July 10, 2026, 1:46 pm

দৈনিক কুষ্টিয়া অনলাইন/
যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত নতুন শুল্ক নীতির কারণে বাংলাদেশের রপ্তানি খাত নতুন করে চাপে পড়তে পারে বলে সতর্ক করেছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)। সংস্থাটির মতে, যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য আইনের ৩০১ ধারার আওতায় অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশের তৈরি পোশাকসহ বিভিন্ন রপ্তানি পণ্যের আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা সক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। একই সঙ্গে এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের বাণিজ্য ও অর্থনীতিতেও দীর্ঘমেয়াদি অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে।
এডিবির প্রকাশিত ‘এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট আউটলুক: জুলাই ২০২৬’ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের নতুন শুল্ক ব্যবস্থা কার্যকর হলে বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর কার্যকর শুল্কহার গড়ে ১ দশমিক ২ শতাংশ পয়েন্ট পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে। এতে রপ্তানি ব্যয় বাড়বে এবং বিশ্ববাজারে বাংলাদেশি পণ্যের মূল্য প্রতিযোগিতা দুর্বল হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হবে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, যেসব দেশ জোরপূর্বক শ্রমে উৎপাদিত পণ্যের আমদানি ও বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হয়েছে বলে যুক্তরাষ্ট্র মনে করছে, সেসব দেশের পণ্যের ওপর অতিরিক্ত ১০ থেকে ১২ দশমিক ৫ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের প্রস্তাব বিবেচনায় রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধির দপ্তর (ইউএসটিআর) দুটি পৃথক পর্যালোচনার ভিত্তিতে এই উদ্যোগ নিয়েছে। প্রথমত, বাংলাদেশসহ ৫৪টি দেশকে জোরপূর্বক শ্রমে উৎপাদিত পণ্যের আমদানি নিষিদ্ধ ও নিয়ন্ত্রণে পর্যাপ্ত পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। দ্বিতীয়ত, যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য আইনের ৩০১ ধারার আওতায় বাংলাদেশ, ভারত, চীন, জাপান ও ভিয়েতনামসহ মোট ৬০টি দেশের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের প্রস্তাব পর্যালোচনা করা হচ্ছে।
এডিবি বলছে, চলতি বছরের শুরুতে বৈশ্বিক বাণিজ্য পরিবেশে কিছুটা স্থিতিশীলতার ইঙ্গিত মিললেও ইউএসটিআরের সাম্প্রতিক তদন্ত ও শুল্ক আরোপের সম্ভাবনা সেই আশাবাদকে নতুন করে অনিশ্চয়তার মুখে ফেলেছে। বিশেষ করে শুল্কের হার, আওতা এবং কার্যকরের সময়সূচি সম্পর্কে এখনো স্পষ্ট ঘোষণা না আসায় আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী ও রপ্তানিকারকদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, এডিবির এই সতর্কবার্তা বাংলাদেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সংকেত। যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে প্রতিযোগিতা ধরে রাখতে হলে শ্রম অধিকার, কর্মপরিবেশ, কমপ্লায়েন্স এবং সরবরাহ শৃঙ্খলে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড নিশ্চিত করার পাশাপাশি বাণিজ্য কূটনীতিও আরও জোরদার করতে হবে। একই সঙ্গে রপ্তানি বাজার বহুমুখীকরণ এবং প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগও এখন সময়ের দাবি বলে মনে করছেন তারা।