October 25, 2026, 7:40 am

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত দৈনিক কুষ্টিয়া অনলাইন পোর্টাল
সংবাদ শিরোনাম :
রোজার চার মাস আগেই বাজারে কারসাজি, তাহলে রোজায় কী হবে? খোকসায় অপহরণের সাত ঘণ্টা পর ব্যবসায়ী উদ্ধার জাহাজ কমলেও বাড়ছে পণ্য পরিবহন, পিছিয়ে কার্যকর সক্ষমতা; রেলপথের ব্যবহার, নাব্যতা ও ব্যবস্থাপনায় সমন্বিত উদ্যোগের তাগিদ কুষ্টিয়ায় সম্মিলিত সামাজিক জোটের সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত কঠোর নিরাপত্তায় রূপপুরে পৌঁছাল দ্বিতীয় ইউনিটের প্রথম ইউরেনিয়াম চালান লালনের মানবতাবাদী দর্শন ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বানে শেষ হলো তিন দিনের তিরোধান দিবসের আয়োজন অর্থ লেনদেনের কোন প্রশ্নই উঠে না, কুষ্টিয়া যুবদল সভাপতির সংবাদ সম্মেলন কুষ্টিয়াতে আওয়ামী লীগের সাবেক দুই এমপির বিরুদ্ধে দুদকের মামলা অনুমোদন খোকসায় বেকারির ওভেন বিস্ফোরণে প্রধান মিস্ত্রি নিহত, দগ্ধ ২ লালনের শিক্ষা স্কুলে পৌঁছে দিতে চান প্রধানমন্ত্রী: তথ্য উপদেষ্টা

রোজার চার মাস আগেই বাজারে কারসাজি, তাহলে রোজায় কী হবে?


