November 3, 2026, 12:46 am

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত দৈনিক কুষ্টিয়া অনলাইন পোর্টাল
সংবাদ শিরোনাম :
এলপিজির দাম সমন্বয় হোক, কিন্তু মানুষের জীবনকে অসমন্বিত রেখে নয় ২৮ বছরের ছাত্ররাজনীতি, ছেলের এইচএসসি পাসের পোস্ট ঘিরে আলোচনা; বিলুপ্ত চুয়াডাঙ্গা ছাত্রদলের কমিটি রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র: জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ যুক্ত হওয়ার পাঁচ সপ্তাহের ক্ষণগণনা শুরু ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা গড়ে তুলতে সম্মিলিত সামাজিক জোটের মানবিক উদ্যোগে জেলা প্রশাসকের সন্তোষ প্রকাশ সম্মিলিত সামাজিক জোটের উদ্যোগে ডেঙ্গু সচেতনতায় ক্যাম্পেইন পাবনায় বজ্রপাতে ৬ জনের মৃত্যু, আহত ৩ রেল নিয়ে কথিত যশোর অঞ্চলের ছয় দফা আঞ্চলিক ভারসাম্যহীন, পদ্মা সেতুর সুবিধা কি শুধু যশোরের জন্য? রূপপুরের দ্বিতীয় ইউনিটে পারমাণবিক জ্বালানি সরবরাহ শুরু কুষ্টিয়ায় ডেঙ্গু সচেতনতায় সম্মিলিত সামাজিক জোট ও ডা. মানিকের যুগপৎ উদ্যোগ মহেশপুর সীমান্তে তিন ভারতীয় নাগরিকসহ আটক ৮

এলপিজির দাম সমন্বয় হোক, কিন্তু মানুষের জীবনকে অসমন্বিত রেখে নয়

ড.আমানুর আমান
দাম বাড়ার খবর এখন আর মানুষকে খুব বেশি চমকে দেয় না। বরং কোনো পণ্যের দাম বাড়েনি—এমন খবরই যেন আজকাল বিস্ময় জাগায়। কিন্তু সব পণ্যের দাম বাড়ার অভিঘাত এক রকম নয়। কোনো পণ্যের দাম বাড়লে মানুষ সেটি কম কিনতে পারে, বিকল্প পণ্য বেছে নিতে পারে, কখনোবা একেবারেই বাদ দিতে পারে। কিন্তু রান্নার গ্যাস? সেটি বাদ দেওয়ার সুযোগ কতটা আছে? বিশেষ করে শহর ও নগরাঞ্চলের সেই বিপুলসংখ্যক পরিবার, যাদের ঘরে পাইপলাইনের গ্যাস নেই, তাদের কাছে একটি এলপিজি সিলিন্ডার বিলাসপণ্য নয়; এটি রান্নাঘরের আগুন জ্বালানোর অবলম্বন, সংসারের প্রতিদিনের প্রয়োজন, জীবনযাপনের অবিচ্ছেদ্য অংশ।

এই বাস্তবতার মধ্যেই আবার বাড়ল এলপিজির দাম। বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন—বিইআরসি—১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ১ হাজার ৮৩৭ টাকা থেকে ২২৩ টাকা বাড়িয়ে ২ হাজার ৬০ টাকা নির্ধারণ করেছে। নতুন দাম ২ নভেম্বর রাত ৮টা থেকে কার্যকর হয়েছে। অথচ এর মাত্র এক মাস আগেই অক্টোবরের জন্য ১২ কেজির সিলিন্ডারের দাম ২৫২ টাকা বাড়িয়ে ১ হাজার ৮৩৭ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল। অর্থাৎ এক মাসের ব্যবধানে আরও ২২৩ টাকা।

এখানেই প্রশ্নটি জরুরি—দাম সমন্বয় কি সত্যিই প্রয়োজন ছিল? যদি প্রয়োজন হয়ে থাকে, সেই প্রয়োজনের পুরো ভার কি ভোক্তার ওপর চাপানো ন্যায়সংগত? আর সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—সরকার যখন দাম নির্ধারণ করে, তখন বাজারে সেই দাম কার্যকর করার দায়িত্বটুকু কতটা পালন করে?

