November 1, 2026, 1:29 am

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত দৈনিক কুষ্টিয়া অনলাইন পোর্টাল
সংবাদ শিরোনাম :
ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা গড়ে তুলতে সম্মিলিত সামাজিক জোটের মানবিক উদ্যোগে জেলা প্রশাসকের সন্তোষ প্রকাশ সম্মিলিত সামাজিক জোটের উদ্যোগে ডেঙ্গু সচেতনতায় ক্যাম্পেইন পাবনায় বজ্রপাতে ৬ জনের মৃত্যু, আহত ৩ রেল নিয়ে কথিত যশোর অঞ্চলের ছয় দফা আঞ্চলিক ভারসাম্যহীন, পদ্মা সেতুর সুবিধা কি শুধু যশোরের জন্য? রূপপুরের দ্বিতীয় ইউনিটে পারমাণবিক জ্বালানি সরবরাহ শুরু কুষ্টিয়ায় ডেঙ্গু সচেতনতায় সম্মিলিত সামাজিক জোট ও ডা. মানিকের যুগপৎ উদ্যোগ মহেশপুর সীমান্তে তিন ভারতীয় নাগরিকসহ আটক ৮ কুষ্টিয়ায় ছয় হত্যা: হানিফের মৃত্যুদণ্ড, তিন নেতার আমৃত্যু কারাদণ্ড ঢাকা মেট্রোরেল লাইন-১-এর দুটি প্যাকেজ পেল ভারতীয় এলঅ্যান্ডটি পদ্মার চরে কাকন-কালু পক্ষের গোলাগুলি, শতাধিক গুলির শব্দ শোনার দাবি

কাজ হারিয়ে মানসিক চাপে আত্মহত্যা করল শারীরিক অসুস্থ নারী

দৈনিক কুষ্টিয়া প্রতিবেদক/
কুষ্টিয়ার কুমারখালীর যদুবয়রায় জন্মগত অসুস্থ রত্না খাতুন (২৬) জীবন যুদ্ধে পরাজিত হয়ে আত্মহত্যা করেছেন। আজ সোমবার সকালে নিজ ঘর থেকে ঝুলন্ত অবস্থায় তার লাশ উদ্ধার করেন পরিবারের সদস্যরা। নিজের শারিরীক অসুস্থতার যন্ত্রণা, ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তা এবং সংসারে অভাব অনটনের কারনেই রত্না আত্মহত্যার পথ বেঁচে নিয়েছেন বলে ধারণা করেছেন পরিবারের সদস্যরা। কুমারখালী থানার ওসি তদন্ত মামুনুর রশিদ আত্বহত্যার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, রত্নার লাশ ময়না তদন্তের জন্য কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে পাঠিয়েছেন।
হাসপাতালের মর্গের সামনে কথা হয় সংগ্রামী এ নারীর চাচা আফাজ উদ্দিন এবং দাদী রাজিয়া খাতুনের সঙ্গে। তারা বলেন, রত্না খাতুনের জন্মগতভাবে প্রসাব ও মল ত্যাগ এর লাইন এক ছিলো। এ নিয়ে যন্ত্রণায় কাতর থাকতো সে। ঢাকা পিজি হাসপাতালে অপারেশন করেও ভাল হয়নি। ডাক্তার তার প্রসাবের জন্য আলাদা লাইন করে পাইপের মাথায় প্লাস্টিকের থলে লাগিয়ে দেন- বলেন অপারেশনের সময় ঢাকায় সঙ্গে যাওয়া চাচা আফাজ উদ্দিন। এই প্রসাবের লাইনের কারনে গন্ধ আসতো। মেয়েটি মানুষের মধ্যে যেতে পারতো না, মিশতে পারতো না। ঢাকায় ঔষুধের উপর নির্ভর ছিল তার জীবন। জীবনে বিয়ের কথা ভাবতেই পারেনি। সে দর্জির কাজ করে তাদের সংসার চালাতো। তারপরও মাথা উচু করেই চলতে চাইতো। পরিবারের লোকজন তাকে প্রতিবন্ধী ভাতার কার্ড করার জন্য বললেও সে রাজি হতো না- বলেন দাদী রাজিয়া খাতুন। বেঁচে থাকতে চাননি কারো সাহায্য সহায়তা। তার বয়স যখন ১৭ বছর তখন শেখেন দর্জির কাজ। বাবা এবং মায়ের সংসার এবং নিজের ওষুধের টাকা মিলিয়ে মাসে তাকে আড়াই হাজার টাকা উপার্জন করতে হতো- বলেন মেয়েটির বাবা মফিজ উদ্দিন। কিন্তু করোনাকালে কাজ কম পাওয়ায় সংগ্রামী এই নারী বেশ প্রতিকূলতায় পড়েন। টাকার অভাবে ওষুধ খেতে না পেরে বেড়ে যায় শারিরীক যন্ত্রণা। নষ্ট হতে থাকে কিডনী। কাজ জোগাড় করার জন্য চেষ্টা করেও ফল পায়নি।  এ পরিস্থিতিতে রাতের কোন এক সময়ে নিজ ঘরের আড়ার সঙ্গে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন রত্না যদুবয়বা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শরিফুল আলম বলেন, অসুস্থতার কারনে শারিরিক কষ্ট সইতে না পেরে সে আত্মহত্যা করেছে। তবে, রত্নার সরকারি ভাতার কার্র্ড প্রক্রিয়াধীন আছে বলেছেন এ জনপ্রতিনিধি। তিনি নানাভাবে এই মেয়েকে সহায়তা করার কথাও বলেন।
রত্নাকে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন মানুষ বলে পরিবারের লোকজন দাবি করলেও বিশেষ চাহিদাসম্পন্নদের নিয়ে কাজ করা কর্তব্য ভলেন্টারি অর্গানাইজেশনের সদস্য সচিব ফেরদৌসী বেগম রুবি বলেন, রত্না বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন নন, তিনি শারিরীকভাবে অসুস্থ ছিলেন।

নিউজটি শেয়ার করুন..

Comments are closed.

পুরোনো খবর এখানে,তারিখ অনুযায়ী

© All rights reserved © 2024 dainikkushtia.net
Maintenance By DainikKushtia.net