October 23, 2026, 6:03 pm

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত দৈনিক কুষ্টিয়া অনলাইন পোর্টাল
সংবাদ শিরোনাম :
জাহাজ কমলেও বাড়ছে পণ্য পরিবহন, পিছিয়ে কার্যকর সক্ষমতা; রেলপথের ব্যবহার, নাব্যতা ও ব্যবস্থাপনায় সমন্বিত উদ্যোগের তাগিদ কুষ্টিয়ায় সম্মিলিত সামাজিক জোটের সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত কঠোর নিরাপত্তায় রূপপুরে পৌঁছাল দ্বিতীয় ইউনিটের প্রথম ইউরেনিয়াম চালান লালনের মানবতাবাদী দর্শন ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বানে শেষ হলো তিন দিনের তিরোধান দিবসের আয়োজন অর্থ লেনদেনের কোন প্রশ্নই উঠে না, কুষ্টিয়া যুবদল সভাপতির সংবাদ সম্মেলন কুষ্টিয়াতে আওয়ামী লীগের সাবেক দুই এমপির বিরুদ্ধে দুদকের মামলা অনুমোদন খোকসায় বেকারির ওভেন বিস্ফোরণে প্রধান মিস্ত্রি নিহত, দগ্ধ ২ লালনের শিক্ষা স্কুলে পৌঁছে দিতে চান প্রধানমন্ত্রী: তথ্য উপদেষ্টা তিরোধান দিবসের ভাবগাম্ভীর্যে ছেঁউড়িয়ায় হয়েছে তিনদিনের লালন মেলা কুষ্টিয়া সরকারি কলেজে একাদশ শ্রেণির হাজার শিক্ষার্থীর নবীনবরণ

কাঙাল হরিনাথের জীবন ও কর্ম নিয়ে মাসুম রেজা মঞ্চে আনলো ‘এডিটর মহাশয়’