প্রথমেই স্বীকার করে নেওয়া দরকার, এলপিজির মূল্য নির্ধারণের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক বাজারের প্রভাব অস্বীকার করার সুযোগ নেই। বাংলাদেশ বিপুল পরিমাণ এলপিজি আমদানি করে। আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়লে আমদানি ব্যয় বাড়ে; জাহাজভাড়া, ডলার বিনিময় হার, পরিবহন, মজুত, বোতলজাতকরণ ও বিতরণ ব্যয়ও মূল্য নির্ধারণে প্রভাব ফেলে। বিইআরসির বর্তমান মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতিও আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পরিচালিত হয়। ২০২৬ সালের এপ্রিলেই আন্তর্জাতিক বাজার, আমদানি-সংক্রান্ত ব্যয় ও পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধির যুক্তিতে ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ১ হাজার ৩৪১ টাকা থেকে এক লাফে ১ হাজার ৭২৮ টাকা করা হয়েছিল। মাত্র ১৮ দিনের ব্যবধানে আবার ২১২ টাকা বাড়িয়ে ১ হাজার ৯৪০ টাকা করার ঘটনাও ঘটেছে।

অতএব ‘আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়লে দেশে দাম বাড়বে’—এই যুক্তির অর্থনৈতিক ভিত্তি আছে। একটি আমদানিনির্ভর পণ্যের ক্ষেত্রে কৃত্রিমভাবে দীর্ঘদিন দাম আটকে রাখলে আমদানিকারকের ক্ষতি হতে পারে, সরবরাহ বাধাগ্রস্ত হতে পারে, বাজারে সংকট তৈরি হতে পারে। শেষ পর্যন্ত সেটির ফল ভোক্তাকেই ভোগ করতে হয়।

কিন্তু এখানেই যুক্তির দ্বিতীয় অর্ধটি সামনে আসে। আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়লেই কি দেশের প্রতিটি স্তরের খরচ একই হারে বাড়ে? আন্তর্জাতিক দামের সঙ্গে সঙ্গে আমদানিকারকের কমিশন, ডিলারের কমিশন, খুচরা বিক্রেতার কমিশন—সবকিছু কি সমানুপাতিক হারে বাড়তেই হবে? এই প্রশ্নের উত্তর না খুঁজে কেবল ‘মূল্য সমন্বয়’ শব্দটি ব্যবহার করলে সেটি অর্থনৈতিক যুক্তি নয়, বরং দায় এড়ানোর ভাষা হয়ে উঠতে পারে।

সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তেই বিষয়টি স্পষ্ট। নতুন কাঠামোয় ১২ কেজি সিলিন্ডারের ক্ষেত্রে আমদানিকারকের মজুত ও বোতলজাতকরণ চার্জ ২০০ টাকা থেকে ২৮১ টাকা ৭৬ পয়সা, ডিলার কমিশন ৫০ টাকা থেকে ৮৫ টাকা এবং খুচরা বিক্রেতার কমিশন ৪৫ টাকা থেকে ৭০ টাকা করার কথা বলা হয়েছে। অর্থাৎ কেবল আন্তর্জাতিক বাজারের দাম নয়, দেশীয় সরবরাহ ব্যবস্থার বিভিন্ন স্তরের কমিশনও বেড়েছে।

এই জায়গাতেই ভোক্তার প্রশ্ন—আমার আয় কি একই সময়ে ২২৩ টাকা বেড়েছে?

সরকারি ব্যয়ের সমন্বয় প্রয়োজন, ব্যবসার ব্যয়ের সমন্বয় প্রয়োজন, আমদানিকারকের হিসাবের সমন্বয় প্রয়োজন—সবই সত্য। কিন্তু মানুষের সংসারের হিসাবেরও তো সমন্বয় প্রয়োজন। একটি নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবারের মাসিক আয় যদি একই থাকে, অথচ চাল, ডাল, তেল, মাছ, সবজি, পরিবহন, শিক্ষা, চিকিৎসা এবং এখন রান্নার গ্যাস—সবকিছুর দাম বাড়তে থাকে, তাহলে সেই পরিবার সমন্বয় করবে কোথায়? তার সংসারের বাজেটে কি নতুন কোনো অদৃশ্য আয় যুক্ত হয়?

