October 18, 2026, 6:37 pm

যন্ত্রপাতির নিরাপত্তা ও রক্ষণাবেক্ষণ নিয়ে প্রশ্ন, দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানের দাবি
হুমায়ুন কবির, খোকসা/
কুষ্টিয়ার খোকসায় একটি বেকারির গ্যাস চালিত ওভেন বিস্ফোরণে প্রধান মিস্ত্রির মৃত্যু এবং আরও দুই শ্রমিক দগ্ধ হওয়ার ঘটনায় কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বেকারিতে ২০ থেকে ২৫ জন কর্মচারী কাজ করার সময় কীভাবে ওভেনটি বিস্ফোরিত হলো, যন্ত্রটিতে কোনো যান্ত্রিক ত্রুটি ছিল কি না এবং নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ ও নিরাপত্তাব্যবস্থা যথাযথ ছিল কি না—তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
রোববার (১৮ অক্টোবর) দুপুর ২টার দিকে কুষ্টিয়ার খোকসা বাসস্ট্যান্ডের অদূরে রাজবাড়ী মহাসড়কসংলগ্ন মক্কা-মদিনা ফিলিং স্টেশনের পাশে মাঠপাড়ায় অবস্থিত মডার্ন বেকারিতে এ দুর্ঘটনা ঘটে। এতে গুরুতর দগ্ধ প্রধান মিস্ত্রি মিরাজ শেখ (৪০) কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। দগ্ধ অপর দুই শ্রমিক সজীব শেখ (২৭) ও বিল্লু শেখ (২২) একই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
নিহত মিরাজ শেখ খোকসার কমলাপুর মিয়াপাড়ার মৃত আসলাম শেখের ছেলে। আহত সজীব শেখ ওসমানপুর দেবীনগর গ্রামের আলমগীর শেখের ছেলে এবং বিল্লু শেখ হেলালপুর গ্রামের বাসিন্দা।
স্থানীয় ও হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, বেকারিতে কাজ চলার সময় হঠাৎ ওভেনটি বিকট শব্দে বিস্ফোরিত হয়। এতে এর আশপাশে থাকা তিন শ্রমিক মারাত্মকভাবে দগ্ধ হন। স্থানীয়রা তাঁদের উদ্ধার করে খোকসা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক সবুজ সায়েম তাঁদের উন্নত চিকিৎসার জন্য কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে পাঠান। পরে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মিরাজ শেখের মৃত্যু হয়।
তবে দুর্ঘটনার পর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হয়ে উঠেছে—ওভেনটি ঠিক কী কারণে বিস্ফোরিত হলো। যন্ত্রটির ধরন, ব্যবহারবিধি, পরিচালনার সময়কার অবস্থা, রক্ষণাবেক্ষণের ইতিহাস এবং বেকারির অগ্নি ও কর্মক্ষেত্রের নিরাপত্তাব্যবস্থা যাচাই না করে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ নির্ধারণ করা সম্ভব নয়। পাশাপাশি, কর্মীদের জন্য পর্যাপ্ত নিরাপত্তাব্যবস্থা ছিল কি না এবং জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি রাখা হয়েছিল কি না, তাও তদন্তের আওতায় আনা প্রয়োজন।
বেকারির মালিক হাজী মতিন দুর্ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন। তাঁর ছেলে মিজানুর রহমানের তত্ত্বাবধানে বেকারিটি পরিচালিত হয়ে আসছিল। মালিকপক্ষের প্রতিনিধি মিজানুর রহমান জানান, আহত দুই শ্রমিক কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এ ঘটনায় একজন শ্রমিকের মৃত্যু এবং দুজনের গুরুতর দগ্ধ হওয়ার পাশাপাশি কর্মস্থলে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়টি সামনে এসেছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে ওভেন ও সংশ্লিষ্ট যন্ত্রপাতি পরীক্ষা, দুর্ঘটনার কারণ নিরূপণ এবং নিরাপত্তাব্যবস্থায় কোনো অবহেলা বা ত্রুটি ছিল কি না, তা তদন্ত করে দেখা জরুরি। তদন্তে ত্রুটি বা অবহেলার প্রমাণ মিললে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।