July 9, 2026, 1:19 pm

দৈনিক কুষ্টিয়া অনলাইন/
ঢাকা, ৯ জুলাই: সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বিলুপ্ত, গণভোটের বিধান বাতিলসহ কয়েকটি সংশোধনী অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্ট যে রায় দিয়েছিলেন, তা বহাল রেখেছেন আপিল বিভাগ। রিটকারীদের করা আপিল খারিজ করে বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন চার সদস্যের আপিল বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন।
রায় ঘোষণার পর রিটকারীদের আইনজীবীরা বলেন, এর ফলে হাইকোর্টের দেওয়া নির্দেশনা ও ঘোষণাগুলো বহাল থাকল। তাদের দাবি, এর আইনি প্রভাবে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ও গণভোটসংক্রান্ত পূর্ববর্তী সাংবিধানিক বিধান পুনর্বহালের পথ উন্মুক্ত হয়েছে। তবে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সাংবিধানিক ও প্রশাসনিক বাস্তবায়নের বিষয়টি সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পরবর্তী পদক্ষেপের ওপর নির্ভর করবে।
আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল। রিটকারীদের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী ড. শরীফ ভূঁইয়া এবং জামায়াতে ইসলামীর পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির।
এর আগে বুধবার টানা তিন দিনের শুনানি শেষে আপিল বিভাগ রায় ঘোষণার জন্য ৯ জুলাই দিন ধার্য করেন।
গত বছরের ১৭ ডিসেম্বর বিচারপতি ফারাহ মাহবুব ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ পঞ্চদশ সংশোধনীর কয়েকটি ধারা অসাংবিধানিক ঘোষণা করেন। তবে পুরো পঞ্চদশ সংশোধনী বাতিল করেননি আদালত।
হাইকোর্ট রায়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বিলুপ্তি সংক্রান্ত পঞ্চদশ সংশোধনীর ২০ ও ২১ ধারা সংবিধানের মৌলিক কাঠামোর পরিপন্থী ঘোষণা করে বাতিল করেন। একই সঙ্গে গণভোটের বিধান বিলুপ্তকারী ৪৭ ধারা বাতিল করে সংবিধানের ১৪২ অনুচ্ছেদের পূর্ববর্তী বিধান পুনর্বহালের ঘোষণা দেন।
এছাড়া সংবিধানে যুক্ত ৭ক, ৭খ এবং ৪৪(২) অনুচ্ছেদও অসাংবিধানিক ঘোষণা করা হয়।
রায়ের পর্যবেক্ষণে হাইকোর্ট বলেন, গণতন্ত্র সংবিধানের মৌলিক কাঠামোর অবিচ্ছেদ্য অংশ এবং অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমেই গণতন্ত্র বিকশিত হয়। আদালতের মতে, জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত হয়েছিল এবং তা সংবিধানের মৌলিক কাঠামোর অংশে পরিণত হয়েছে।
তবে আদালত পুরো পঞ্চদশ সংশোধনী বাতিল করেননি। রায়ে বলা হয়, সংশোধনীর অবশিষ্ট বিধানগুলোর বিষয়ে ভবিষ্যতে জাতীয় সংসদ প্রয়োজন অনুযায়ী আইনগত প্রক্রিয়ায় সিদ্ধান্ত নিতে পারবে।
উল্লেখ্য, ২০১১ সালের ৩০ জুন জাতীয় সংসদে সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী পাস হয়। ওই সংশোধনীর মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বিলুপ্ত করা হয়, গণভোটের বিধান বাতিল করা হয় এবং সংবিধানের বিভিন্ন অনুচ্ছেদে মোট ৫৪টি সংযোজন, সংশোধন ও প্রতিস্থাপন আনা হয়।