October 2, 2026, 2:59 pm

দৈনিক কুষ্টিয়া অনলাইন/
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য ও ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের অধ্যাপক ড. এমতাজ হোসেন দৈনিক যুগান্তরে প্রকাশিত পরীক্ষার খাতা হারানোসংক্রান্ত একটি সংবাদকে অসত্য ও বিভ্রান্তিকর দাবি করে প্রতিবাদ জানিয়েছেন। গত ৩০ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত ‘পরীক্ষার খাতা হারিয়ে ফেলেছেন উপ-উপাচার্য’ শিরোনামের সংবাদটির বিষয়ে তিনি দুঃখ প্রকাশ করে সংশ্লিষ্ট তথ্য যাচাইয়ের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটনের আহ্বান জানিয়েছেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দফতর থেকে এ সংক্রান্ত একটি প্রতিবাদ পাঠানো হয়েছে।
প্রতিবাদলিপিতে অধ্যাপক এমতাজ হোসেন দাবি করেন, সংবাদে উল্লিখিত ২১০৭ নম্বর কোর্সের কোনো পরীক্ষার খাতা বা উত্তরপত্রের বান্ডিল তিনি গ্রহণ করেননি। ফলে তাঁর কাছে হস্তান্তর করা হয়নি—এমন খাতা হারানোর অভিযোগ তাঁর বিরুদ্ধে তোলার সুযোগ নেই বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি আরও দাবি করেন, সংবাদে বিভাগের কর্মচারীর বক্তব্যের ভিত্তিতে তার ওপর দায় চাপানোর চেষ্টা করা হয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট পরীক্ষা কমিটির আহ্বায়ক ড. শাহাবুল আলম সংবাদে বলেছেন, তিনি (উপ-উপাচার্য) খাতা পাননি এবং পিয়নরা কী করেছেন, তা তিনি বলতে পারবেন না। এ বক্তব্যের পরও তাঁকে খাতা হারানোর জন্য দায়ী করে শিরোনাম প্রকাশ করায় প্রতিবাদ জানিয়েছেন তিনি।
অধ্যাপক এমতাজ হোসেনের অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট পরীক্ষা কমিটির অভ্যন্তরীণ প্রক্রিয়া এবং বিভাগীয় দপ্তর থেকে উত্তরপত্র হস্তান্তরের বিষয়টি যথাযথভাবে যাচাই না করেই সংবাদটি প্রকাশ করা হয়েছে। এতে তাঁর ব্যক্তিগত মর্যাদার পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভাবমূর্তিও ক্ষুণ্ন হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
প্রতিবাদলিপিতে তিনি বলেন, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও সাংবাদিকদের অধিকার ক্ষুণ্ন করার পক্ষে তিনি নন। তবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য ও নথি যাচাই না করে কাউকে দায়ী করে সংবাদ প্রকাশ পেশাদার সাংবাদিকতার নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় বলে তিনি মনে করেন।
এ বিষয়ে কথা হলে প্রফেসর এমতাজ হোসেন দৈনিক কুষ্টিয়াকে প্রকৃত ঘটনা নির্ধারণে পরীক্ষার খাতা গ্রহণ ও হস্তান্তরের নথি, সংশ্লিষ্ট পরীক্ষা কমিটির কার্যক্রম এবং বিভাগীয় দপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের বক্তব্য যাচাই করা প্রয়োজন বলে জানান। তিনি বিষয়টি তদন্ত করে প্রকৃত তথ্য প্রকাশের অনুরোধ জানিয়েছেন।
তবে প্রকাশিত মূল সংবাদে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য, উত্তরপত্র হস্তান্তরের প্রক্রিয়া এবং এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের অবস্থান কী ছিল, তা স্বাধীনভাবে যাচাই করা জরুরি। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট বিভাগ, পরীক্ষা কমিটি ও সংবাদ প্রকাশকারী প্রতিষ্ঠানের বক্তব্য পাওয়া গেলে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ চিত্র স্পষ্ট হবে।