রোজা আসতে এখনো চার মাস বাকি। অথচ রমজানকে ঘিরে প্রয়োজনীয় কয়েকটি নিত্যপণ্যের বাজারে এরই মধ্যে অস্বস্তির বার্তা স্পষ্ট হতে শুরু করেছে। ছোলা, ভোজ্যতেল, পেঁয়াজ, মসুর ডাল, চিনি ও খেজুর—রমজানে যেসব পণ্যের চাহিদা স্বাভাবিকভাবেই বেড়ে যায়, সেসব পণ্যের দাম রোজা শুরুর অনেক আগেই বাড়তে শুরু করেছে। এতে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে—রমজান এখনো এত দূরে থাকতে যদি বাজারে দাম বাড়ানোর প্রবণতা শুরু হয়, তাহলে রোজা যত ঘনিয়ে আসবে, তখন সাধারণ ভোক্তার পরিস্থিতি কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে?
প্রকাশিত প্রতিবেদনের তথ্য বলছে, রাজধানীর খুচরা বাজারে মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে কয়েকটি পণ্যের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এক সপ্তাহ আগে যে ছোলা কেজিপ্রতি ১১০ টাকায় বিক্রি হয়েছে, সেটিই এখন ১২৫ টাকা। খোলা সয়াবিন তেলের দাম লিটারপ্রতি ১৯৫ টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ২০০ টাকা। দেশি পেঁয়াজ তিন দিনের ব্যবধানে ৫৫ টাকা থেকে ৬০ টাকা, ভালো মানের মসুর ডাল ১৬০ থেকে ১৬৫ টাকা এবং খোলা চিনি ১১৫ থেকে ১২০ টাকা হয়েছে। সবচেয়ে চোখে পড়ার মতো পরিবর্তন খেজুরের দামে। মাবরুম খেজুর এক সপ্তাহের ব্যবধানে কেজিপ্রতি ১ হাজার টাকা থেকে বেড়ে ১ হাজার ৩০০ টাকায় উঠেছে।
এগুলোকে কেবল বিচ্ছিন্ন ও স্বাভাবিক বাজার ওঠানামা বলে পাশ কাটিয়ে যাওয়ার সুযোগ খুব সীমিত। কারণ পণ্যগুলো এমন, যেগুলোর চাহিদা রমজানে নিয়মিতভাবেই বাড়ে। ফলে রমজান সামনে রেখে ব্যবসায়ীদের একটি অংশ আগেভাগেই বাজারের মনস্তত্ত্বকে কাজে লাগানোর চেষ্টা করছে কি না, সেই প্রশ্ন উঠতেই পারে। বাজার অর্থনীতিতে চাহিদা ও জোগানের পরিবর্তনের কারণে দাম বাড়তে পারে—এটি স্বাভাবিক। কিন্তু চাহিদা বাড়বে এমন অনুমানকে কেন্দ্র করে কয়েক মাস আগে থেকেই দাম বাড়িয়ে দেওয়া হলে সেটিকে স্বাভাবিক বাজারপ্রক্রিয়া বলা কঠিন।
এখানেই আসে ‘সিন্ডিকেট’ বা কৃত্রিম সংকট তৈরির অভিযোগ। ভোক্তা অধিকারকর্মীদের বক্তব্যেও সেই আশঙ্কার প্রতিফলন রয়েছে। কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট এসএম নাজের হোসাইন বলেছেন, বাজারে এমনিতেই সব ধরনের পণ্যের দাম বেশি। মানুষের আয় সেই অনুপাতে বাড়েনি। এর মধ্যে রমজাননির্ভর ছয়টি পণ্যের দাম আগেভাগে বাড়তে শুরু করাকে তিনি বাজারে সিন্ডিকেট সক্রিয় হওয়ার লক্ষণ হিসেবে দেখছেন। তাঁর বক্তব্যের গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো—দাম বাড়ার কারণটি যৌক্তিক কি না, সেটি সরকারকে যাচাই করতে হবে।
বাস্তবতা হচ্ছে, সাধারণ মানুষ এখন এমনিতেই মূল্যস্ফীতির চাপে নাজেহাল। খাবার, রান্নার উপকরণ, জ্বালানি, পোশাক, পরিবহণ থেকে শুরু করে দৈনন্দিন ব্যবহারের প্রায় সব ক্ষেত্রেই বাড়তি ব্যয়ের চাপ রয়েছে। কিন্তু আয় বাড়ার গতি সেই তুলনায় অনেক কম। ফলে একটি পরিবারের মাসিক বাজেটে কয়েক টাকা বা কয়েক দশ টাকা দাম বৃদ্ধি হয়তো কাগজে ছোট সংখ্যা; কিন্তু বাস্তবে সেটিই নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য বড় চাপ তৈরি করে।
রমজানে এই চাপ আরও বাড়ার আশঙ্কা থাকে। কারণ এ সময় ছোলা, ডাল, তেল, চিনি, খেজুরসহ কিছু পণ্যের চাহিদা স্বাভাবিকভাবেই বেড়ে যায়। এর সঙ্গে যদি ব্যবসায়ীদের একটি অংশ আগাম মজুত, কৃত্রিম সংকট বা অতিরিক্ত মুনাফার কৌশল নেয়, তাহলে বাজারে দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যেতে পারে। আর তখন সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন সীমিত আয়ের মানুষ।
