March 4, 2026, 7:53 pm

দৈনিক কুষ্টিয়া অনলাইন/
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়-এর সমাজকল্যাণ বিভাগের চেয়ারম্যান ও সহযোগী অধ্যাপক আসমা সাদিয়া রুনাকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়েছে। হত্যাকারী একই বিভাগের বিনা বেতনের কর্মচারী ফজলু। ছুরিকাঘাতের পর ফজলু নিজ গলায়ও ছুরি চালিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন।
বুধবার সাড়ে ৩টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের অন্তর্ভুক্ত সমাজকল্যাণ বিভাগের চেয়ারম্যানের দপ্তরে এ চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা, বেতনসংক্রান্ত বিরোধ ও অন্য বিভাগে বদলির ক্ষোভের জেরে এ ঘটনা ঘটতে পারে।
বিভাগীয় সূত্রে জানা গেছে, ফজলু ওই বিভাগের একজন থোক বরাদ্দপ্রাপ্ত ডে-লেবার। তিনি কয়েক বছর যাবৎ বিভাগের সুপারিশে ডে-লেবার ভিত্তিতে বেতন পেয়ে আসছিলেন। কিন্তু ৫ আগস্টের পরবর্তী সময়ে তাকে ‘আওয়ামী ট্যাগ’ দিয়ে বেতন থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। একদিকে বেতন বকেয়া, অন্যদিকে সম্প্রতি সভাপতি তাকে অন্য বিভাগে বদলি করে দেন। এ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে ক্ষুব্ধ ছিলেন ফজলু। প্রায়ই দফায় দফায় বিভাগের সভাপতি আসমা সাদিয়া লুনার সঙ্গে ফজলুর মৌখিক তর্ক-বিতর্কও হয়ে আসছিল।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ঘটনার দিন বিকেলে ফজলু সভাপতির কক্ষে প্রবেশ করে প্রথমে কথাকাটাকাটিতে জড়ান। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে তিনি সঙ্গে থাকা ধারালো অস্ত্র দিয়ে আসমা সাদিয়া লুনার গলায় আঘাত করেন।
হামলার আকস্মিকতায় উপস্থিত শিক্ষক-কর্মকর্তারা হতবিহ্বল হয়ে পড়েন। চিৎকার শুনে আশপাশের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা ছুটে এসে আহত দুজনকে উদ্ধার করেন। পরে তাদের দ্রুত বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসাকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয় এবং সেখান থেকে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়।
হাসপাতওিলর আবাসিক মেডিকেল অফিসার হাসান ইমাম জানান সন্ধ্যা ৬টার দিকে আসমা সাদিয়া রুনা মারা গেছেন।
ঘটনার পরপরই ক্যাম্পাসজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। শিক্ষার্থীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক দুরবস্থা ও অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। অনেকেই দাবি করেন, প্রশাসনিক বিরোধ দীর্ঘদিন ধরে চললেও যথাযথ সমাধান না হওয়ায় এমন অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এক জরুরি বৈঠকে ঘটনার নিন্দা জানিয়ে পূর্ণাঙ্গ তদন্তের ঘোষণা দিয়েছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কীভাবে একটি ধারালো অস্ত্র নিয়ে কোনো কর্মচারী অনায়াসে বিভাগীয় চেয়ারম্যানের কক্ষে প্রবেশ করলেন—তা খতিয়ে দেখা হবে। একই সঙ্গে বেতনসংক্রান্ত ও বদলি-সংক্রান্ত অভিযোগগুলোও তদন্তের আওতায় আনা হবে।
এ ঘটনায় শিক্ষক সমিতি ও কর্মকর্তা-কর্মচারী সমিতি পৃথক বিবৃতি দিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তারা বলেছে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এ ধরনের সহিংসতা কেবল ব্যক্তি আক্রমণ নয়, পুরো একাডেমিক পরিবেশের ওপর আঘাত। দ্রুত বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তারা।
ঘটনার পরপরই ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থানা-পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে আলামত সংগ্রহ করেছে।
ঘটনার পেছনে ব্যক্তিগত ক্ষোভ, প্রশাসনিক বিরোধ নাকি অন্য কোনো কারণ রয়েছে—তা তদন্তের মাধ্যমে স্পষ্ট হবে বলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে।
শিক্ষকের মৃত্যুর পর কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার জাসিম উদ্দিন কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে যান। তিনি জানান, অভিযুক্তকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তিনি বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।
উপাচার্য অধ্যাপক ড. নকিব মুহাম্মদ নাসরুল্লাহ এ ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, যে বিষয়টি হত্যাকাণ্ডের কারণ হয়েছে, তা সম্পূর্ণ অপ্রত্যাশিত। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন নির্দিষ্ট নিয়মনীতি অনুসরণ করে। কারও কোনো ঘাটতি বা অভিযোগ থাকলে তা প্রশাসনকে জানানোর কথা। কিন্তু এ ক্ষেত্রে বিষয়টি সম্পর্কে প্রশাসনকে অবহিত করা হয়নি।