August 27, 2026, 5:34 pm

দৈনিক কুষ্টিয়া অনলাইন/
নেপাল ও চীনের তিব্বত সীমান্তবর্তী পার্বত্য অঞ্চলে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৭৭ জনে দাঁড়িয়েছে। এখনো নিখোঁজ রয়েছেন অন্তত ১ হাজার ৩৮৪ জন, যাদের মধ্যে ৭৭৭ জন বিদেশী নাগরিক।
দুর্গম পাহাড়ি এলাকা, বিচ্ছিন্ন সড়ক ও যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে উদ্ধার অভিযান ব্যাহত হচ্ছে। ফলে নিখোঁজদের অনেকের সন্ধান পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে এবং মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সর্বশেষ সরকারি হিসাব অনুযায়ী, নেপালে নিখোঁজ রয়েছেন ৮২৬ জন। তাদের মধ্যে ৫১৭ জন বিদেশী নাগরিক। অন্যদিকে চীনের তিব্বত অংশে নিখোঁজ অন্তত ৫৫৮ জন, যাদের মধ্যে ২৬০ জন বিদেশী। দুই দেশের মোট নিখোঁজের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৩৮৪ জনে।
নেপালে নিখোঁজ বিদেশী নাগরিকদের মধ্যে ভারতের ১৭৮ জন রয়েছেন। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের ৬৫, ইউক্রেনের ৫৩, মালয়েশিয়ার ৫১, অস্ট্রেলিয়ার ৩৫, যুক্তরাজ্যের ৩৩ এবং কানাডার ২৫ নাগরিক নিখোঁজ রয়েছেন। তাদের বড় অংশ ট্রেকিং, পর্যটন ও ধর্মীয় তীর্থযাত্রার উদ্দেশ্যে ওই পার্বত্য অঞ্চলে অবস্থান করছিলেন।
হিমবাহ ধসের পর নেমে আসে ধ্বংসযজ্ঞ
বুধবার একটি বিশাল হিমবাহের অংশ ধসে পড়ার পর বরফ, পানি, পাথর ও কাদার প্রবল স্রোত পাহাড়ি উপত্যকার দিকে ধেয়ে আসে। এতে নেপালের রসুয়াসহ কয়েকটি জেলা এবং চীনের তিব্বত অঞ্চলের গিরং কাউন্টি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
বন্যার স্রোতে বহু ঘরবাড়ি, সড়ক, সেতু, যানবাহন ও বিদ্যুৎ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত বা ভেসে গেছে। কাদা, পাথর ও ধ্বংসাবশেষে গুরুত্বপূর্ণ সড়ক বন্ধ হয়ে যাওয়ায় কয়েকটি দুর্গত এলাকায় স্থলপথে উদ্ধারকারী দল পৌঁছাতে পারছে না।
দুর্যোগের প্রায় ২২ ঘণ্টা পর চীনের জরুরি উদ্ধারকারী দল ক্ষতিগ্রস্ত গিরং স্থলবন্দরে পৌঁছায়। প্রথম দফায় ১৪১ জন উদ্ধারকর্মীর পাশাপাশি উচ্চ পার্বত্য এলাকায় অভিযানের উপযোগী একটি এমআই-১৭১ হেলিকপ্টার মোতায়েন করা হয়েছে।
গিরং স্থলবন্দর নেপাল ও চীনের মধ্যকার বাণিজ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। দুই দেশের মোট বাণিজ্যের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ এ বন্দর দিয়ে পরিচালিত হয়। তবে বন্যায় বন্দরের সড়ক, বিদ্যুৎ ও যোগাযোগ অবকাঠামো ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
নেপালে সেনাবাহিনী ও অন্যান্য নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা হেলিকপ্টারের মাধ্যমে আটকে পড়া মানুষকে উদ্ধারের চেষ্টা করছেন। তবে কোথাও কোথাও বন্যার পানি ও নিরাপদ অবতরণস্থলের অভাবে হেলিকপ্টার নামানো সম্ভব হচ্ছে না।
এরই মধ্যে ভারত ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য মানবিক সহায়তা পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছে।
নতুন বন্যার আশঙ্কা
আক্রান্ত এলাকায় আগামী তিন দিন আরও বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। চীনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ভূমিধসে নেমে আসা মাটি ও পাথর কয়েকটি নদীর প্রবাহ আটকে দিয়ে অস্থিতিশীল প্রাকৃতিক বাঁধ তৈরি করেছে। এসব বাঁধ ভেঙে গেলে নতুন করে আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধস দেখা দিতে পারে।
এ কারণে নদীতীরবর্তী ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ ও উঁচু স্থানে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ইউএসজিএস জানিয়েছে, ঘটনাটি ভূমিকম্পের কারণে ঘটেনি। হিমবাহ ধসের পর সৃষ্ট শক্তিশালী ধ্বংসাবশেষের প্রবাহই এ বিপর্যয়ের মূল কারণ।
দুর্যোগের তীব্রতা এতটাই ছিল যে প্রাথমিকভাবে এটিকে ৪ দশমিক ৪ মাত্রার ভূমিকম্প হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছিল। পরে ভূকম্পনসংক্রান্ত তথ্য ও স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণ করে নিশ্চিত হওয়া যায়, এটি ছিল হিমবাহ ধস এবং তার পরবর্তী ব্যাপক ধ্বংসাবশেষের প্রবাহ।