February 7, 2026, 7:10 am

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত দৈনিক কুষ্টিয়া অনলাইন পোর্টাল
সংবাদ শিরোনাম :
২০২৬ সালের একুশে পদক পেলেন নয় ব্যক্তি ও এক ব্যান্ড হিউম্যান রাইটস ওয়াচের প্রতিবেদন/ গুম কমেছে, কিন্তু গণগ্রেপ্তার ও জামিন বঞ্চনা নিয়ে নতুন উদ্বেগ ক্ষমতায়নের আড়ালে বিতর্ক—ভোটের রাজনীতিতে নারী প্রশ্ন কতটা প্রান্তিক ! গঙ্গার সঙ্কুচিত স্রোত, বিস্তৃত সংকট/ দক্ষিণ-পশ্চিমে পরিবেশ ও জীবিকার দ্বিমুখী চাপ রপ্তানিতে ধসের সতর্ক সংকেত: সাত মাসে আয় কমেছে ৫৬ কোটি ডলার অপেশাদার কাজে ন্যুব্জ প্রাথমিক শিক্ষকতা/ নন-প্রফেশনাল চাপেই বার্নআউটের শেষ ধাপে ৯৩ শতাংশ শিক্ষক ঋণ দিয়ে সময় কেনা/অন্তর্বর্তী সরকারের অর্থনৈতিক দোটানা পূর্বাচলের সরকারি প্লট বরাদ্দ/ হাসিনা ১০ বছর, টিউলিপ ৪, রাদওয়ান-আজমিনার ৭ বছর কারাদণ্ড কুষ্টিয়ায় নির্বাচনী ‘দুধ-গোসল’: নৌকার একনিষ্ঠ কর্মী হয়ে উঠলেন ধানের শীষের নতুন সদস্য! আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো ২১

ফুলপরী কান্ডে হাইকোর্টের নিদের্শনা/স্থায়ীভাবেই বহিস্কার হতে হচ্ছে ইবির ৫ ছাত্রীকে

