June 10, 2026, 3:03 pm

দৈনিক কুষ্টিয়া অনলাইন/
ঝিনাইদহ জেলার কালীগঞ্জ উপজেলার প্রায় সাড়ে ৪ লাখ মানুষের জন্য একমাত্র ৫০ শয্যার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি এখন নিজেই যেন রোগীতে পরিণত হয়েছে, কারণ এটি প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা দেওয়ার সক্ষমতা হারিয়েছে। এর পেছনের মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে চিকিৎসক সংকট, শূন্য পদ এবং প্রেষণ (ডেপুটেশন) ব্যবস্থার জটিলতা।
পরিস্থিতি এতটাই চরমে পৌঁছেছে যে, একজন মালী চালাচ্ছেন অ্যাম্বুলেন্স, আর ভেষজ বাগানের পরিচর্যাকারী সামলাচ্ছেন স্টোরকিপারের দায়িত্ব।
সরেজমিনে দেখা যায়, দীর্ঘদিনের শূন্য পদ এখন হাসপাতালের ব্যবস্থারই অংশ হয়ে গেছে। স্টোরকিপারের পদ ছয় বছর ধরে শূন্য থাকায় সেই দায়িত্ব পালন করছেন হারবাল অ্যাসিস্ট্যান্ট মাহবুবার রহমান। একইভাবে দুটি অ্যাম্বুলেন্স থাকলেও চালক না থাকায় সেগুলো কার্যত অচল হয়ে পড়ে ছিল। শেষ পর্যন্ত খুলনা বিভাগীয় স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের বিশেষ অনুমতিতে ফুলবাগানের মালী মিলন হোসেনকে অ্যাম্বুলেন্স চালকের দায়িত্ব দেওয়া হয়। এই ব্যতিক্রমী ব্যবস্থা এখন স্থানীয়ভাবে হাসপাতালের “টিকে থাকার কৌশল” হিসেবে পরিচিত।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, মোট ৪৩টি চিকিৎসক পদের মধ্যে বর্তমানে কর্মরত আছেন মাত্র ২১ জন। অর্থোপেডিক, গাইনি, মেডিসিন ও শিশুরোগসহ ১১টি বিশেষজ্ঞ পদের মধ্যে মাত্র ৫ জন চিকিৎসক কাজ করছেন। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার পদও দীর্ঘদিন ধরে শূন্য, ফলে প্রশাসনিক নেতৃত্বে সৃষ্টি হয়েছে শূন্যতা।
চিকিৎসক সংকটের পাশাপাশি প্রেষণ ব্যবস্থার মাধ্যমে আরও গভীর সংকট তৈরি হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, কয়েকজন চিকিৎসক বছরের পর বছর কালীগঞ্জে কর্মস্থলে না থেকেও অন্য জেলায় কর্মরত আছেন এবং নিয়মিত বেতন-ভাতা গ্রহণ করছেন। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিভিন্ন ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রের অন্তত তিনজন উপ-সহকারী মেডিকেল অফিসার এক দশকেরও বেশি সময় ধরে প্রেষণে অন্য জেলায় অবস্থান করছেন, যা তৃণমূল স্বাস্থ্যসেবাকে মারাত্মকভাবে দুর্বল করেছে।
প্রেষণে থাকা কয়েকজন চিকিৎসক অবশ্য পারিবারিক সমস্যার কথা উল্লেখ করে তাদের অনুপস্থিতির ব্যাখ্যা দিয়েছেন। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারি নথিতে তাদের কর্মস্থল কালীগঞ্জ হলেও বাস্তবে তারা দীর্ঘদিন অনুপস্থিত, ফলে গ্রামীণ মানুষ প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
হাসপাতালের অস্ত্রোপচার সেবা বছরের অধিকাংশ সময়ই বন্ধ থাকে। জরুরি চিকিৎসার প্রয়োজন হলে রোগীদের জেলা বা বিভাগীয় হাসপাতালে পাঠানো হয়, এতে সময় ও ব্যয়ের চাপ বহুগুণে বেড়ে যায়।
কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ডা. অরুণ কুমার দাস বলেন, জনবল সংকট ও প্রেষণজনিত জটিলতার কারণে সেবা প্রদান অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে এবং বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।
ঝিনাইদহের সিভিল সার্জনও জানান, প্রেষণে থাকা চিকিৎসক ও অ্যাম্বুলেন্স চালক সংকটের বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং দ্রুত সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।