March 11, 2026, 10:25 am

দৈনিক কুষ্টিয়া অনলাইন/
নতুন বাংলাদেশ গঠনের অঙ্গীকার সামনে রেখে বহুল প্রতীক্ষিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন।
২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি সারাদেশের ৩০০ আসনে একযোগে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। একই দিনে জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নে গণভোট গ্রহণ করা হবে। ভোট চলবে সকাল ৭টা ৩০ মিনিট থেকে বিকাল ৪টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত।
তফসিল ঘোষণা/
বৃহস্পতিবার (১১ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এএমএম নাসির উদ্দিন নির্বাচনের দিনক্ষণ, মনোনয়ন জমা, বাছাই, আপিল ও প্রচারণা–সংক্রান্ত পূর্ণাঙ্গ সূচি ঘোষণা করেন।
ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী—
মনোনয়নপত্র জমা: ১২–২৯ ডিসেম্বর
মনোনয়নপত্র বাছাই: ৩০ ডিসেম্বর–৪ জানুয়ারি
আপিল দাখিল: ১১ জানুয়ারি
আপিল নিষ্পত্তি: ১২–১৮ জানুয়ারি
প্রার্থিতা প্রত্যাহার: ২০ জানুয়ারি
চূড়ান্ত তালিকা ও প্রতীক বরাদ্দ: ২১ জানুয়ারি
প্রচার শুরু: ২২ জানুয়ারি
প্রচার শেষ: ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল ৭:৩০
ভোটার সংখ্যা/
এবার মোট ভোটার ১২ কোটি ৭৬ লাখ ৯৫ হাজার ১৮৩ জন।
এর মধ্যে—
পুরুষ: ৬ কোটি ৪৮ লাখ ১৪ হাজার ৯০৭
নারী: ৬ কোটি ২৮ লাখ ৭৯ হাজার ৪২
তৃতীয় লিঙ্গ: ১,২৩৪ জন
৩১ অক্টোবর পর্যন্ত যাদের বয়স ১৮ পেরিয়েছে, তাদের অন্তর্ভুক্ত করেই চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রস্তুত করেছে কমিশন।
নির্বাচনী প্রেক্ষাপট/
প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস প্রথমে ২০২৬ সালের এপ্রিলের প্রথমার্ধে নির্বাচন হওয়ার কথা জানিয়েছিলেন। পরে লন্ডনে তার সঙ্গে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বৈঠকে নির্বাচনের সময় এগিয়ে আনার বিষয়ে সম্মতি হয়। সেই অনুযায়ী ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধকে ঘিরে তফসিল ঘোষণার প্রস্তুতি নেয় সরকার ও নির্বাচন কমিশন।
গত ১৩ নভেম্বর প্রধান উপদেষ্টা ঘোষণা করেন—জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট একই দিনে অনুষ্ঠিত হবে, যা দেশের ইতিহাসে প্রথম। প্রায় ৩৪ বছর পর দেশে আবার গণভোট হতে যাচ্ছে।
পটভূমি/
ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটে। ৮ আগস্ট অন্তর্বর্তী সরকারের শপথ নেন অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। তাদের দায়িত্ব গ্রহণের ১৬ মাস পর ঘোষণা এলো জাতীয় নির্বাচনের তফসিল।
এরপর গত বছরের ২১ নভেম্বর এএমএম নাসির উদ্দিনের নেতৃত্বে নতুন নির্বাচন কমিশন গঠিত হয়। তাদের অধীনেই প্রথম জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।
নিরাপত্তা ও প্রস্তুতি/
এ নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সশস্ত্র বাহিনীসহ বিভিন্ন বাহিনীর প্রায় ৯ লাখ সদস্য মোতায়েন করা হবে—যা এ যাবৎকালের মধ্যে সর্বাধিক।
সুষ্ঠু নির্বাচন পরিচালনার জন্য দেড় লাখ পুলিশ সদস্যকে নির্বাচনি প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে, যা রেকর্ডসংখ্যক।