April 9, 2026, 10:10 am

দৈনিক কুষ্টিয়া অনলাইন/
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সরকার পরিবর্তনের পর গত প্রায় ২০ মাসে সারাদেশে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে ‘লক্ষাধিক’ মামলা হয়েছে বলে দাবি করেছে দলটি। তবে এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো পরিসংখ্যান তারা দিতে পারেনি। আওয়ামী লীগ এসব মামলাকে রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত ও প্রতিহিংসামূলক বলে অভিযোগ করেছে। অন্যদিকে, পুলিশের পক্ষ থেকে এ দাবিকে অতিরঞ্জিত ও ভিত্তিহীন বলে মন্তব্য করা হয়েছে।
অপরদিকে, বিএনপির তথ্য অনুযায়ী, ২০০৭ সাল থেকে ২০২৫ সালের ১১ জানুয়ারি পর্যন্ত দলটির নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে মোট ১ লাখ ৪২ হাজার ৯৮৩টি মামলা দায়ের করা হয়েছিল। বিএনপির দাবি, ওই সময়কার অধিকাংশ মামলাই ছিল মিথ্যা ও হয়রানিমূলক।
আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে আরও অভিযোগ করা হয়েছে, দলটির প্রায় ১০ হাজার নেতা-কর্মীর কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। যদিও সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মহলের মতে, তাদের একটি অংশ আত্মগোপনে থাকতে পারেন।
দলটির নেতাদের অভিযোগ, সরকার পরিবর্তনের পর সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগের শীর্ষ ও তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে হত্যা, মানবতাবিরোধী অপরাধ, দুর্নীতি ও সহিংসতার অভিযোগে বিপুলসংখ্যক মামলা দায়ের হয়েছে। এসব মামলার বেশিরভাগই রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি তাদের। একইসঙ্গে তারা অভিযোগ করেন, অনেক ক্ষেত্রে ভুক্তভোগীরা থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করতেও সক্ষম হননি।
আওয়ামী লীগের নেতাদের ভাষ্য অনুযায়ী, দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনার বিরুদ্ধেই ৬০০-এর বেশি মামলা রয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে কয়েক লাখ মামলা দায়ের হয়েছে বলেও তারা দাবি করেন।
মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি (এইচআরএসএস)-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট থেকে ২০২৬ সালের ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত রাজনৈতিক সহিংসতার ১ হাজার ৪১১টি ঘটনায় অন্তত ১৯৫ জন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে আওয়ামী লীগের ২৬ জন নেতা-কর্মী রয়েছেন। এছাড়া রাজনৈতিক পরিচয়ের বাইরে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত ১৫৬ জন নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে আওয়ামী লীগের ৪৫ জনের সংশ্লিষ্টতার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এসব ঘটনার প্রতিটিতেই সংশ্লিষ্ট থানায় মামলা দায়ের হয়েছে বলে জানা গেছে।
আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, যিনি বর্তমানে দেশের বাইরে অবস্থান করছেন, দাবি করেন—দলটির কয়েক হাজার নেতা-কর্মী নিখোঁজ এবং বহু মানুষ হত্যার শিকার হয়েছেন। তবে এসব তথ্যের স্বাধীন যাচাই সম্ভব হয়নি।
একই ধরনের দাবি করেছেন আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য শেখ জামাল হোসাইন। তার মতে, কেন্দ্র থেকে তৃণমূল পর্যন্ত কয়েক লাখ নেতা-কর্মী মামলা ও গ্রেফতারের মুখোমুখি হয়েছেন, যার একটি অংশ বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন।
এদিকে, গত ১ এপ্রিল সংসদে এক প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান জানান, রাজনৈতিক দলগুলোর বিরুদ্ধে দায়ের করা ‘মিথ্যা’ বা ‘হয়রানিমূলক’ মামলার কোনো পৃথক সরকারি পরিসংখ্যান সংরক্ষণ করা হয় না। তবে বিএনপির ক্ষেত্রে মোট মামলার সংখ্যা হিসেবে ১ লাখ ৪২ হাজার ৯৮৩টি মামলার তথ্য সরকারের কাছে রয়েছে। এর মধ্যে ২৩ হাজার ৮৬৫টি মামলা প্রত্যাহার করা হয়েছে এবং বাকিগুলো প্রত্যাহারের প্রক্রিয়া চলমান।
পুলিশের অতিরিক্ত আইজিপি (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন্স) খন্দকার রফিকুল ইসলাম বলেন, বিভিন্ন সময়ের সহিংসতা, হামলা ও হত্যার অভিযোগে কিছু মামলা দায়ের হয়েছে। তবে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে যে ‘লাখ লাখ মামলা’র দাবি করা হচ্ছে, তা বাস্তবসম্মত নয় বলে তিনি উল্লেখ করেন।
বিশ্লেষণ/
সার্বিক পরিস্থিতিতে দেখা যাচ্ছে, রাজনৈতিক দলগুলোর পক্ষ থেকে মামলার সংখ্যা ও প্রকৃতি নিয়ে ভিন্নমুখী দাবি উঠে আসছে। নির্ভরযোগ্য ও সমন্বিত সরকারি তথ্যের অভাবে প্রকৃত চিত্র নির্ধারণ করা কঠিন হয়ে পড়েছে। ফলে বিষয়টি নিয়ে স্বচ্ছ ও যাচাইকৃত তথ্য প্রকাশের দাবি জোরালো হচ্ছে।