February 14, 2026, 1:23 pm

দৈনিক কুষ্টিয়া অনলাইন/
নির্বাচন-পরবর্তী ছুটি শেষে রাজধানীমুখী মানুষের চাপ বাড়তেই যেন স্থবির হয়ে পড়েছে পাটুরিয়া ঘাট–এর স্বাভাবিক যাতায়াত ব্যবস্থা। সহস্রাধিক যাত্রী ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও গাড়ি পাচ্ছেন না; উল্টো দ্বিগুণ-তিনগুণ ভাড়া গুনেও নিশ্চিত হচ্ছে না গন্তব্যে ফেরার পথ। ফলে নদী পেরিয়ে রাজধানীতে ফেরা সাধারণ মানুষের জন্য এই ঘাট এখন ভোগান্তি, অনিশ্চয়তা ও ক্ষোভের এক বাস্তব প্রতিচ্ছবি হয়ে উঠেছে।
শুক্রবার রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ঘাট এলাকায় মানুষের ভিড় আরও ঘন হতে থাকে। দূরদূরান্ত থেকে আসা নারী, শিশু ও বয়স্ক যাত্রীরা খোলা আকাশের নিচে দাঁড়িয়ে বা বসে অপেক্ষা করছেন কোনো একটি গাড়ির আশায়। কেউ দুপুরে এসে রাতেও ফিরতে পারেননি, আবার কেউ বাড়তি ভাড়া দিতে রাজি হয়েও পরিবহন না পেয়ে হতাশ হয়ে পড়েছেন। যাত্রীদের অভিযোগ, স্বাভাবিক সময়ে যে ভাড়া ২০০ টাকার মধ্যে থাকে, সেটিই বেড়ে ৪০০ থেকে ৬০০ টাকা পর্যন্ত চাওয়া হচ্ছে; তবুও গাড়ির নিশ্চয়তা নেই।
এই পরিস্থিতিতে ক্ষোভ জমছে সাধারণ মানুষের মধ্যে। অনেকের ভাষ্য, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে গ্রামে যাওয়া মানুষের ঢল যে ফেরার সময় চাপ তৈরি করবে, তা আগেই অনুমেয় ছিল। কিন্তু সেই চাপ সামাল দিতে দৃশ্যমান কোনো প্রস্তুতি ছিল না সংশ্লিষ্টদের। ফলে পরিকল্পনার ঘাটতি ও সমন্বয়হীনতার দায় শেষ পর্যন্ত এসে পড়েছে যাত্রীদের কাঁধেই—সময় নষ্ট, অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় এবং মানসিক ভোগান্তির মাধ্যমে।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার আশ্বাস মিললেও মাঠপর্যায়ে তার তৎক্ষণাৎ প্রতিফলন দেখা যায়নি। হাইওয়ে পুলিশের জনবল সংকট, থানা পুলিশের ঘটনাস্থলে যাওয়ার প্রস্তুতি এবং অতিরিক্ত ভাড়া নিলে ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা—এসব বক্তব্য যাত্রীদের তাৎক্ষণিক দুর্ভোগ কমাতে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারেনি। বরং দীর্ঘ অপেক্ষায় ক্লান্ত মানুষের কাছে এসব প্রতিক্রিয়া আরও হতাশার জন্ম দিয়েছে।
স্থানীয়দের মতে, উৎসব, ঈদ বা বড় রাজনৈতিক ঘটনার পর এই ঘাটে একই ধরনের বিশৃঙ্খলা নতুন কিছু নয়। তবুও প্রতি বছর একই সমস্যার পুনরাবৃত্তি দেখায় যে স্থায়ী সমাধানের উদ্যোগ এখনো দুর্বল। পরিবহন সমন্বয়ের অভাব, ভাড়া নিয়ন্ত্রণে কার্যকর নজরদারির ঘাটতি এবং জরুরি পরিস্থিতিতে বিকল্প ব্যবস্থার অনুপস্থিতি—সব মিলিয়ে সামগ্রিক ব্যবস্থাপনাই প্রশ্নের মুখে পড়ছে।
রাত গভীর হলেও অনেক যাত্রীর চোখে ঘুম নেই; আছে কেবল অনিশ্চয়তা। কখন গাড়ি মিলবে, কখন ঘরে ফেরা যাবে—এই অপেক্ষাই যেন তাদের একমাত্র বাস্তবতা। নদীর ঘাটের বাতাসে তাই ভেসে বেড়াচ্ছে ক্লান্তি, ক্ষোভ ও দীর্ঘশ্বাসের মিশ্র অনুভূতি। আর এই দৃশ্য মনে করিয়ে দেয়, পরিকল্পনা ও জবাবদিহির ঘাটতি থাকলে একটি গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগকেন্দ্র মুহূর্তেই কীভাবে জনদুর্ভোগের প্রতীকে পরিণত হতে পারে।