এখানেই রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক দর্শনের সঙ্গে সামাজিক দায়িত্বের সংঘাত তৈরি হয়।

২০২৫ সালের শেষ দিকে ১২ কেজি এলপিজির দাম ছিল ১ হাজার ২৫৩ টাকা। জানুয়ারি ২০২৬-এ সেটি বেড়ে ১ হাজার ৩০৬ টাকা হয়। এরপর ফেব্রুয়ারিতে কমে ১ হাজার ৩৪১ টাকা, এপ্রিল মাসে এক লাফে ১ হাজার ৭২৮ টাকা এবং এপ্রিলের দ্বিতীয়ার্ধে ১ হাজার ৯৪০ টাকা পর্যন্ত পৌঁছায়। পরবর্তী সময়ে বাজার পরিস্থিতির পরিবর্তনে সেপ্টেম্বর মাসে দাম কমে ১ হাজার ৫৮৫ টাকা হয়েছিল। অর্থাৎ বাজারভিত্তিক মূল্য সমন্বয়ের ফলে দাম কখনো কমেছে, কখনো বেড়েছে—এটিও সত্য।

সুতরাং সমালোচনাটি হওয়া উচিত নয় যে এলপিজির দাম কখনোই বাড়ানো যাবে না। সেটি বাস্তবসম্মত দাবি নয়। বরং প্রশ্ন হওয়া উচিত—কখন বাড়বে, কতটা বাড়বে, কেন বাড়বে এবং বাড়তি ব্যয়ের প্রতিটি টাকা আদৌ ন্যায্য কি না।

আরও বড় সমস্যা রয়েছে ঘোষিত দাম ও বাজারদামের মধ্যে।

অক্টোবরে বিইআরসি ১২ কেজির সিলিন্ডারের দাম ১ হাজার ৮৩৭ টাকা নির্ধারণ করলেও রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় সেটি ২ হাজার ২০০ থেকে ২ হাজার ৩০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হওয়ার খবর এসেছে। সেপ্টেম্বরেও নির্ধারিত ১ হাজার ৫৮৫ টাকার বিপরীতে কোথাও কোথাও ১ হাজার ৮৩০ থেকে ২ হাজার ১০০ টাকা পর্যন্ত দাম নেওয়ার অভিযোগ ছিল।

অর্থাৎ সমস্যাটি শুধু ‘দাম বাড়ল’ নয়; সমস্যা হলো ‘দাম বাড়ার পরও নির্ধারিত দামে পণ্য পাওয়া গেল না।’

এখানে রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রক ভূমিকা প্রশ্নের মুখে পড়ে। সরকার যদি একটি সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য নির্ধারণ করে, তাহলে সেই মূল্যে পণ্য পাওয়ার নিশ্চয়তাও তাকে দিতে হবে। তা না হলে প্রজ্ঞাপন কাগজে থাকে, বাজার চলে নিজের নিয়মে। আর সেই নিয়মের সবচেয়ে বড় শিকার হন সাধারণ মানুষ।

এলপিজির বাজারে সরবরাহ সংকটের অভিযোগও নতুন নয়। সাম্প্রতিক সময়ে পাইপলাইনের গ্যাসের ঘাটতি, আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতা ও পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধির কারণে এলপিজির চাহিদা বেড়েছে। কিন্তু একই সঙ্গে নির্ধারিত দামের চেয়ে ৩০০–৫০০ টাকা বেশি দামে সিলিন্ডার বিক্রির অভিযোগও সামনে এসেছে।

এই বাস্তবতায় দাম বাড়ানোর আগে সরকারের উচিত ছিল আরও একটি প্রশ্ন করা—বাজারে সত্যিই কি পণ্যের ঘাটতি আছে, নাকি বাজার ব্যবস্থাপনার ঘাটতি আছে?