ব্যবসায়ীদের বক্তব্য অবশ্য পুরোপুরি উপেক্ষা করার সুযোগ নেই। প্রতিবেদনে কাওরান বাজারের এক ব্যবসায়ী পেঁয়াজ, ডাল, চিনি, ছোলা ও ভোজ্যতেলের দাম বৃদ্ধির পেছনে জ্বালানি ব্যয়, পরিবহণ খরচ, সরবরাহ কমে যাওয়া এবং খোলা সয়াবিন তেলের বাড়তি চাহিদার কথা বলেছেন। বাজারে পরিবহণ ব্যয় বাড়লে তার প্রভাব পণ্যের মূল্যে পড়বে—এটি অর্থনীতির স্বাভাবিক নিয়ম। একইভাবে কোনো পণ্যের সরবরাহ কমে গেলে দাম বাড়াও অস্বাভাবিক নয়।
কিন্তু প্রশ্ন হলো, সেই ব্যয় বৃদ্ধির প্রকৃত প্রভাব কতটুকু এবং খুচরা বাজারে যে পরিমাণ দাম বাড়ছে, তার সঙ্গে উৎপাদন, আমদানি, পরিবহণ ও পাইকারি পর্যায়ের ব্যয় বৃদ্ধির সামঞ্জস্য কতটুকু? একটি পণ্যের দাম পাঁচ টাকা বাড়ার পেছনে যদি বাস্তব ব্যয় বৃদ্ধি থাকে, তাহলে সেটি গ্রহণযোগ্য। কিন্তু একই কারণ দেখিয়ে অস্বাভাবিক হারে দাম বাড়ানো হলে সেখানে বাজার তদারকির প্রয়োজন রয়েছে। অর্থাৎ ব্যবসায়ীদের বক্তব্য যেমন যাচাই করতে হবে, তেমনি ভোক্তাদের অভিযোগও গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করতে হবে।
এখানেই সরকারের ভূমিকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। বাণিজ্যমন্ত্রী বলেছেন, দেশের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার সার্বিকভাবে স্থিতিশীল, সরবরাহব্যবস্থা সচল, জোগান পর্যাপ্ত এবং আমদানি ও দেশীয় উৎপাদন স্বাভাবিক রয়েছে। আসন্ন রমজানে নিত্যপণ্যের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করতে সরকারের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে বলেও তিনি জানিয়েছেন। পেঁয়াজের মতো গুরুত্বপূর্ণ পণ্যে দেশের স্বয়ংসম্পূর্ণতার কথাও তুলে ধরেছেন তিনি।
সরকারের এই আশ্বাস অবশ্যই স্বস্তিদায়ক। কিন্তু বাজারে তার বাস্তব প্রতিফলন দেখা যাওয়াটাই মূল কথা। কারণ একজন মন্ত্রীর বক্তব্যে বাজার স্থিতিশীল থাকলেই ভোক্তার স্বস্তি নিশ্চিত হয় না; বাজারে গিয়ে একজন সাধারণ ক্রেতা যে দামে পণ্য কিনছেন, সেটিই তার কাছে বাস্তবতা। সরকারের দাবি যদি সরবরাহ পর্যাপ্ত থাকার হয়, তাহলে একই সময়ে রমজাননির্ভর পণ্যের দাম কেন বাড়ছে—এই প্রশ্নেরও একটি পরিষ্কার ব্যাখ্যা থাকা দরকার।
বিশেষ করে রমজানের চার মাস আগে থেকেই যদি দাম বাড়ার প্রবণতা দেখা যায়, তাহলে সরকারের উচিত এখনই কারণ অনুসন্ধান করা। রমজান শুরু হওয়ার পর অভিযান চালিয়ে বাজার নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করার চেয়ে আগেভাগে নজরদারি করা অনেক বেশি কার্যকর। কোন পর্যায়ে পণ্য আমদানি হচ্ছে, কত দামে আমদানি হচ্ছে, আমদানিকারক কত দামে বিক্রি করছেন, পাইকারি বাজারে কত দামে যাচ্ছে এবং শেষ পর্যন্ত খুচরা বাজারে কত দামে পৌঁছাচ্ছে—এই পুরো সরবরাহশৃঙ্খল পর্যবেক্ষণের আওতায় আনা প্রয়োজন।
কারণ বাজার কারসাজি শুধু খুচরা দোকানে তৈরি হয় না। বরং কোনো কোনো ক্ষেত্রে এর সূত্রপাত হতে পারে আমদানি, মজুত বা পাইকারি পর্যায়ে। তাই শুধু খুচরা বিক্রেতাকে দায়ী করে বাজার নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। একই সঙ্গে সব ব্যবসায়ীকে ‘সিন্ডিকেট’ আখ্যা দেওয়াও যুক্তিসংগত হবে না। প্রকৃত ব্যবসায়ী যেমন আছেন, তেমনি অতিরিক্ত মুনাফার সুযোগ নেওয়া ব্যবসায়ীও থাকতে পারেন। সরকারের দায়িত্ব হলো তথ্য ও প্রমাণের ভিত্তিতে এ দুয়ের পার্থক্য নির্ণয় করা।
