April 23, 2021, 6:01 pm

সংবাদ শিরোনাম :
কুমারখালীর দয়রামপুর দধি ভান্ডারের মালিক বাবলু ঘোষকে হুমকি ঘুম ভেঙে দিয়েছে’ অভিযোগ এনে ভাতিজার মাথায় ফুটন্ত গরম ভাত নিক্ষেপ চাচার প্রজ্ঞাপন/ রোববার থেকে দোকান-শপিংমল খোলা অল্পের জন্য রক্ষা পেল কুষ্টিয়ার কম্পিউটার মার্কেট কুষ্টিয়ার সড়কে বালু নিয়ে ছুটছে অবেধ ট্রলি করোনা ব্যবস্থাপনা নিয়ে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের সাথে কুষ্টিয়া নাগরিক কমিটির মতবিনিময় সর্বাত্মক লকডাউনের দ্বিতীয় ধাপ শুরু ঝিনাইদহে ৩১, রাজবাড়ী ৩৩/১১ কোটি টাকা প্রণোদনা পাচ্ছেন ২৬৭৯ নার্স চুয়াডাঙ্গা ও কুষ্টিয়া অঞ্চলে তীব্র তাপদাহ, থাকবে আরও কয়েকদিন আগের বিয়ে নিয়ে কলহ/ বিয়ের ১০ দিনেই শশুর বাড়িতে নববধূর ঝুলন্ত লাশ

বাংলাদেশে করোনার উৎসস্থল ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ, ছড়ায় ৪৭ জেলায়

দৈনিক কুষ্টিয়া প্রতিবেদন//*/

দেশে করোনা প্রাদুর্ভাবের আজ ৪৭তম দিন। অনেক প্রশ্ন। কোথায় ছিল এর উৎসস্থল। এখন এটা পরিস্কার যে ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জই ছিল বাংলাদেশে করোনার উৎসস্থল। এখান থেকেই ছড়িয়ে পড়ে ২৯ জেলায়। এ পর্যন্ত দেশে মোট আক্রান্তের ৮৪ শতাংশ রোগী শনাক্ত হয়েছে ঢাকা বিভাগে। এর মধ্যে রাজধানীতে আক্রান্ত মোট রোগীর ৪৩ দশমিক ২০ শতাংশ ও নারায়ণগঞ্জে ২৮ শতাংশ। এ পর্যন্ত শুধু ঢাকা শহরেই করোনায় মারা গেছেন মোট ৬০ জন ও নারায়ণগঞ্জে ৩৬ জন। বুধবার (২২ এপ্রিল) পর্যন্ত সারা দেশে যে ১২০ জনের মৃত্যু হয়েছে, এর মধ্যে ৯৬ জনই রাজধানী ও নারায়ণগঞ্জের।
তথ্য বলছে, নারায়ণগঞ্জেই প্রথম করোনা শনাক্ত হয়। ইতালি থেকে একদল লোক এসে এখানে ছড়ান।

এ দুই জায়গা থেকে রোগটি ছড়িয়ে পড়ছে দেশের বিভিন্ন স্থানে। ২২ এপ্রিল পর্যন্ত ৬৪ জেলার মধ্যে ৫৮ জেলায় রোগটি ছড়িয়ে পড়েছে। এর মধ্যে ২৯ জেলায় সংক্রমণ ঘটেছে ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জ থেকে যাওয়া আক্রান্তদের মাধ্যমে। শুধু নারায়ণগঞ্জ থেকেই আক্রান্ত হয়েছে ২৩ জেলা ও ঢাকা থেকে ৬ জেলা। এমনকি গত ২৪ ঘণ্টায় যে ১০ জন মারা গেছেন, তাদের মধ্যে সাতজন ঢাকার ভেতরে এবং ময়মনসিংহ, নারায়ণগঞ্জ ও টাঙ্গাইলে একজন করে।
আইইডিসিআরের মতে এসব জায়গায় জনসংখ্যার ঘনত্ব বেশি। লোকজন লকডাউন মানেনি, মানেনি সামাজিক দূরত্বও। এখানকার লোকজন লকডাউনের মধ্যেও দেশের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে পড়েছেন।
ঢাকার মধ্যে সবচেয়ে বেশি বাসাবো ও টোলারবাগে। এ দুই জায়গা থেকেই মূলত করোনা অন্যত্র ছড়িয়েছে। এ দুই জায়গায় সংক্রমণ হয়েছে মসজিদ থেকে।
২২ এপ্রিল পর্যন্ত ঢাকা শহরে দেশের সবচেয়ে বেশি রোগী শনাক্ত হয়েছেন। সারা দেশে মোট রোগী যেখানে ৩৭৭২ জন, সেখানে ঢাকা শহরেই আক্রান্ত হয়েছেন ১২২৯ জন, মোট রোগীর ৪১ দশমিক ২০ শতাংশ। ২১ এপ্রিল পর্যন্ত ঢাকা শহরের ১৪১ এলাকায় রোগটি ছড়িয়ে পড়েছে।
এমনকি ঢাকা শহরে করোনায় মৃত্যুর সংখ্যাও বেশি। গতকাল পর্যন্ত সারা দেশে যেখানে মোট মারা গেছেন ১২০ জন, সেখানে ঢাকাতেই মারা গেছেন ৬০ জন।
এ ব্যাপারে আইইডিসিআরের মতে যেসব বিদেশফেরতের মাধ্যমে রোগটি দেশে ছড়িয়েছে, তাদের সবাই ঢাকায় ছিলেন। তারা ঘুরে বেড়িয়েছেন। কেনাকাটা করতে ও আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে দেখা করতে। তাদের মাধ্যমে অন্যরা আক্রান্ত হয়েছে। ফলে রোগটি কমিউনিটিতে ছড়িয়ে পড়েছে। এখন নিয়ন্ত্রণ করতে হলে লোকজনকে অবশ্যই ঘরে থাকতে হবে। ঘর থেকে বের হওয়া যাবে না। এখানে পরীক্ষা কম হচ্ছে না। কিন্তু নিয়মকানুন মানছেন না মানুষ।