কারণ মূল্যবৃদ্ধির সবচেয়ে সহজ পথ হলো ভোক্তার পকেট থেকে টাকা নেওয়া। কঠিন পথ হলো পুরো সরবরাহব্যবস্থার হিসাব খতিয়ে দেখা—কোথায় অদক্ষতা, কোথায় অতিরিক্ত মুনাফা, কোথায় কৃত্রিম সংকট, কোথায় মজুতদারি, কোথায় পরিবহন ব্যয়ের অযৌক্তিক বৃদ্ধি এবং কোথায় নিয়ন্ত্রণের দুর্বলতা।

ভোক্তা অধিকার সংগঠনগুলোও এই জায়গাতেই প্রশ্ন তুলেছে। তাদের বক্তব্যের সারকথা হলো, আন্তর্জাতিক বাজারে এলপিজির দাম বাড়লে দেশের পরিবহন, মজুত ও বিতরণ ব্যয় একই অনুপাতে বাড়ে না; তাই প্রতিটি স্তরের কমিশন একসঙ্গে বাড়ানোর যৌক্তিকতা যাচাই করা দরকার।

এই যুক্তি উড়িয়ে দেওয়ার সুযোগ নেই।

কারণ একজন সাধারণ ভোক্তা আন্তর্জাতিক বাজার বোঝেন না—তিনি বোঝেন তাঁর রান্নাঘরের হিসাব। তিনি সৌদি আরামকোর কনট্রাক্ট প্রাইস কত হলো, তা দিয়ে বাজার করেন না; তিনি মাসের শেষে বেতনের টাকা গুনে সিলিন্ডার কেনেন। তাঁর কাছে ২২৩ টাকা মানে কেবল একটি সংখ্যা নয়। এই ২২৩ টাকা হয়তো একদিনের বাজার, সন্তানের স্কুলের খরচের অংশ, ওষুধের টাকা, অথবা মাসের শেষ সপ্তাহে পরিবারের খাবারের বাজেট।

রাষ্ট্রের অর্থনীতি যদি কেবল সংখ্যার হিসাব হয়, তাহলে মানুষের জীবন সেখানে কোথায়?

অবশ্যই রাষ্ট্রকে ভর্তুকিরও সীমা বিবেচনা করতে হয়। প্রতিটি পণ্যের দাম কৃত্রিমভাবে কমিয়ে রাখা দীর্ঘমেয়াদে সরকারি অর্থনীতির ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে। ভর্তুকির অর্থ শেষ পর্যন্ত জনগণের করের টাকা। তাই সব সময় কম দাম দেখানোই ভালো নীতি নয়। বরং দরকার লক্ষ্যভিত্তিক সহায়তা—যারা সত্যিই অসহায়, তাদের জন্য সামাজিক সুরক্ষা; আর বাজারে যারা সক্ষম, তাদের জন্য স্বচ্ছ ও প্রতিযোগিতামূলক মূল্যব্যবস্থা।

এলপিজির ক্ষেত্রেও সেই পথ খোলা আছে। প্রথমত, আন্তর্জাতিক বাজারের দামের সঙ্গে সমন্বয় থাকুক, কিন্তু সেই সমন্বয় হোক স্বচ্ছ। দ্বিতীয়ত, আমদানিকারক থেকে খুচরা বিক্রেতা পর্যন্ত প্রতিটি স্তরের ব্যয় ও মুনাফার হিসাব প্রকাশযোগ্য করা হোক। তৃতীয়ত, ঘোষিত দামে পণ্য বিক্রি নিশ্চিত করা হোক। চতুর্থত, কৃত্রিম সংকট বা মজুতদারির অভিযোগ দ্রুত তদন্ত করা হোক। পঞ্চমত, নিম্নআয়ের পরিবারের জন্য লক্ষ্যভিত্তিক সহায়তার ব্যবস্থা করা হোক।

