August 29, 2026, 12:35 pm

দৈনিক কুষ্টিয়া অনলাইন/
পরিবহন শ্রমিকদের ওপর ইজিবাইকচালকদের হামলা ও মারধরের প্রতিবাদে চুয়াডাঙ্গা জেলার সব রুটে অনির্দিষ্টকালের জন্য বাস ও মিনিবাস চলাচল বন্ধ করে দিয়েছেন পরিবহন মালিক ও শ্রমিকরা। শনিবার সকাল থেকে শুরু হওয়া এ ধর্মঘটের প্রভাব পড়েছে কুষ্টিয়াসহ পার্শ্ববর্তী জেলাগুলোতেও।
চুয়াডাঙ্গা থেকে বাস চলাচল বন্ধ থাকায় শনিবার সকাল থেকে কুষ্টিয়াগামী কোনো বাস ছেড়ে আসেনি। ফলে চুয়াডাঙ্গা থেকে নিয়মিত বাসে কুষ্টিয়ায় আসা যাত্রীদের যাত্রা অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে। একইভাবে কুষ্টিয়া থেকেও চুয়াডাঙ্গাগামী বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে।
সকাল থেকে কুষ্টিয়া বাস টার্মিনাল ও সংশ্লিষ্ট স্ট্যান্ডগুলোতে চুয়াডাঙ্গা রুটের কোনো বাস বা যাত্রী দেখা যায়নি বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে। জরুরি প্রয়োজনে যাতায়াত করতে চাওয়া যাত্রীদের অনেককে বিকল্প যানবাহনের সন্ধান করতে হয়েছে। এতে সময় ও অতিরিক্ত অর্থ ব্যয়ের পাশাপাশি চরম দুর্ভোগে পড়েছেন কর্মজীবী মানুষ, শিক্ষার্থী এবং বিভিন্ন প্রয়োজনে যাতায়াতকারী যাত্রীরা।
বন্ধ থাকা রুটগুলোর মধ্যে রয়েছে চুয়াডাঙ্গা-মেহেরপুর, চুয়াডাঙ্গা-জীবননগর-হাসাদহ, চুয়াডাঙ্গা-ঝিনাইদহ, চুয়াডাঙ্গা-কুষ্টিয়া ও চুয়াডাঙ্গা-হাটবোয়ালিয়া।
স্থানীয় ও পরিবহন সূত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার আলুকদিয়া এলাকায় ব্যাটারিচালিত একটি ইজিবাইক নিয়মবহির্ভূতভাবে শহরে প্রবেশের চেষ্টা করলে পুলিশ ও বাস শ্রমিক ইউনিয়নের প্রতিনিধিরা সেটি ফিরিয়ে দেন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে পরে ইজিবাইকচালক ও শ্রমিকদের একটি দল আলোকদিয়া এলাকায় সংগঠিত হয়ে চুয়াডাঙ্গা-মেহেরপুর আঞ্চলিক মহাসড়কে চলাচলকারী একটি বাস আটকে দেয়।
অভিযোগ রয়েছে, এ সময় তারা বাসের চালক ও সুপারভাইজারকে মারধর ও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার পাশাপাশি বাসে হামলা চালায়। একপর্যায়ে চালক ও সুপারভাইজারকে জিম্মি করে রাখা হয়। খবর পেয়ে চুয়াডাঙ্গা সদর থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের উদ্ধার করে।
এ ঘটনার প্রতিবাদে শনিবার সকাল থেকে জেলার সব রুটে বাস ও মিনিবাস চলাচল বন্ধ করে দেন পরিবহন মালিক ও শ্রমিকরা। ধর্মঘটের কারণে চুয়াডাঙ্গার সঙ্গে কুষ্টিয়াসহ আশপাশের জেলার সড়ক যোগাযোগে যাত্রী পরিবহনে বড় ধরনের বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে।
চুয়াডাঙ্গা আন্তঃজেলা বাস-মিনিবাস মালিক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক হাজী আবুল কালাম আজাদ বলেন, ইজিবাইকচালক ও শ্রমিকদের হামলায় বাসের চালক ও সুপারভাইজার আহত হয়েছেন এবং বাসও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ঘটনার প্রতিবাদ এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে বাস চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে।
এদিকে, বাস চলাচল বন্ধ থাকায় সাধারণ যাত্রীরা দ্রুত সমস্যার সমাধান এবং স্বাভাবিক পরিবহন ব্যবস্থা পুনরায় চালুর দাবি জানিয়েছেন। ধর্মঘট দীর্ঘায়িত হলে কুষ্টিয়া-চুয়াডাঙ্গাসহ সংশ্লিষ্ট রুটের যাত্রীদের দুর্ভোগ আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।