এদিকে বাজারের আরেকটি চিত্রও গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ব্রয়লার মুরগির দাম এক সপ্তাহে কেজিতে ১০ টাকা বেড়েছে। আবার একই সময়ে ডিমের দাম কিছুটা কমেছে। কিন্তু পাইকারি বা বড় খুচরা বাজারে দাম কমলেও পাড়া-মহল্লার দোকানে সেই কমতি সবসময় প্রতিফলিত হচ্ছে না। এক সপ্তাহ আগে যেখানে ডিম ১৪৫-১৫০ টাকা ডজন ছিল, বাজারে তা কমে ১৩০-১৪০ টাকায় এলেও স্থানীয় দোকানে এখনো ১৪৫-১৫০ টাকা নেওয়া হচ্ছে।
এই ব্যবধান বাজার ব্যবস্থাপনার একটি বড় দুর্বলতাকে সামনে আনে। দাম বাড়ার সময় খুচরা পর্যায়ে তা খুব দ্রুত পৌঁছে যায়, কিন্তু দাম কমার সুফল অনেক সময় ভোক্তার কাছে পৌঁছাতে দেরি হয়। এ প্রবণতা বন্ধে কার্যকর বাজার তদারকি প্রয়োজন। শুধু মূল্যতালিকা ঝুলিয়ে রাখা বা মাঝেমধ্যে অভিযান পরিচালনা যথেষ্ট নয়; বাজারে প্রতিযোগিতা, সরবরাহ ও মূল্যসংক্রান্ত তথ্যপ্রবাহ স্বচ্ছ করতে হবে।
সবচেয়ে বড় কথা, রমজানকে কেন্দ্র করে ব্যবসা করা অপরাধ নয়। বরং চাহিদা বাড়ার সময়ে ব্যবসা বাড়বে—এটাই স্বাভাবিক। ব্যবসায়ীরা লাভ করবেন, এটিও স্বাভাবিক। কিন্তু লাভ আর অতি-মুনাফার মধ্যে একটি নৈতিক সীমারেখা রয়েছে। মানুষের ধর্মীয় অনুভূতি ও প্রয়োজনকে পুঁজি করে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে অতিরিক্ত মুনাফা করা কোনোভাবেই সুস্থ বাজারব্যবস্থার লক্ষণ হতে পারে না।
রমজান মুসলমানদের জন্য সংযমের মাস। অথচ সেই মাস আসার আগেই যদি খাদ্যপণ্যের বাজারে অসংযমী মুনাফার প্রতিযোগিতা শুরু হয়, তাহলে বিষয়টি শুধু অর্থনৈতিক নয়—সামাজিকভাবেও বিব্রতকর। ধর্মীয়ভাবে গুরুত্বপূর্ণ একটি মাসকে কেন্দ্র করে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ বাড়িয়ে কেউ অতিরিক্ত লাভবান হলে তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠাই স্বাভাবিক।
তাই এখনই সরকারের সামনে দুটি চ্যালেঞ্জ। প্রথমত, বাজারে পণ্যের পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করা। দ্বিতীয়ত, সরবরাহ থাকার পরও কোনো পক্ষ কৃত্রিমভাবে দাম বাড়াচ্ছে কি না, তা কঠোরভাবে অনুসন্ধান করা। একই সঙ্গে ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোরও দায়িত্ব রয়েছে। বাজারে অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধি হলে সেটিকে প্রশ্রয় না দিয়ে নিজেদের সদস্যদের মধ্যে নৈতিক ব্যবসার সংস্কৃতি তৈরি করতে হবে।
রমজান এখনো অনেক দূরে। তাই এখনো সময় আছে। সরকার চাইলে আগাম প্রস্তুতির মাধ্যমে এবার বাজারকে নিয়ন্ত্রণের মধ্যে রাখতে পারে। আর ব্যবসায়ীরাও চাইলে প্রমাণ করতে পারেন—সব ব্যবসায়ী সুযোগসন্ধানী নন, অধিকাংশই ন্যায্য লাভের ভিত্তিতে ব্যবসা করতে চান।
কিন্তু সেই প্রমাণ কথায় নয়, বাজারে দিতে হবে। রমজানের চার মাস আগেই যখন ছোলা, তেল, পেঁয়াজ, ডাল, চিনি ও খেজুরের মতো পণ্যের দাম নড়েচড়ে বসেছে, তখন এটিকে নিছক বাজারের স্বাভাবিক ওঠানামা ধরে নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ হবে না। এখনই নজরদারি, এখনই হিসাব-নিকাশ এবং এখনই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া দরকার।
কারণ রোজার বাজার নিয়ন্ত্রণের জন্য রোজা শুরু হওয়ার অপেক্ষা করলে হয়তো অনেক দেরি হয়ে যাবে। সাধারণ মানুষের প্রশ্ন তাই একটাই—রোজার আগেই যদি কারসাজি শুরু হয়, তাহলে রোজার সময় বাজার কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে?
ড. আমানুর আমান, সম্পাদক প্রকাশক ও মুদ্রাকর, দৈনিক কুষ্টিয়া, দি কুষ্টিয়া টাইমস।

নিউজটি শেয়ার করুন..

Comments are closed.

পুরোনো খবর এখানে,তারিখ অনুযায়ী

© All rights reserved © 2024 dainikkushtia.net
Maintenance By DainikKushtia.net