সবচেয়ে বড় কথা, মূল্য সমন্বয় যেন কেবল ঊর্ধ্বমুখী না হয়। আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কমলে তার সুফলও যেন দ্রুত দেশের ভোক্তার কাছে পৌঁছায়। ২০২৫ সালে যেমন বিইআরসি আন্তর্জাতিক বাজারের পরিবর্তনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সেপ্টেম্বর মাসে এলপিজির দাম কমিয়েছিল, তেমনই বাজার পরিস্থিতি অনুকূল হলে মূল্য কমানোর সিদ্ধান্তও দ্রুত কার্যকর হওয়া উচিত।

একটি বিষয় ভুলে গেলে চলবে না—এলপিজি কোনো বিলাসী পণ্য নয়। যে পরিবার পাইপলাইনের গ্যাস পায় না, তার রান্নাঘরে এটি জীবনধারণের জ্বালানি। ফলে এর মূল্য নির্ধারণে সাধারণ বাণিজ্যিক পণ্যের মতো কেবল ‘খরচ বেড়েছে, দাম বাড়বে’ সূত্র প্রয়োগ করা যথেষ্ট নয়। এখানে জনস্বার্থের একটি অতিরিক্ত মানদণ্ড থাকতে হবে।

সরকারি ব্যয়ের সমন্বয় অবশ্যই দরকার। আমদানিকারকের ব্যয়ের সমন্বয়ও দরকার। কিন্তু মানুষের জীবনেরও সমন্বয় দরকার। রাষ্ট্রের বাজেট যেমন হিসাব করে তৈরি হয়, একটি মধ্যবিত্ত পরিবারের রান্নাঘরের বাজেটও তেমনি হিসাব করেই চলে। পার্থক্য হলো—রাষ্ট্রের ঘাটতি পূরণের জন্য নতুন রাজস্বের পথ থাকে; একটি দরিদ্র পরিবারের ঘাটতি পূরণের জন্য থাকে না।

তাই এলপিজির দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্তকে সরলভাবে ‘যৌক্তিক’ বা ‘অযৌক্তিক’ বলে শেষ করে দেওয়া যায় না। আন্তর্জাতিক বাজার ও আমদানি ব্যয়ের কারণে মূল্য সমন্বয়ের প্রয়োজনীয়তা যৌক্তিক। কিন্তু একই সঙ্গে বাজারে ঘোষিত দাম কার্যকর না হওয়া, বিভিন্ন স্তরের কমিশন বৃদ্ধির স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন থাকা এবং সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বিষয়টি উপেক্ষা করা অযৌক্তিক ও উদ্বেগজনক।

শেষ পর্যন্ত রাষ্ট্রের সাফল্য শুধু কত টাকা রাজস্ব আদায় হলো, কত টাকা ব্যয় কমানো গেল, কিংবা আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে কত দ্রুত দাম সমন্বয় করা গেল—এসব দিয়ে মাপা যায় না। রাষ্ট্রের সাফল্য মাপতে হবে তার নাগরিকের রান্নাঘরেও। একটি মা যখন চুলার সামনে দাঁড়িয়ে ভাবেন, ‘আজকের খাবারটা কীভাবে হবে?’—সেই প্রশ্নের উত্তরও অর্থনীতির অংশ।

দাম বাড়ানোর আগে তাই শুধু বাজারের হিসাব নয়, মানুষের মুখের হিসাবও করতে হবে।

কারণ একটি সিলিন্ডারের দাম ২২৩ টাকা বাড়তে পারে। কিন্তু মানুষের আয় ২২৩ টাকা করে বাড়ে না। আর রাষ্ট্র যদি এই সহজ সত্যটুকু ভুলে যায়, তাহলে মূল্য সমন্বয় কেবল অর্থনীতির হিসাব থাকবে—মানুষের জীবনের হিসাব থাকবে না।
ড. আমানুর আমান, সম্পাদক প্রকাশক ও মুদ্রাকর, দৈনিক কুষ্টিয়া ও দি কুষ্টিয়া টাইমস

নিউজটি শেয়ার করুন..

Comments are closed.

পুরোনো খবর এখানে,তারিখ অনুযায়ী

MonTueWedThuFriSatSun
 1
2345678
9101112131415
16171819202122
23242526272829
30 
© All rights reserved © 2024 dainikkushtia.net
Maintenance By DainikKushtia.net