August 27, 2026, 10:25 am

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত দৈনিক কুষ্টিয়া অনলাইন পোর্টাল
সংবাদ শিরোনাম :
মেহেরপুরে গভীর রাতে ঘরে ঢুকে যুবতীর কব্জি কেটে নিল যুবক আবাসিক বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসন সংকট/শিক্ষক-কর্মকর্তাদের বাসস্থান ও ভবনের ব্যবহার নিয়ে কিছু প্রশ্ন ছয় মাসের অর্থনৈতিক পর্যালোচনা/বন্ধ হয়েছে ৯৫ কারখানা, কাজ হারিয়েছেন প্রায় ৬২ হাজার শ্রমিক সারের বরাদ্দ আছে, সংকট কোথায়? দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ১০ জেলায় সার বরাদ্দ দিয়েছে সরকার, কিন্তু কৃষকের হাতে যাচ্ছে না কুষ্টিয়ায় ফিরল দেবাশীষ ও স্ত্রী-সন্তানের নিথর দেহ, রাতেই স্ব স্ব ধর্মীয় রীতিতে শেষ বিদায় সরকারি বিজ্ঞাপনে শৃঙ্খলা ফেরাতে ডিএফপির কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ জরুরি রবীন্দ্র মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ, প্রতিবাদ ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের নতুন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী আন্দালিব রহমান পার্থ বিয়ের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে বরের মৃত্যু

ইবিতে একটি বিশেষ ধর্মীয় বাধ্যতামূলক কোর্স নিয়ে বিতর্ক: ঐচ্ছিক করার দাবিতে সনাতনী শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন

দৈনিক কুষ্টিয়া প্রতিবেদক,ইবি/
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) শিক্ষার নামে সবার জন্য বাধ্যতামূলক করা ‘ইসলামিক স্টাডিজ’ ও ‘বাংলাদেশ স্টাডিজ’ কোর্সকে ঐচ্ছিক করার দাবিতে রবিবার (১২ জুলাই) মৌন মানববন্ধন করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সনাতন ধর্মাবলম্বী শিক্ষার্থীদের একটি অংশ।
দুপুর ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ভবনের সামনে অনুষ্ঠিত এ কর্মসূচিতে অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী অংশ নেন। পরে তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমানের কাছে স্মারকলিপি দিয়ে তিন দফা দাবি তুলে ধরেন।
শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো হলো—’ইসলামিক স্টাডিজ’ ও ‘বাংলাদেশ স্টাডিজ’ কোর্সকে ঐচ্ছিক করা, শিক্ষার্থীদের একাডেমিক স্বাধীনতা ও নিজস্ব পছন্দের অধিকার নিশ্চিত করা এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক ও ভারসাম্যপূর্ণ পাঠ্যক্রম প্রণয়ন করা।
মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীদের হাতে “বৈষম্যমূলক শিক্ষা মানি না, মানব না”, “চাপিয়ে দেওয়া কোর্স মানি না, মানব না”, “শিক্ষার্থীর অধিকার রক্ষা কর” এবং “শিক্ষা হোক স্বাধীন”—এমন নানা স্লোগানসংবলিত প্ল্যাকার্ড দেখা যায়।
জানা গেছে, বিগতৃঅন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে নিউ প্রাপ্ত উপাচার্য ড. নকীব মোহাম্মদ নসরুল্লাহর প্রশাসন বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেটের অনুমোদনের মাধ্যমে ‘ইসলামিক স্টাডিজ’ ও ‘বাংলাদেশ স্টাডিজ’ কোর্স দুটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল বিভাগের সকল শিক্ষার্থীদের জন্য বাধ্যতামূলক করার সিদ্ধান্ত নেয়। এরপর থেকেই বিষয়টি নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে আলোচনা ও মতভেদ দেখা দেয়। একাংশ সিদ্ধান্তটিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহ্য ও নৈতিক শিক্ষার অংশ হিসেবে সমর্থন জানালেও, অন্য অংশের দাবি—একটি ধর্মভিত্তিক কোর্স সব শিক্ষার্থীর জন্য বাধ্যতামূলক না করে ঐচ্ছিক রাখা উচিত।
স্মারকলিপি গ্রহণের পর উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান বলেন, বিষয়টি একটি একাডেমিক সিদ্ধান্ত এবং এটি সিন্ডিকেটের অনুমোদনের মাধ্যমে গৃহীত হয়েছে। তাই এককভাবে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেওয়ার সুযোগ নেই। তবে শিক্ষার্থীদের দাবি আগামী সিন্ডিকেট সভায় উপস্থাপন করা হবে এবং সেখানে আলোচনা শেষে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
বিশ্ববিদ্যালয়-সংশ্লিষ্টদের মতে, এ ঘটনায় মূল বিতর্ক ধর্মীয় পরিচয়কে ঘিরে নয়; বরং একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ধর্মভিত্তিক কোর্স বাধ্যতামূলক হওয়া, শিক্ষার্থীদের একাডেমিক স্বাধীনতা এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক পাঠ্যক্রমের প্রশ্নকে কেন্দ্র করেই আলোচনা তৈরি হয়েছে। এখন প্রশাসনের পরবর্তী সিদ্ধান্তের দিকেই নজর রয়েছে শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ সংশ্লিষ্ট সবার।
উল্লেখ্য ১৯৯২ সালে এ ধরনের নিবর্তনমূলক কোর্স শিক্ষার্থীদের ওপর চাপিয়ে দেয়ার কারণে ওই সময়ে জোর আন্দোলনের মুখে তৎকালীন ভাইস চ্যান্সেলর আব্দুল হামিদের পতন ঘটে।
একজন সাবেক শিক্ষার্থী জানান, ওই ঘটনার পর কোন প্রশাসনই এটা করতে সাহস করেনি। কিন্তু অন্তর্বর্তী সরকারের সময় একজন দুর্বল ও সম্প্রদায়িক মনোভাবাপন্ন উপাচার্য পুনরায় এটা করে বসে।

নিউজটি শেয়ার করুন..

Comments are closed.

পুরোনো খবর এখানে,তারিখ অনুযায়ী

© All rights reserved © 2024 dainikkushtia.net
Maintenance By DainikKushtia.net