October 12, 2026, 4:46 pm

দৈনিক কুষ্টিয়া অনলাইন/
দেশের সর্বনিম্ন স্তরের স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনের বহুল প্রতীক্ষিত রোডম্যাপ ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। নতুন নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী মোট পাঁচ ধাপে সারা দেশে ইউপি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে প্রথম ধাপের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে ২০২৭ সালের ২১ জানুয়ারি।
সোমবার (১২ অক্টোবর) নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই রোডম্যাপ আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেন নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ।
পাঁচ ধাপের সময়সূচি
সংবাদ সম্মেলনে ঘোষিত রোডম্যাপ অনুযায়ী, প্রথম ধাপে ২০২৭ সালের ২১ জানুয়ারি ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। এর মাত্র দু-সপ্তাহ পর ৪ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে দ্বিতীয় ধাপের নির্বাচন। পরবর্তীতে তৃতীয় ধাপের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে ২৯ এপ্রিল। শেষ ভাগে চতুর্থ ও পঞ্চম ধাপের নির্বাচন যথাক্রমে ১৩ মে ও ২৭ মে আয়োজন করা হবে।
ইসি সানাউল্লাহ জানান, আইন ও বিধি অনুযায়ী জেলা নির্বাচন কর্মকর্তারা সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করবেন। সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী ভোটের অন্তত ৬ সপ্তাহ (৪২ দিন) আগে সংশ্লিষ্ট ধাপের পূর্ণাঙ্গ সময়সূচি ও তফসিল জারি করা হবে।
সকালে কমিশনের সিদ্ধান্তমূলক সভা
রোডম্যাপ ঘোষণার আগে সকালে স্থানীয় সরকারের এই গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠানের দিনক্ষণ ও নীতিগত সিদ্ধান্ত নির্ধারণে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে বসে নির্বাচন কমিশন।
রাজধানীর আগারগাঁওস্থ নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের সভাপতিত্বে সকাল ১০টা ৩০ মিনিটে এই মিটিং শুরু হয়। বৈঠকে চারজন নির্বাচন কমিশনার, কমিশন সচিব এবং সংশ্লিষ্ট জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। দীর্ঘ আলোচনা শেষে দেশের সামগ্রিক রাজনৈতিক, প্রশাসনিক ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিবেচনায় রেখে পর্যায়ক্রমে পাঁচ ধাপে নির্বাচন সম্পন্ন করার পরিকল্পনা গৃহীত হয়।
প্রেক্ষাপট ও ইতিবৃত্ত
উল্লেখ্য, বাংলাদেশে ইউনিয়নের সংখ্যা চার হাজার চারশ’রও বেশি। প্রতি পাঁচ বছর পর পর স্থানীয় সরকারের এই গুরুত্বপূর্ণ ধাপে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। সর্বশেষ ষষ্ঠ ধাপের ইউপি নির্বাচন ২০২১ ও ২০২২ সালের বিভিন্ন সময়ে অনুষ্ঠিত হয়েছিল।
ইউনিয়ন পরিষদ আইন অনুযায়ী, মেয়াদ শেষ হওয়ার পূর্ববর্তী ১৮০ দিনের মধ্যে নির্বাচন সম্পন্ন করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। সেই ধারাবাহিকতায় স্থানীয় পর্যায়ে জনপ্রতিনিধি বাছাই, গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন, স্থানীয় বিরোধ নিষ্পত্তি এবং প্রশাসনিক ধারাবাহিকতা রক্ষায় এবারও একাধিক ধাপে ভোটের আয়োজন করছে ইসি।
স্থানীয় সরকার বিশ্লেষকদের মতে, ধাপে ধাপে নির্বাচন আয়োজন করার ফলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও প্রশাসনিক সম্পদ সঠিকভাবে ব্যবস্থাপনা করা সম্ভব হয়। নতুন কমিশনের এই রোডম্যাপ ঘোষণার মধ্য দিয়ে তৃণমূলের রাজনীতিতে ও গ্রামীণ জনপদে আগাম নির্বাচনী আবহ বইতে শুরু করেছে। আগামী কয়েক মাসের মধ্যে তফসিল ঘোষিত হলে মনোনয়নপত্র জমা, বাছাই ও প্রচারণা পর্ব শুরু হবে।