August 27, 2026, 7:30 pm

দৈনিক কুষ্টিয়া অনলাইন/
কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় পদ্মা নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। অবৈধ বালু উত্তোলন ঠেকাতে উপজেলার বাহিরচর ইউনিয়নের পশ্চিম বাহিরচর ও চররূপপুর মৌজার মুন্সিপাড়া ও টিকটিকিপাড়া ঘাটসংলগ্ন তড়িয়ামহল এলাকায় দ্বিতীয়বারের মতো লাল পতাকা স্থাপন করা হয়েছে। একই সঙ্গে বালু পরিবহনে ব্যবহৃত পাইপলাইনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়েছে।
বুধবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আমিরুল আরাফাতের নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে সহকারী কমিশনার (ভূমি) ডা. গাজী আশিক বাহার ও ভেড়ামারা থানার পুলিশ সদস্যরা অংশ নেন।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, বাহিরচর ইউনিয়নের পদ্মা নদীসংলগ্ন ওই এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগ রয়েছে। নদী থেকে নির্বিচারে বালু তোলার কারণে এলাকায় নদীভাঙন বেড়েছে। গত কয়েক বছরে ভাঙনে শত শত একর জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
প্রশাসনের কর্মকর্তারা বলছেন, অবৈধভাবে বালু উত্তোলন অব্যাহত থাকলে শুধু নদী ও পরিবেশের ক্ষতিই নয়, আশপাশের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাও ঝুঁকিতে পড়তে পারে। এ কারণে হার্ডিঞ্জ সেতু, লালন শাহ সেতু, ভারত-বাংলাদেশ কম্বাইন্ড বিদ্যুৎ প্রকল্প এবং পাবনা-কুষ্টিয়া মহাসড়কের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার নিরাপত্তার বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে।
অবৈধ বালু উত্তোলনকে কেন্দ্র করে এলাকায় অস্থিরতা, সংঘর্ষ, গোলাগুলি ও হত্যাকাণ্ডের মতো ঘটনাও ঘটেছে। একই সঙ্গে নদী ও পরিবেশের ওপর এর বিরূপ প্রভাব নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে প্রশাসন গত ৬ জুন প্রথম দফায় পুরো বালুমহাল এলাকায় লাল পতাকা স্থাপন করে। এর আগে ৪ জুন স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষও বাহিরচর ইউনিয়নের বালুমহালের সড়কসংলগ্ন এলাকায় লাল পতাকা টাঙিয়েছিল।
তবে প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা ও সতর্কতা উপেক্ষা করে একটি অসাধু চক্র বালু উত্তোলন ও সরবরাহের কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ ওঠে। এ অবস্থায় বুধবার ফের অভিযান চালিয়ে তড়িয়ামহল এলাকায় লাল পতাকা স্থাপন এবং বালু পরিবহনের পাইপলাইনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আমিরুল আরাফাত বলেন, তড়িয়ামহলে দ্বিতীয়বারের মতো লাল পতাকা স্থাপন করা হয়েছে। এর আগে সতর্কীকরণ সাইনবোর্ডও স্থাপন করা হয়েছিল। অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিয়মিত অভিযান চালানো হচ্ছে।
তিনি বলেন, প্রশাসনের পক্ষ থেকে ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়ার পরও একটি অসাধু চক্র বালু উত্তোলনের চেষ্টা করছে। অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে প্রশাসনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।