July 18, 2026, 1:05 pm

দৈনিক কুষ্টিয়া অনলাইন/
দীর্ঘদিন ধরে লোকসানে থাকা এবং কয়েক বছর ধরে বিনিয়োগকারীদের কোনো লভ্যাংশ না দেওয়া পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত রেনউইক যজ্ঞেশ্বর অ্যান্ড কোম্পানি (বিডি) লিমিটেডের শেয়ারদর গত সপ্তাহে অস্বাভাবিকভাবে ২৭ দশমিক ৩২ শতাংশ বেড়েছে। এ বৃদ্ধির ফলে কোম্পানিটি ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সাপ্তাহিক দরবৃদ্ধির তালিকায় শীর্ষস্থান দখল করেছে।
ডিএসইর সাপ্তাহিক হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, সপ্তাহের শুরুতে কোম্পানিটির শেয়ারদর ছিল ৭৬৯ টাকা ৪০ পয়সা, যা সপ্তাহ শেষে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯৭৯ টাকা ৬০ পয়সায়।
তবে শেয়ারদরের এই উল্লম্ফনের বিপরীতে কোম্পানিটির আর্থিক ভিত্তি এখনো দুর্বল। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম নয় মাসে (জুলাই-মার্চ) কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি লোকসান (ইপিএস) হয়েছে ৭ টাকা ১৪ পয়সা, যদিও আগের বছরের একই সময়ে লোকসান ছিল ১৫ টাকা ৬১ পয়সা। অর্থাৎ লোকসান কমলেও প্রতিষ্ঠানটি এখনো লাভের ধারায় ফিরতে পারেনি।
চলতি হিসাব বছরের ৩১ মার্চ পর্যন্ত কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি নিট দায় (Net Asset Value per Share) দাঁড়িয়েছে ঋণাত্মক ১১২ টাকা ৭৩ পয়সা, যা কোম্পানিটির আর্থিক অবস্থার দুর্বলতাকেই নির্দেশ করে।
রেনউইক যজ্ঞেশ্বর টানা কয়েক বছর ধরেই শেয়ারহোল্ডারদের কোনো লভ্যাংশ দিচ্ছে না। ২০২৪-২৫ অর্থবছরেও পরিচালনা পর্ষদ কোনো লভ্যাংশ ঘোষণা করেনি। ওই বছরে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি লোকসান ছিল ৭ টাকা ৭৬ পয়সা এবং শেয়ারপ্রতি নিট দায় ছিল ১০৫ টাকা ৫৯ পয়সা।
এর আগের ২০২৩-২৪, ২০২২-২৩, ২০২১-২২, ২০২০-২১, ২০১৯-২০ এবং ২০১৮-১৯—প্রতিটি অর্থবছরেই কোম্পানিটি বিনিয়োগকারীদের লভ্যাংশ দিতে ব্যর্থ হয়েছে। যদিও ২০১৪-১৫ থেকে ২০১৭-১৮ পর্যন্ত টানা চার বছর ১২ শতাংশ করে নগদ লভ্যাংশ দিয়েছিল প্রতিষ্ঠানটি।
১৯৮৯ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত রেনউইক যজ্ঞেশ্বরের অনুমোদিত মূলধন ২০ কোটি টাকা এবং পরিশোধিত মূলধন ২ কোটি টাকা। কোম্পানিটির পুঞ্জীভূত লোকসান বর্তমানে ২৩ কোটি ১২ লাখ টাকা। মোট ২০ লাখ শেয়ারের মধ্যে ৫১ শতাংশ সরকারের, ১৪ দশমিক ৫০ শতাংশ প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের এবং ৩৪ দশমিক ৫০ শতাংশ সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, টানা লোকসান, ঋণাত্মক নিট সম্পদ এবং দীর্ঘদিন লভ্যাংশ না দেওয়া সত্ত্বেও কোম্পানিটির শেয়ারদরের এমন ঊর্ধ্বগতি বিনিয়োগকারীদের জন্য ঝুঁকির ইঙ্গিত বহন করতে পারে। তাই এ ধরনের শেয়ারে বিনিয়োগের আগে কোম্পানির মৌলভিত্তি (Fundamentals) ও আর্থিক সক্ষমতা সতর্কতার সঙ্গে মূল্যায়নের পরামর্শ দিয়েছেন তারা।