অন্যদিকে, গতকাল পর্যন্ত ঢাকা বিভাগের ১৩ জেলায় যে ১২৮১ জন রোগী পাওয়া গেছে, তার মধ্যে ৫০৮ জনই নারায়ণগঞ্জের। এ সংখ্যা অন্য সাত বিভাগের মোট রোগীর চেয়ে ৩৫ জন বেশি। এ জেলায় করোনা শনাক্তে গতকাল পর্যন্ত মোট নমুনা সংগ্রহ হয়েছে ১৪০৬ জনের। গত ২৪ ঘণ্টায় এখানে মারা গেছেন একজন। আক্রান্ত হয়েছেন ৭৮ জন ও নমুনা পরীক্ষা হয়েছে ২০৩টি। এই জেলায় মোট মারা গেছেন ৩৬ জন।

নারায়ণগঞ্জে করোনার সংক্রমণ এত বেশি কেন জানতে চাইলে জেলার স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা বেশ কিছু কারণ তুলে ধরেন। তাদের মতে, ঘনবসতি ও শ্রমিক অধ্যুষিত এলাকা, বিদেশফেরত বিশেষ করে ইতালিফেরত প্রবাসীদের অবস্থান পুরোপুরি চিহ্নিত করতে না পারা, করোনায় প্রথম মৃত নারীর লাশ কুর্মিটোলা থেকে প্যাকেটবন্দি করে দেওয়ার পর সেই প্যাকেট খুলে লাশের গোসল দেওয়া, আক্রান্ত ব্যক্তির অবাধ বিচরণ, ৪ এপ্রিল অসংখ্য গার্মেন্টস শ্রমিকের নারায়ণগঞ্জে প্রবেশ, লকডাউনে বিলম্ব এবং প্রশাসনের উদাসীনতাই মূল কারণ।
দেশে প্রথম দুই পুরুষ ও এক নারী করোনা শনাক্ত হয় গত ৮ মার্চ। পুরুষ দুজন ইতালি প্রবাসী। স্বামীর সংস্পর্শে এসে ওই নারী সংক্রমিত হন। তারা তিনজনই নারায়ণগঞ্জ শহরের ব্যস্ততম বাণিজ্যিক এলাকা টানবাজার এলাকায় আল জয়নাল প্লাজায় থাকতেন। যদিও পরবর্তীতে তারা সুস্থ হয়েছেন। প্রবাসী এই ব্যক্তি বিদেশ থেকে আসার পাঁচ দিন পর তার করোনা পজিটিভ দেখা দেয়। এর মধ্যে তিনি তার আত্মীয়স্বজনসহ বিভিন্নজনের সঙ্গে মিশেছেন। হোটেল-রেস্তোরাঁয় গেছেন। অর্থাৎ পজিটিভ ধরা পড়ার আগে তিনি গোটা শহরে বিভিন্নজনের মাঝে রোগটি ছড়িয়েছেন। কিন্তু কোথায় কোথায় এবং কার কার মধ্যে এটা ছড়িয়েছেন তা চিহ্নিত করা যায়নি। এ ছাড়া ৩০ এপ্রিল যে নারী মারা যান, তিনি অসুস্থ থাকা অবস্থায় জেলার বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। এমনকি মৃত্যুর পর তার দাফনও করোনার নিষেধাজ্ঞা মেনে করা হয়নি।
জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা বলেন, গার্মেন্টস খোলার ঘোষণার পর আবার বন্ধ করা হলে হাজার হাজার শ্রমিক নারায়ণগঞ্জ চলে আসেন। পরে তারা আবার বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে পড়েছেন। এ ছাড়া ৬ হাজার ২১ জন প্রবাসী জেলায় ফিরলেও জেলা প্রশাসন মাত্র ১ হাজার ২৫৯ জনের নাম ঠিকানা ও অবস্থান চিহ্নিত করতে পেরেছে এবং তাদের হোম কোয়ারেন্টাইন নিশ্চিত করে। অন্যদের শনাক্ত করা যায়নি। এখন লোকজন লকডাউন মানছেন না। কোয়ারেন্টাইনও ঠিকমতো হচ্ছে না। এ সবই সংক্রমণের মূল কারণ।

নিউজটি শেয়ার করুন..


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

পুরোনো খবর এখানে,তারিখ অনুযায়ী

MonTueWedThuFriSatSun
   1234
2627282930  
       
       
       
    123
       
     12
31      
      1
2345678
16171819202122
23242526272829
3031     
     12
3456789
10111213141516
17181920212223
242526272829 
       
© All rights reserved © 2021 dainikkushtia.net
Design & Developed BY Anamul Rasel