345678
16171819202122
23242526272829
3031     
     12
3456789
10111213141516
17181920212223
242526272829 
       
© All rights reserved © 2020 dainikkushtia.net
Design & Developed BY Anamul Rasel