দৈনিক কুষ্টিয়া অনলাইন/
উপমহাদেশে গ্রামীণ সাংবাদিকতার পথিকৃৎ কাঙাল হরিনাথের জীবন ও কর্ম নিয়ে নাট্যকার মাসুম রেজা মঞ্চে আনলো এডিটর মহাশয়’। এটি কুষ্টিয়া শিল্পকলা একাডেমি মঞ্চে শুক্রবার রাতে মঞ্চস্থ হলো। প্রায় ৬০০ মানুষের হলরুম কানায় কানায় পূর্ণ ছিল।
কুষ্টিয়ার কুমারখালীর গ্রামীণ জনপদে জন্ম নেয়া কাঙাল হরিনাথ মজুমদার কিভাবে হয়ে উঠেছিলেন নিপীড়িত মানুষের আশা ভরসার আশ্রয়। সেই সত্য ঘটনাবলীই এই নাটকে উঠে এসেছে।
মাসুম রেজার নিজেই নাটকটির রচনা ও নির্দেশনায় ছিলেন। মঞ্চস্থ করলো বোধন থিয়েটার কুষ্টিয়া।
এ নাট্যের সময়কাল ১৮৬৩ সালের গোড়ার দিক থেকে শুরু। এই সময়কালে কুমারখালী থেকে গ্রামবার্ত্তা প্রকাশিকা শিরোনামে একটি মাসিক পত্রিকা প্রকাশ হতে শুরু করে। যার এডিটর কাঙাল হরিনাথ মজুমদার। আঠারোশ’ বাহাত্তর সালে যখন পাবনা ও সিরাজগঞ্জে কৃষক বিদ্রোহের আগুন জ্বলে ওঠে তখন তৎকালীন জমিদাররা বিদ্রোহ সংগঠনের অভিযোগ আনেন গ্রামবার্ত্তার বিরুদ্ধে। কাঙালকে উপুর্যুপরি হত্যাচেষ্টা চালাতে থাকেন তাঁরা। সকল লোভ ও ভয়কে উপেক্ষা করে একজন এডিটর যখন বলে ওঠেন; জমিদার যদি তাঁর ছোবল সঙ্কুচিত না করেন, প্রজাদের যতœ না নেন, তবে আমার পত্রিকা নীরব থাকবে না। সেই এডিটর তখন আর কেবল এডিটর থাকেন না। মানুষের কাতারে নেমে তিনি সেইসব মানুষেরই একজন হয়ে যান। এ নাট্যের সকল ঘটনাবলীই সত্যনির্ভর। সেইসব ঘটনাকে শব্দ, নিঃশব্দ ও সংলাপে মূর্ত করা হয়েছে। নাটকটি উপস্থাপনার ক্ষেত্রে যে মঞ্চসজ্জা ব্যবহৃত হয়েছে তা বাস্তবতা বা ইতিহাসকে আশ্রয় করে নির্মিত হয়নি, কারণ সেই সময়কে প্রকৃতরূপে মঞ্চে স্থাপন যেমন দুরূহ তেমনি ব্যয়বহুল। ফলে আবহ তৈরীতে ইঙ্গিতবহ মঞ্চনির্মাণ করা হয়েছে। পোশাক পরিকল্পনার ক্ষেত্রে একটা সাধারণীকরণ মাপকাঠি মেনে চলা হয়েছে। যে ধরণের পরিধানে একজন কৃষককে বা জমিদারকে, ইংরেজ সাহেবকে আঁচ করে নেওয়া যায় সে ধরণের পরিচ্ছদেই সজ্জিত হবেন এডিটর মহাশয়ের অভিনয়শিল্পীরা। এডিটর মহাশয় বোধন থিয়েটারের ২৮তম প্রযোজনা। যাঁরা এই নাটকে অভিনয় করেছেন, যাঁরা মঞ্চ, আলো, সংগীত, পোশাক, প্রপস ও পোস্টার পরিকল্পনা করেছেন তাঁদের প্রতি অশেষ কৃতজ্ঞতাসহ বোধনের প্রাণ-প্রতিক আমিরুল ইসলাম ও তাঁর সহযোগীদের প্রতিও সীমাহীন কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন মাসুম রেজা। তিনি আরো উল্লেখ করেছেন, বোধন আমার নিজের দল আমি এর প্রতিষ্ঠাতা সদস্য। নিজের দলে, নিজের লেখা নাটকের নির্দেশনা দিতে পারার আনন্দে আমি উল্লসিত। ইতিহাসে এমন সাক্ষ্য নেই যে কাঙালের সাথে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সাক্ষাত হয়েছিলো, এমন সাক্ষ্যও নেই যে তাঁদের সাক্ষাত হয়নি। ফলে আমি এ নাট্যের অন্তে রবিঠাকুরের সাথে কাঙালের কল্পিত কথপোকথন দেখিয়েছি। ইতিহাসে কল্পনার স্থান না থাকলেও সাহিত্যে তা সিদ্ধ। কোন অভিপ্রায়ে আমি তা করেছি তা এ নাট্য দর্শনে বোধগম্য হবে। এ নাটকে অভিনয় করেছেন, কাঙাল : আনোয়ার বাবু, স্বর্ণময়ী : নৌশিন নাওয়ার মাসুদ পৃথিবী, জলধর: কৌশিক আহমেদ শাওন, দয়াল : শহিদুর রহমান রবি, অক্ষয় : মোঃ ফাহিম হাসান, গোবিন্দ : সাঈম আহমেদ, কৈলাস : রিজভী উদ্দিন এস.আই : শাহেদ সরোওয়ার্দী, কনস্টেবল : কৌশিক শাওন, কৃষক : মোঃ ফাহিম হাসান, মুন্সেফ : শহিদুর রহমান রবি, উকিল : আনিসুর রহমান, টেলার : সাইমুম কাতিব, দ্বিজ বাবু : আমিরুল ইসলাম, নায়েব: শাহীন সরকার, লালন : মীর আতিক আহমেদ, মশাররফ : মোহাম্মদ জুয়েল, শিক : শাহেদ সরোওয়ার্দী, ইশান রায়: আসলাম আলী, রবীন্দ্রনাথ : ওবাইদুর সৌরভ, রায়ত : শামীম চৌধুরী, সেলিম আহমেদ, কৌশিক শাওন, নান্টু আলম, সাঈম আহমেদ, রিজভী উদ্দিন, পাঞ্জাবী সেপাই: ফাহিম হাসান, শাহেদ সরোওয়ার্দী, কৌশিক শাওন, আনিসুর রহমান, সাঈম আহমেদ, রিজভী উদ্দিন। মেয়ের দল: আফরিন রহমান, শারমিন রহমান স্বর্ণা, নূর নায়লা হাসান আবৃত্তি, নাফিসা আনজুম অহনা, ছুম্মা হোসেন রিমঝিম।
নাটকে আবহ সঙ্গীত করেছেন: আশরাফুন নাহার, অয়ন চৌধুরী, অসীম কুমার নট্ট, মীর আতিক, পোশাক : দুলাল সাধু, ইমরুল কায়েস। কোরিওগ্রাফি : আশরাফুন নাহার, রূপসজ্জা: শাহীন সরকার, দুলাল সাধু, মঞ্চ পরিকল্পনা : শামীম সাগর৷ সেট ও পট নির্মাণ: শামীম চৌধুরী, ফাহিম হাসান, কৌশিক শাওন, মঞ্চ ও মহড়া ব্যবস্থাপক : শহীদুর রহমান রবি, প্রযোজনা ব্যবস্থাপক আসলাম আলী৷ প্রপস: ফাহিম হাসান, কৌশিক শাওন, পৃথিবী মাসুদ, সাঈম আহমেদ, আলো পরিকল্পনা : ফারুক খান টিটু, খন্দকার সাগর, প্রযোজনা অধিকর্তা : আমিরুল ইসলাম, অভ্যর্থনা : শাহনওয়াজ আনসারী মঞ্জু, কামরুজ্জামান পান্না, সুজন রহমান, আলম আরা জুঁই, অধ্যাপক নাসির উদ্দিন, মিলনায়তন ব্যবস্থাপনা : সুজন রহমান, কামরুজ্জামান পান্না, নাহার সরকার, অধ্যাপক নাসির উদ্দিন, সামিউর রহমান অনিক, সুলতানা, ইয়াসমিন ছবি, আলতাফুন নাহার দিপু, ফেরদৌসী বেগম, আছের আলী, ফারহানা মাসুদ বাঁধন, রোকসানা পারভীন, আসিফ রাহাত, আব্দুল্লাহ ও মুজিব শিপলু।

নিউজটি শেয়ার করুন..

Comments are closed.

পুরোনো খবর এখানে,তারিখ অনুযায়ী

© All rights reserved © 2024 dainikkushtia.net
Maintenance By DainikKushtia.net