July 27, 2026, 7:55 am

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত দৈনিক কুষ্টিয়া অনলাইন পোর্টাল
সংবাদ শিরোনাম :
ইউনুসের ৭ হাজার নতুন মাল্টিমিলিয়নেয়ার হিসাব, নৈতিক রাষ্ট্রের প্রতিশ্রুতি এবং ক্ষমতার সমাজতত্ত্ব স্থানীয় সরকার নির্বাচন/গণতন্ত্রের নতুন পরীক্ষা চলমান প্রকল্পের কাজ সরকারি বিধি অনুসারে নির্দিষ্ট সময়ে শেষ করতে হবে: ইবি উপাচার্য রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ/ নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত দায়িত্বে স্পিকার দুই দিনে কুষ্টিয়া-চুয়াডাঙ্গা সীমান্তে ১৩ জনকে বাংলাদেশে পাঠানোর চেষ্টা, বিজিবির বাধায় ব্যর্থ বিএসএফ ৮০৩ শিশু মৃত্যূ: সংখ্যার নৈতিক অভিঘাত /মৃত্যুর হিসাব আছে, দায়ের হিসাব কোথায়? ক্যাম্পাসের পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিতকরণে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যোগ: ২২টি ডাস্টবিন স্থাপন এক মুক্তিযোদ্ধার রাজনৈতিক বৈপরীত্য/গাজী নজরুলের উত্থান, বিতর্ক ও শেষ পরিণতি ভালো ফলন, সন্তোষজনক দামে চাঙা পশ্চিমাঞ্চলের পাটের বাজার কুষ্টিয়ায় মাদ্রাসায় ঘুমিয়ে থাকা শিশুকে বলাৎকার/ হুজুর বলল ‘মনে করো তুমি স্বপ্ন দেখতেছ’

কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে সাপের আক্রমণ বাড়ছে, ২ সপ্তাহে কামড় ৮ জনের, মৃত্যু ১

দৈনিক কুষ্টিয়া অনলাইন/
কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলায় হঠাৎ করেই সাপের কামড়ের ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বেড়ে যাওয়ায় জনমনে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
মাত্র দুই সপ্তাহে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় আটজন সাপের কামড়ের শিকার হয়েছেন। তাদের মধ্যে সাতজন চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরলেও এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। বর্ষা মৌসুমের শুরুতেই এমন পরিস্থিতি স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, গত ২ জুন থেকে ১৫ জুন পর্যন্ত দৌলতপুর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় আটজন সাপের কামড়ের শিকার হন। আক্রান্তদের মধ্যে রয়েছেন শিশু, নারী ও পুরুষ। সবচেয়ে মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে উপজেলার হোগলবাড়িয়া ইউনিয়নের শশীধরপুর গ্রামে। সেখানে ঘুমন্ত অবস্থায় সাপের কামড়ে আক্রান্ত হয়ে সিয়াম (১২) নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়।
স্থানীয়দের ভাষ্য, গত দুই সপ্তাহ ধরে শশীধরপুর গ্রামসহ আশপাশের এলাকায় সাপের উপদ্রব উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। মাঠ, ফসলি জমি, পুকুরপাড় এমনকি বসতবাড়ির আশপাশেও সাপের দেখা মিলছে। ফলে সন্ধ্যার পর বাইরে বের হতে ভয় পাচ্ছেন অনেকেই।
সোমবার রাতে মাত্র তিন ঘণ্টার ব্যবধানে একই গ্রামের তিন নারী—মাসেদা খাতুন, বিথী খাতুন ও বিলকিস আরা–সাপের কামড়ে আক্রান্ত হন। দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ায় তারা প্রাণে বেঁচে যান। চিকিৎসকরা তাদের অ্যান্টিভেনম প্রয়োগ করেন এবং বর্তমানে তারা সুস্থ রয়েছেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্ষাকালে বৃষ্টির কারণে সাপের আবাসস্থল পানিতে তলিয়ে গেলে তারা নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে লোকালয়ে চলে আসে। ফলে এ সময় সাপের কামড়ের ঝুঁকি বেড়ে যায়। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা রাতে চলাফেরার সময় টর্চ ব্যবহার, ঘরের আশপাশ পরিষ্কার রাখা, মেঝেতে না ঘুমানো এবং সাপে কামড়ালে ওঝা বা ঝাড়ফুঁকের পরিবর্তে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।
দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ভারপ্রাপ্ত আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা ডা. মোছা. দিলরুবা ইয়াসমিন জানান, গত দুই সপ্তাহে হাসপাতালে আটজন সাপে কাটা রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন। হাসপাতালের অ্যান্টিভেনমের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে এবং জরুরি চিকিৎসা সেবা অব্যাহত আছে।
তবে একের পর এক সাপের কামড়ের ঘটনায় দৌলতপুরবাসীর মধ্যে যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে, তা এখন স্থানীয় প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগের জন্যও একটি গুরুত্বপূর্ণ জনস্বাস্থ্য উদ্বেগে পরিণত হয়েছে।
সাবধানতা অবলম্বনের পরামর্শ দিচ্ছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।

নিউজটি শেয়ার করুন..

Comments are closed.

পুরোনো খবর এখানে,তারিখ অনুযায়ী

© All rights reserved © 2024 dainikkushtia.net
Maintenance By DainikKushtia.net