দৈনিক কুষ্টিয়া অনলাইন/
শেষ পর্যন্ত বিশ^বিদালয় শিক্ষাজীবন থেকে স্থায়ীভাবেই বহিস্কার হতে হচ্ছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) একটি হলে প্রথম বর্ষের অনাবাসিক শিক্ষার্থী ফুলপরী খাতুনকে নির্যাতনের ঘটনায় অভিযুক্ত ৫ শিক্ষর্থীকে। যে কোন মুহুর্তে বিশ^বিদ্যালয় কতৃপক্ষ তাদেরকে বহিস্কারের চুড়ান্ত ব্যবস্থা করছে বলে জানা গেছে।
গত ফেব্রুয়ারী মাসে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর থেকে এ ঘটনার মূল উদ্ঘাটনে বিভিন্ন তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন ও বিশ^বিদ্যালয়ের গৃহীত পদক্ষেপসমুহ পর্যালোচনা করে হাইকোর্ট এক নির্দেশনায় পদক্সেপসমুহ যথেষ্ট ও যথাযথ নয় বলে মন্তব্য করে পরবর্তী নির্দেশনা প্রদান করার প্রেক্ষিতে অভিযুক্তদের স্থায়ীভাবে বহিস্কারের সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে বিশ^বিদ্যালয় কতৃপক্ষ।
এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিশ^বিদ্যালয়ের  একজন কর্মকর্তা।
ঐ কর্মকর্তা জানান মহামান্য আদালত সুনির্দ্দিষ্টভাবে বেশ কয়েকটি ধারা উল্লেখ করে দিয়ে সেই ধারানুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহন করতে বলেছেন। উক্ত নির্দেশনা প্রতিপালিত হয়ে গেলে ঐ ৫ শিক্ষার্থী স্থায়ীভাবেই বিশ^বিদ্যালয় থেকে বহিস্কার হয়ে যাবেন।
আগামী, ২৩ আগস্ট এ বিষয়ে বিশ^বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে আদালতে সিদ্ধান্ত উপস্থাপন করা হবে বলে জানিয়েছেন আইন প্রশাসক।
গত ১১ ও ১২ই ফেব্রæয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের দেশরতœ শেখ হাসিনা হলের গণরুমে শিক্ষার্থী ফুলপরী খাতুনকে রাতভর নির্যাতন ও ভিডিও ধারণের অভিযোগ উঠে ঐ ৫ শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে। তারা হলেন- বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষার্থী সানজিদা চৌধুরী ওরফে অন্তরা, চারুকলা বিভাগের হালিমা আক্তার ঊর্মি, আইন বিভাগের ইসরাত জাহান মিম, ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের তাবাসসুম ইসলাম ও একই বিভাগের মুয়াবিয়া জাহান।
তাদের মধ্যে সানজিদা চৌধুরী ওরফে অন্তরা বিশ^বিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সহসভাপতি ও অন্যরা ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে যুক্ত।
এ ঘটনায় সংবাদ প্রকাশ হলে দেশজুড়ে আলোচিত হয়ে উঠে। ইতোমধ্যে ফুলপরী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর, হলের প্রাধ্যক্ষ ও ছাত্র উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ দেন।
ঘটনা তুলে ধরে হাইকোর্টে রিচ করেন আইনজীবী গাজী মো. মহসিন। বিচারপতি জে বি এম হাসান ও বিচারপতি রাজিক আল জলিলের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ রিট গ্রহন করে এ বিষয়ে ঐ আইনজীবীর কাছে লিখিত ব্যাখ্যা চান।
এ ঘটনায় রিট হলে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে ঘটনা তদন্তে কমিটি গঠনের পাশাপাশি কিছু নির্দেশনা দেন হাইকোর্ট। মোট তিনটি তদন্ত কমিটি গঠিত হয়। যার দুটি করে বিশ^বিদ্যালয় কতৃপক্ষ ও একটি কমিটি গঠিত হয় হাইকোর্টের নিদের্শনা অরনুযায়ী।
তদন্ত প্রতিবেদন জমা হবার হাইকোর্ট ১ মার্চ নির্দেশনা দেন। সেই নির্দেশনা মেনে ৫ শিক্ষার্থীকে ১৫ জুলাই ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১ বছরের জন্য বহিষ্কার করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের তদন্ত কমিটি ও মহামান্য হাইকোর্ট কর্তৃক গঠিত বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটির প্রেরিত প্রতিবেদনের আলোকে বিশ্ববিদ্যালয়েরর স্টুডেন্টস কোড অব কন্ডাক্ট-১৯৮৭ এর পার্ট-২ ধারা-৮ মোতাবেক ১২ মাসের জন্য তাদের ছাত্রত্ব বাতিল করে। যা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনে সর্বোচ্চ শাস্তি। এ শাস্তি চলাকালীন তারা ক্লাস-পরীক্ষাসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করতে পারবে না।
বিষয়টি পূনরায় আদালতের দৃষ্টিতে আনেন রিটাকারী আইনজীবী গাজী মো: মহসিন। আইনজীবী আদালতকে জানান যে, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা কমিটি প্রাসঙ্গিক পদ্ধতি লঙ্ঘন করে ৫ শিক্ষার্থীকে সাময়িক বহিষ্কার করেছে। তিনি আদালতকে আরও জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা কমিটি নয়, বরং কোনো অপরাধের জন্য কোনো শিক্ষার্থীকে শাস্তি দিতে পারেন ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য। ফলে এই শাস্তির বৈধতা যদি আদালতে চ্যালেঞ্জ করা হয় তবে তা বাতিল হয়ে যাবে।
এরপর হাইকোর্ট নির্যাতনের দায়ে ৫ শিক্ষার্থীকে কোন পদ্ধতিতে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে তা জানতে চান হাইকোর্ট।
এরপর ডিএজি বি এম আব্দুর রাফেল হাইকোর্টে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি কমপ্লায়ান্স রিপোর্ট জমা দিয়ে বলেন যে, ৫ শিক্ষার্থীকে ‘ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা কমিটি প্রাসঙ্গিক পদ্ধতি মেনেই সর্বোচ্চ শাস্তি দিয়েছে।’
‘আগামী ২৬ জুলাই হাইকোর্টে হলফনামার মাধ্যমে তার ব্যাখ্যা পেশ করবেন বলে তিনি জানান।
এর মধ্যে গত ১ মার্চ বিশ^বিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগ ঐ ৫ জনকে নিজেদের কর্মী উল্লেক করে সংগঠন থেকে তাদের সাময়িক বহিষ্কার করে ছাত্রলীগ।

 

নিউজটি শেয়ার করুন..

Comments are closed.

পুরোনো খবর এখানে,তারিখ অনুযায়ী

MonTueWedThuFriSatSun
 12
3456789
10111213141516
17181920212223
24252627282930
31 
© All rights reserved © 2024 dainikkushtia.net
Maintenance By DainikKushtia.net