October 12, 2026, 6:10 pm

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত দৈনিক কুষ্টিয়া অনলাইন পোর্টাল
সংবাদ শিরোনাম :
কুষ্টিয়ায় মাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত ইউপি নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণা ইসির: প্রথম ধাপের ভোট ২১ জানুয়ারি, শেষ হবে মে মাসে ডেঙ্গু: শুধু মশার বিরুদ্ধে যুদ্ধ নয়, রাষ্ট্রের সক্ষমতাকেও চ্যালেঞ্জ দিচ্ছে? কুষ্টিয়া ও মেহেরপুর সীমান্তে পুশইনের দুটি চেষ্টা প্রতিহত করল বিজিবি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও ডিজিটাল প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে পর্যটন খাতকে নতুনভাবে সাজাতে হবে: ইবি উপাচার্য ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে স্তন ক্যান্সার সচেতনতায় ‘গোলাপী সড়ক শোভাযাত্রা’ ইবির উন্নয়ন (৩য় পর্যায়)-১ম সংশোধিত প্রকল্পের বাস্তবায়ন কমিটির সভা অনুষ্ঠিত ও সাইট পরিদর্শন বলাৎকারের অভিযোগে শিক্ষক আটক করতে গিয়ে দৌলতপুরে ওসিসহ ৩ পুলিশ আহত কুষ্টিয়ায় সাবেক এমপি ও উপজেলা চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা রূপপুরের প্রথম ইউনিটে ভালভ পরীক্ষা সফল, ডিসেম্বর টার্গে ট

