December 16, 2025, 8:26 am

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত দৈনিক কুষ্টিয়া অনলাইন পোর্টাল
সংবাদ শিরোনাম :
হাদির ওপর হামলা বিচ্ছিন্ন ঘটনা, নির্বাচন নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার কোনো কারণ নেই : সিইসি বিচারকদের সমন্বয়ে ইসির ৩০০ নির্বাচনি অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটি গঠন পদ্মায় নাব্য সংকটে সাময়িকভাবে বন্ধ দৌলতদিয়ার ৭ নম্বর ফেরিঘাট শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস/জাতির আলোকবর্তিকাদের স্মরণে হাদির ওপর হামলাকারীদের ধরিয়ে দিতে ৫০ লাখ টাকা পুরস্কার ঘোষণা কুষ্টিয়ায় কমছে না শীতকালীন সবজির দাম, চড়া মাছের বাজারও র‌্যাব কুষ্টিয়া, সিপিসি-১’র তৎপরতায় উজানগ্রামের দীর্ঘদিনের সহিংস বিরোধের অবসান ইকোর অর্থায়নে কুষ্টিয়ায় চার শতাধিক দরিদ্র মানুষের মাঝে খাবার বিতরণ ভোট ১২ ফেব্রুয়ারি মানবাধিকার দিবসে তারেক রহমানের প্রতিশ্রুতি: প্রতিশোধের রাজনীতি নয়, সমাধানের পথে বিএনপি

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়/৫ শিক্ষার্থীর কারণে আটকে আছে ৮১ জন

দৈনিক কুষ্টিয়া প্রতিবেদক/
নিয়ম জটিলতায় ৫ শিক্ষার্থীর কারনে চরম বিপাকে পড়েছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের  একটি বিভাগের একটি ব্যাচের ৮১ শিক্ষার্থী। এ কারনের একই সেশনের অন্য বিভাগের শিক্ষার্থীরা এ বিভাগের থেকে এগিয়ে গেছে প্রায় দেড় বছর। এ অবস্থা তৈরি হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) ব্যবস্থাপনা বিভাগে ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষে।
বিভাগ সূত্রে জানা যায়, ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষের ৪ শিক্ষার্থী তৃতীয় বর্ষের চূড়ান্ত পরীক্ষায় অকৃতকার্য হন। পরে ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের সঙ্গে ফের তৃতীয় বর্ষে ভর্তি হন তারা। এ ছাড়া ২০১৩-১৪ শিক্ষাবর্ষের অকৃতকার্য হওয়া একজন শিক্ষার্থীও তাদের সঙ্গে পুনঃভর্তি হন। কিন্তু ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে বিভাগে নতুন কারিকুলাম যুক্ত হয়। এতে বছরে ২ সেমিস্টারে ১০টি কোর্সের আওতায় দুটি ভাইভায় ৬০ নম্বর ও ৩০ নম্বরের ইনকোর্স পরীক্ষায় অংশ নেন তারা। কিন্তু ওই দুই শিক্ষাবর্ষের ৫ শিক্ষার্থী আগের কারিকুলাম অনুযায়ী একটি ভাইভায় ৭০ ও ৩০ নম্বরের ইনকোর্স পরীক্ষা দিয়েছিলেন। এ ছাড়া আরও পাঁচটি কোর্সের অমিল রয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম অনুযায়ী, পুনঃভর্তি ঐ ৫ জনের পরীক্ষা সম্পন্ন করে চলমান ব্যাচের সঙ্গে নিয়মিত শিক্ষার্থী করতে হবে। কিন্তু কারিকুলামের অমিল থাকায় সমস্যায় পড়তে হয় পরীক্ষা কমিটিকে। এ সমস্যা সমাধানে ২০২০ সালের ২৫ জানুয়ারি জরুরি সভায় বসে পরীক্ষা কমিটি। এতে এই ৫ জনকে নিয়মিত ব্যাচের সঙ্গে পরীক্ষা নেওয়া সম্ভব নয় বলে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। ফলে তাদের আলাদা ব্যাচ করে ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষের ৪ জন ও ২০১৩-১৪ শিক্ষাবর্ষের একজনের জন্য পৃথক দুটি পরীক্ষা কমিটি করা হয়। চরম বিপত্তি দেখা যায় যখন এই সিদ্ধান্তগুলো একই বছরের ২৭ ফেব্রæয়ারি অনুষদীয় একাডেমিক সভায় আলোচনা হয়। এতে নিয়মের কারনে ঐ পাঁচ শিক্ষার্থীকে আলাদা ব্যাচ করার সুযোগ নেই বলে জানানো হয়। তাদের আলাদা পরীক্ষা নিয়ে নিয়মিত ব্যাচের সঙ্গে চালিয়ে নিতে বলা হয়। কিন্তু তাদের কারিকুলাম, কোর্স, পরীক্ষা পদ্ধতি ভিন্ন হওয়ায় সংকট তৈরি হয়। এর মাঝে করোনার কারণে ক্যাম্পাস বন্ধ হওয়ায় সিদ্ধান্তে আসতে পারেনি কর্তৃপক্ষ।
গত ১৪ জানুয়ারি পাঁচ শিক্ষার্থীর বিষয়ে ১১৮তম একাডেমিক কাউন্সিলের সভায় বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়। বিষয়টি সিন্ডিকেটে পাঠানোর সিদ্ধান্ত গ্রহীত হয়।
এদিকে শিক্ষার্থী ও বিভাগ সূত্রে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক (সম্মান) ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের অন্যান্য বিভাগের শিক্ষার্থীরা চতুর্থ বর্ষের চূড়ান্ত পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন। কিন্তু ব্যবস্থাপনা বিভাগের একই শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীরা এখনও তৃতীয় বর্ষ পেরোতে পারেনি। তারা ২০১৯ সালের ১ অক্টোবর তৃতীয় বর্ষের প্রথম সেমিস্টার পরীক্ষা সম্পন্ন করেছেন। এরপর দ্বিতীয় সেমিস্টারের ক্লাস শেষ হলেও পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়নি। এতে প্রায় দেড় বছরের সেশনজটে পড়েছেন তারা। করোনার কারণে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হওয়ায় আরও বিপাকে পড়েন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা।
একাধিক শিক্ষার্থী জানান অন্য বিভাগে তাদের সহপাঠীরা অনার্স শেষ করে ফেলছে।
এ বিষয়ে পরীক্ষা কমিটির সভাপতি মোর্শেদ আলম জানান শিক্ষকদের আন্তরিকতার অভাব নেই। কিন্তু আইনি জটিলতার কারণে সময়মতো পরীক্ষা নেওয়া সম্ভব হয়নি।
ব্যবস্থাপনা বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক এএসএম সরফরাজ নেওয়াজ বলেন তারা অপেক্ষা করছেন সিন্ডিকেটের। আগামী ১৯ তারিখে সিন্ডিকেট সভা হবে বলে জানান তিনি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের  ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার মু. আতাউর রহমান জানান সিন্ডিকেটে বিষয়টি উঠবে। আশা করা যায় একটি সমাধানও আসবে।

নিউজটি শেয়ার করুন..

Comments are closed.

পুরোনো খবর এখানে,তারিখ অনুযায়ী

© All rights reserved © 2024 dainikkushtia.net
Maintenance By DainikKushtia.net