October 27, 2026, 11:12 pm

নদী ও চর দখলকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের কথা জানাল পুলিশ
দৈনিক কুষ্টিয়া প্রতিবেদক /
পদ্মা নদীর কুষ্টিয়া ও পাবনা অংশের সীমান্তবর্তী চরাঞ্চলে আধিপত্য বিস্তার ও দখলকে কেন্দ্র করে কাকন ও কালু বাহিনীর মধ্যে গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। মঙ্গলবার দুপুর ২টার দিকে পদ্মা-গড়াইয়ের মোহনা ও পাবনার ঈশ্বরদীর ডিগ্রির চরের কলাবাগান এলাকায় এ গোলাগুলি শুরু হয় বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
স্থানীয় নৌকার মাঝি ও প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত দফায় দফায় গুলির শব্দ শোনা গেছে। তাঁদের একজনের দাবি, এ সময় শতাধিক রাউন্ড গুলি ছোড়া হয়েছে। তবে ঠিক কত রাউন্ড গুলি ছোড়া হয়েছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করতে পারেনি পুলিশ।
রাজশাহী নৌ পুলিশ সুপার মোহাম্মদ বিল্লাল হোসেন দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে বলে তাঁরা খবর পেয়েছেন। ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে এবং ঈশ্বরদী থানার পুলিশও সেখানে রয়েছে। তিনি বলেন, “ঘটনা ঘটেছে, দ্যাট ইজ ট্রু।”
পুলিশ ও স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, পদ্মার কুষ্টিয়া অংশের পদ্মা-গড়াইয়ের মোহনা এলাকায় কাকন বাহিনী এবং পাবনার ঈশ্বরদীর ডিগ্রির চরের কলাবাগান এলাকায় কালু বাহিনীর অবস্থান ছিল। সেখান থেকেই দুই পক্ষের মধ্যে গুলি বিনিময়ের ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
স্থানীয় নৌকার মাঝি নয়ন বলেন, কাকন বাহিনীর লোকজন প্রথমে একটি ট্রলারে করে এসে গোলাগুলি শুরু করেন। বিকেল ৪টার দিকে আরও দুটি নৌকা সেখানে যায়। দুপুর ২টার পর থেকে কিছুক্ষণ পরপর গুলির শব্দ শোনা গেছে বলে দাবি করেন তিনি।
তবে গোলাগুলিতে কেউ হতাহত হয়েছেন কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। এ ছাড়া কোনো পক্ষ থেকে কী কারণে বা ঠিক কী নিয়ে গোলাগুলি শুরু হয়েছে, সে বিষয়েও পুলিশ আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কিছু জানায়নি।
সন্ধ্যা ৬টা ৪০ মিনিটের দিকে সর্বশেষ পরিস্থিতি জানতে চাইলে নৌ পুলিশ সুপার মোহাম্মদ বিল্লাল হোসেন বলেন, সন্ধ্যার পর আর তেমন কোনো সংঘর্ষের খবর পাওয়া যায়নি। কলাবাগান পর্যন্ত নৌ পুলিশ ও জেলা পুলিশের সদস্যরা অবস্থান নিয়েছিলেন। পরে তাঁরা আর কোনো গোলাগুলির শব্দ শুনতে পাননি।
পুলিশের এই কর্মকর্তা জানান, একটি পক্ষ কলাবাগান এলাকায় এবং অন্য পক্ষ নদীর দিকে অবস্থান করছিল। সন্ধ্যার পর ঘটনাস্থলে থাকা পুলিশ সদস্যরা নতুন করে কোনো গোলাগুলি বা সংঘর্ষের ঘটনা দেখতে বা শুনতে পাননি।
পদ্মার চরে দীর্ঘদিনের সংঘাত///
পদ্মার কুষ্টিয়া, পাবনা, রাজশাহী ও নাটোর অংশের দুর্গম চরাঞ্চলে আধিপত্য ও বালুমহাল নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে একাধিক সশস্ত্র গ্রুপের সংঘাতের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। বিভিন্ন সময়ে প্রকাশিত সংবাদে কাকন বাহিনীসহ একাধিক বাহিনীর নাম উঠে এসেছে। এসব ঘটনায় গুলি, হত্যা, জমি ও চর দখল এবং বালু উত্তোলন নিয়ন্ত্রণের অভিযোগও এসেছে।
গত বছর কুষ্টিয়ার দৌলতপুর, রাজশাহীর বাঘা ও নাটোরের লালপুরের সীমান্তবর্তী পদ্মার চরে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে গোলাগুলিতে কয়েকজন নিহত হওয়ার ঘটনাও ঘটে। ওই ঘটনার পর কাকন বাহিনীর বিরুদ্ধে মামলা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযান পরিচালনার খবর প্রকাশিত হয়।
এরপর পদ্মার চরাঞ্চলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিশেষ অভিযানও চালানো হয়। ২০২৫ সালের নভেম্বরে ‘অপারেশন ফার্স্ট লাইট’ নামে পরিচালিত অভিযানে কাকন বাহিনীর ২১ সদস্যকে গ্রেপ্তারের কথা জানিয়েছিল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
তবে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, অভিযানের পরও পদ্মার দুর্গম চরাঞ্চলে একাধিক সশস্ত্র গ্রুপের তৎপরতা পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। চলতি বছরেও কাকন বাহিনীসহ বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে গোলাগুলি ও আধিপত্য বিস্তারের অভিযোগে একাধিক ঘটনা সংবাদে এসেছে।
আজকের গোলাগুলির ঘটনাও সেই দীর্ঘদিনের আধিপত্যের সংঘাতের ধারাবাহিকতা কি না, তা তদন্তের পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে।
এদিকে, সন্ধ্যার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে নদী ও চরাঞ্চলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা অবস্থান করছেন বলে জানিয়েছেন নৌ পুলিশ সুপার।
।