July 28, 2026, 6:37 pm

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত দৈনিক কুষ্টিয়া অনলাইন পোর্টাল
সংবাদ শিরোনাম :
আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব নিলেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন প্রো-ভিসি ও ট্রেজারার নিয়োগের অধিকার বনাম জনগণের প্রত্যাশা /সমন্বয় সাধনই সর্বোত্তম পন্থা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন উপ- উপাচার্য ও ট্রেজারার, বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের অভিনন্দন পদ্মা সেতুতে ইলেকট্রনিক টোল আদায় ১০ কোটি টাকা ছাড়াল, বাড়ছে প্রযুক্তিনির্ভর সেবা গাংনী বাসস্ট্যান্ডে বোমা সদৃশ বস্তু উদ্ধার, এলাকায় আতঙ্ক অদম্য ইচ্ছাশক্তিকে পুঁজি করে এগিয়ে যাচ্ছেন কুষ্টিয়ার নারী উদ্যোক্তারা ইউনুসের ৭ হাজার নতুন মাল্টিমিলিয়নেয়ার হিসাব, নৈতিক রাষ্ট্রের প্রতিশ্রুতি এবং ক্ষমতার সমাজতত্ত্ব স্থানীয় সরকার নির্বাচন/গণতন্ত্রের নতুন পরীক্ষা চলমান প্রকল্পের কাজ সরকারি বিধি অনুসারে নির্দিষ্ট সময়ে শেষ করতে হবে: ইবি উপাচার্য রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ/ নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত দায়িত্বে স্পিকার

কুষ্টিয়ার বাদামখেতে মিললো ভয়ংকর ‘রাসেল ভাইপার’,

দৈনিক কুষ্টিয়া প্রতিবেদক/

কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে একটি বাদামক্ষেতে প্রথমবারের মতো বিশ্বের সবচেয়ে বিষধর ‘রাসেল ভাইপার’ সাপ দেখা গেছে। স্থানীয় কৃষকরা সেটিকে পিটিয়ে মেরে পুড়িয়ে ফেলেছে। মঙ্গলবার সকালে ওই উপজেলার চিলমারী ইউনিয়নের চরবাজুমারা গ্রামে এ ঘটনা ঘটেছে।

 

স্থানীয়রা জানায়, কৃষক আবু হক পদ্মার চরে নিজ জমিতে বাদাম তুলতে যান। এক পর্যায়ে বাদাম গাছের ভেতর থেকে বের হয় একটি ‘রাসেল ভাইপার’ সাপ। সেটি পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে পাশের জমির কৃষক সাইফুল ইসলামসহ চারজন ছুটে এসে সাপটিকে পিটিয়ে মারে। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়রা ভিড় করে। পরে সাপটি পুড়িয়ে ফেলা হয়।

 

 

চিলমারী ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার শরিফুল ইসলাম সোহাগ জানান, সাপটি প্রায় সাড়ে ৩ ফুট লম্বা। প্রথমে কৃষকরা ধারণা করেছিল- অচেনা কোনো বিষধর সাপ। পরে ছবি তুলে গুগলে সার্চ করে জানা গেছে- সেটি বিশ্বের অন্যতম বিষধর সাপ ‘রাসেল ভাইপার’। সাপটির ছবি ফেসবুকে পোস্ট করার পর অনেকেই এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

 

 

জানা গেছে, ‘রাসেল ভাইপার’ সাপটি ‘চন্দ্রবোড়া’ বা ‘উলুবোড়া’ নামেও পরিচিত। এর বৈজ্ঞানিক নাম Daboia russelii। এটি অনেক বিষধর। এটি ভারত, চীন, থাইল্যান্ডসহ এশিয়ার কয়েকটি দেশে আছে। দেশের উত্তরাঞ্চল ও দক্ষিণাঞ্চলের কয়েকটি জেলায় ‘রাসেল ভাইপারের’ অস্তিত্ব মিললেও কুষ্টিয়ায় এবারই প্রথম।

 

 

অজগরের মতো এটি ধূসর এবং কালো ছোপওয়ালা সাপটির অন্যতম বৈশিষ্ট্য- এটি ডিম দেয় না, সরাসরি বাচ্চা দেয়। এরা একসঙ্গে ৬০-৮০টি বাচ্চা দিতে পারে। বিলুপ্তপ্রায় এ ‘রাসেল ভাইপার’ খুবই বিষাক্ত এবং ভয়ংকর। এটি দংশন করলে দ্রুত মানুষের শরীরে রক্ত জমাট বেঁধে যায়। পর্যাপ্ত চিকিৎসার জন্য সময় পাওয়া যায় না বলে অল্প সময়ে হৃদপিণ্ড অকার্যকর হয়ে মৃত্যু হয়।

 

 

বিভাগীয় বন কর্মকর্তা ছালেহ মো. শোয়াইব খান জানান, তারা ‘রাসেল ভাইপারের’ কোনো খবর পাননি। পেলে সাপটিকে উদ্ধারের চেষ্টা করতেন। এ জেলায় আগে কখনো ‘রাসেল ভাইপার’ সাপের দেখা মেলেনি।

 

 

বন্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, আইইউসিএন’র ২০১৫ সালের লাল তালিকা অনুযায়ী ‘রাসেল ভাইপার’ সংকটাপন্ন প্রাণীর তালিকায় রয়েছে। এটি ইঁদুর ও টিকিটিকি খায়। খাবারের খোঁজে ‘রাসেল ভাইপার’ অনেক সময় লোকালয়ে চলে আসে এবং মানুষকে দেখে আতঙ্কিত হয়ে কখনো কখনো আক্রমণ করে বসে।

 

 

আরো জানা গেছে, বিষের তীব্রতার দিক দিয়ে ‘রাসেল ভাইপার’ বিশ্বে পঞ্চম। এটি এক সেকেন্ডের ১৬ ভাগের এক ভাগ সময়ে কাউকে কামড়ে বিষ ঢালতে পারে। কামড়ের ক্ষিপ্রতার দিক দিয়ে ‘রাসেল ভাইপার’ প্রথম। এছাড়া এ সাপের বিষ দাঁত বিশ্বে দ্বিতীয় সর্ববৃহৎ। এই সাপের বিষে ‘হেমোটক্সিন’ হওয়ায় মাংস পচেই আক্রান্ত ব্যক্তির মৃত্যু হয়।

নিউজটি শেয়ার করুন..

Comments are closed.

পুরোনো খবর এখানে,তারিখ অনুযায়ী

© All rights reserved © 2024 dainikkushtia.net
Maintenance By DainikKushtia.net