চুয়াডাঙ্গায় উন্মুক্ত দরপত্র ছাড়াই এডিপির ১৮ প্রকল্পের কার্যাদেশ

দৈনিক কুষ্টিয়া অনলাইন/
চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলায় ২০২৫-২৬ অর্থবছরের উপজেলা বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) ১৮টি প্রকল্পের কার্যাদেশকে ঘিরে বিতর্ক দেখা দিয়েছে। প্রায় ৪৫ লাখ ৩৯ হাজার টাকার এসব প্রকল্প উন্মুক্ত দরপত্রের পরিবর্তে রিকোয়েস্ট ফর কোটেশন (আরএফকিউ) পদ্ধতিতে বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ নিয়ে সরকারি ক্রয়প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও প্রতিযোগিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক নেতারা।
উপজেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, এডিপির অতিরিক্ত চতুর্থ কিস্তিতে আলমডাঙ্গা উপজেলার জন্য ৪৫ লাখ ৩৯ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। গত ১ জুন প্রকল্পগুলো প্রাথমিকভাবে ভাগ করা হয়। পরে ১৪ জুন উপজেলা সমন্বয় কমিটির সভায় ১৮টি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়। সভার কার্যবিবরণী অনুযায়ী, স্থানীয় সংসদ সদস্য মাসুদ পারভেজের পরামর্শক্রমে প্রকল্পগুলো অনুমোদনের পাশাপাশি উপজেলা প্রকৌশলীকে প্রাক্কলন প্রস্তুত করে দ্রুত আরএফকিউ পদ্ধতিতে কাজ বাস্তবায়নের নির্দেশ দেওয়া হয়।
তবে উপজেলা প্রকৌশল কার্যালয়ের নথিতে ভিন্ন চিত্র পাওয়া গেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, উপজেলা প্রকৌশলী তাওহীদ আহমেদ ৭ ও ১৪ জুন পৃথক দুটি চিঠিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে প্রকল্পগুলো উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে বাস্তবায়নের সুপারিশ করেছিলেন। পরে সমন্বয় কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সেই সুপারিশ থেকে সরে এসে নির্দিষ্ট কয়েকটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে কার্যাদেশ দেওয়া হয়।
প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ক্রীড়া সামগ্রী, বই ও বাইসাইকেল বিতরণ, প্রতিবন্ধীদের জন্য হুইলচেয়ার সরবরাহ, বিভিন্ন ইউনিয়নে সোলার লাইট স্থাপন, রাস্তা উন্নয়ন, বৃক্ষরোপণ, স্বাস্থ্যসামগ্রী সরবরাহ এবং একটি সেতু সংস্কারের কাজ। এর মধ্যে পরিবহন ও যোগাযোগ খাতে ১০টি প্রকল্প রয়েছে। এছাড়া শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বিদ্যুতায়ন, কৃষি, পশুসম্পদ, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও বাজারজাতকরণ খাতেও প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
উপজেলা প্রকৌশল কার্যালয়ের নথি অনুযায়ী, প্রকল্পগুলোর কার্যাদেশ পেয়েছে কালিদাসপুরের মেসার্স নাসিমা এন্টারপ্রাইজ, হাউসপুরের শম্পা বিল্ডার্স, মেসার্স সাত্তার এন্টারপ্রাইজ এবং ঠিকাদার মো. হাফিজুর রহমান। এর মধ্যে মেসার্স সাত্তার এন্টারপ্রাইজ দুটি, মো. হাফিজুর রহমান দুটি এবং মেসার্স নাসিমা এন্টারপ্রাইজ একটি প্যাকেজের কার্যাদেশ পেয়েছে।
সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের দাবি, ১৮টি প্রকল্পের উল্লেখযোগ্য অংশের কাজ মূলত ছয়জন ঠিকাদারের মধ্যে বণ্টন করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, মো. হাফিজুর রহমান নিজের নামে দুটি প্যাকেজ নেওয়ার পাশাপাশি তাঁর স্ত্রীর মালিকানাধীন মেসার্স নাসিমা এন্টারপ্রাইজের নামেও একটি প্যাকেজ নিয়েছেন। এছাড়া শম্পা বিল্ডার্স ও মেসার্স সাত্তার এন্টারপ্রাইজের নামে বরাদ্দ পাওয়া কয়েকটি কাজও তাঁর তত্ত্বাবধানে বাস্তবায়িত হচ্ছে বলে স্থানীয়ভাবে অভিযোগ রয়েছে। তবে এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাঁর সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি।
স্থানীয় বিএনপি নেতাদের অভিযোগ, সরকারি বিধি অনুসরণ না করে রাজনৈতিক বিবেচনায় নির্দিষ্ট ব্যক্তিদের মধ্যে প্রকল্পগুলো বণ্টন করা হয়েছে। এ অভিযোগের প্রতিবাদে গত সোমবার উপজেলা পরিষদ ও এলজিইডি কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ করেন বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা। পরে তারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ জমা দেন।
আলমডাঙ্গা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম রোকন অভিযোগ করেন, উপজেলা প্রকৌশলী ও জামায়াতে ইসলামীর কয়েকজন নেতার যোগসাজশে গোপনে জামায়াত-সমর্থিত ঠিকাদারদের এসব কাজ দেওয়া হয়েছে। এতে উন্নয়নকাজের স্বচ্ছতা ও গুণগত মান নিয়ে জনমনে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির প্রভাষক শফিউল আলম বকুল। তিনি বলেন, ঠিকাদারদের রাজনৈতিক পরিচয় নয়, কাজের মানই গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর ভাষ্য, উপজেলা প্রকৌশলীর মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদাররা কাজ পেয়েছেন। তারা যে দলেরই সমর্থক হোন না কেন, উন্নয়নকাজের গুণগত মান নিশ্চিত করার দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের।
তবে কোন ধরনের পরিস্থিতিতে আরএফকিউ পদ্ধতি ব্যবহার করা যায়, জানতে চাইলে তিনি বলেন তিনি সেটা জানেননা।
এ বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী তাওহীদ আহমেদ বলেন, অর্থবছরের একেবারে শেষ দিকে বরাদ্দ পাওয়ায় সময়ের সীমাবদ্ধতা ছিল। উপজেলা সমন্বয় কমিটির সিদ্ধান্ত এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী আরএফকিউ পদ্ধতিতে কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে। এটি তাঁর ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত ছিল না।
এটা নিয়ম ব্যত্যয় করে করা হেয়ছে কিনা এ প্রশ্ন করা হলে তিনি কোন সদুত্তর দেননি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহীনুর আক্তার বলেন, প্রকল্প বাস্তবায়নে সরকারি বিধি-বিধান যথাযথভাবে অনুসরণ করা হবে। কোনো প্রকল্পে অনিয়ম বা নিম্নমানের কাজ পাওয়া গেলে বিল পরিশোধ করা হবে না এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন..

Comments are closed.

পুরোনো খবর এখানে,তারিখ অনুযায়ী

© All rights reserved © 2024 dainikkushtia.net
Maintenance By DainikKushtia.net